মাদকাসক্ত-বিবাহিতদের দিয়ে নাজিরপুর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটি গঠনের অভিযোগ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৮ মে ২০১৯, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: ০৪:৫৮ আপডেট: ০৪:৫৯

মাদকাসক্ত-বিবাহিতদের দিয়ে নাজিরপুর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটি গঠনের অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত

সম্প্রতি পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটির বিরুদ্ধে মাদকাসক্ত, বিবাহিত, অছাত্র ও ব্যবাসায়ীদের দিয়ে কমিটি গঠনের অভিযোগ উঠেছে। কমিটির আহ্বায়ক, যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদস্যদের নামে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র লঙ্ঘনেরও নানাবিধ অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন উপজেলার সাধারণ ছাত্রলীগের কর্মীরা। এসব কারণে নাজিরপুর উপজেলার মেধাবী তরুণ প্রজন্মের ছাত্রলীগের পতাকাতলে আসতে মনস্তাত্ত্বিক প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে এবং উপজেলার সদ্য সাবেক কমিটির একটি বৃহদাংশ যারা ইতোমধ্যে অর্নাস শেষ করেছেন তারা এই নেতৃত্বের প্রতি হতাশ।

গত শনিবার (১১ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো পিরোজপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জাহিদুল ইসলাম টিটু ও সাধারণ সম্পাদক অনিক স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মো. তরিকুল ইসলাম (তাপস) চৌধুরীকে আহ্বায়ক ও শেখ মো. আল-আমিন, অভিজিৎ ওঝা, নাইম হাওলাদার, তারেক হাসান, মিজানুর শেখ, রক্তিম মজুমদার ও আশিষ হাওলাদারকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়।

কমিটির আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম (তাপস)। যার বয়স ২৭ বছর হলেও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্প্রতি এসএসসি পাস করেছেন। মূলত তিনি এর আগে নিয়মিত পড়াশোনায় যুক্ত ছিলেন না। শুধুমাত্র ছাত্রলীগের পোস্ট পাওয়ার জন্য বিশেষ ক্ষমতাবলে কোনো রকমভাবে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে নিজ গ্রাম শেখমাটিয়ায় গাঁজা ও ইয়াবা ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। 

তার একান্ত সহযোগী হিসেবে বদিউজ্জামান খান রাব্বিও বর্তমান কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছে। বদিউজ্জামান খান একাধিকবার স্থানীয়ভাবে ইয়াবা ব্যবসায়ের অভিযোগে শালিসপ্রাপ্ত এবং বর্তমানে ডিবির কাছে তার নামে ইয়াবা ব্যবসায়ী হিসেবে মামলা চলমান। এমনকি তার ইয়াবা সেবন ও মাদকাসক্ত হওয়ার ভিডিও ফেসবুকে প্রকাশ পেয়েছে। 

কমিটির ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ মোহাম্মদ আলামিন। তিনি নাজিরপুর উপজেলার একজন নিয়মিত ঠিকাদার এবং একটি মেয়ের সাথে আপত্তিকর ছবিসহ নানা অপকর্ম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। ২নং যুগ্ম আহ্বায়ক অভিজিৎ ওঝার গাঁজা তৈরির একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। 

এদিকে এই আহ্বায়ক কমিটিতে যাদেরকে ঠাই দেয়া হয়েছে তাদের অধিকাংশই এর আগে উপজেলার সক্রিয় রাজনীতিতে সম্পৃক্ত ছিলেন না। উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন, চারটি কলেজ শাখা ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রলীগের সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মীরা ইতোমধ্যেই জেলা ছাত্রলীগের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করছেন এবং এ অবস্থার অনতিবিলম্বে অবসান না হলে তারা স্ব-স্ব অবস্থান থেকে পদত্যাগেরও ঘোষণা দিয়েছেন।

নাজিরপুর উপজেলা ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতরা দাবি করেন, যারা ১/১১ ও ৫ জানুয়ারি কিংবা সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল তাদের মূল্যায়ন করা হোক। বিশেষ করে পিরোজপুর ১-আসনের মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীও তার পুত্রকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে। একদিনের জন্যও তাকে নাজিরপুর উপজেলায় ঢুকতে দেয়া হয়নি এমন কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে যারা রাজপথে ছিল তাদের শ্রম, ত্যাগ, মেধা ও যোগ্যতার মূল্যায়ন করা হোক যাতে পরবর্তী সময়ের তরুণরা সত্যিকারে মুজিব আর্দশের শিক্ষা পায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পিরোজপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জাহিদুল ইসলাম টিটুর মোবাইলে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। 

ব্রেকিংনিউজ/টিটি/জেআই

bnbd-ads