অথই নীড়-এর দুটি কবিতা

শিল্প-সাহিত্য ডেস্ক
২২ জুলাই ২০১৮, রবিবার
প্রকাশিত: ১০:৩৯

অথই নীড়-এর দুটি কবিতা

১.
চশমার কাঁচে আমার বৃষ্টি জমে থাকে। জীবনের মায়ায়, মেঘের উঠোনে, সিঁড়ির শরীরে, ভেজা মাটির গন্ধে আর যে বৃষ্টি হতে পারি না। সময়ের ডানায় ঘুণ ধরে গেছে। জোনাকির পিছু-পিছু আমিও অন্ধকার ভাসাই, ঘুঘু পাখির রঙে জীবনের উৎসব।
সন্ধ্যার ঝুম বৃষ্টিতে ঘুমিয়ে থাকে মায়ের গানের খাতা। পাশ ফিরে থাকে সারাজীবন থালা-বাসনে ব্যবহৃত আঙুল। আমার জন্মক্ষণ নিয়ে আষাঢ়ের ভোর আসে। বলে যায় দেয়ালের গায়ে কতো আর নিজেকে লুকোবে। যে জীবন যায় আর ফিরে আসে না মেয়ে।
বাবার কুমড়ো বাগানে ফুল ধরেছে। পরপারে বসেও ইতিহাসের গল্প বলেন আমাদের তাতশ্রী। কুমড়ো পাতায় লিখেন সংসার।
কোনো-কোনো আষাঢ়ের সন্ধ্যায় এভাবেই অঝোরে বৃষ্টি নামবে, আমি থাকবো না। কোথাও থাকবো না আর। জীবনের প্রতি সত্যিই মায়া পড়ে থাকে।

২.
ক্ষয়ে যায় স্মৃতির ফসিল, প্রিয় নেলপলিশ, কালো টিপ।
কথার ভিড়ে নদী হয়ে যাই।
আমের আচারে, নীল চশমার ফ্রেমে আমার বড় হয়ে উঠা।
দূরত্ব ছুঁড়ে দিলে কার সাধ্য গল্প লিখে। চোখের ছায়ায় নিঝুম দুপুর, মায়ের গান, টিনের চালে ঘুঘু দম্পতি।
রূপকথার শহরে অন্ধকার নামে, বহুবছর মাটি-জলে-বৃষ্টিতে দূরে চলে গেছে কেউ।
কথার ভিড়ে, ঝি-ঝিঁর জলসায়
আজো তো নদী হয়ে যাই।

ব্রেকিংনিউজ/এমআর

bnbd-ads
bnbd-ads