ছাত্রলীগ থেকে ওবায়দুল কাদেরের উঠে আসার গল্প

রাহাত হুসাইন
২৫ জানুয়ারি ২০১৯, শুক্রবার
প্রকাশিত: ০৪:১৫ আপডেট: ০৭:০৭

ছাত্রলীগ থেকে ওবায়দুল কাদেরের উঠে আসার গল্প
ফাইল ছবি

ওবায়দুল কাদের বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক সফল রাজনীতিবিদের নাম। রাজনীতি করে যারা সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছেন, ওবায়দুল কাদের তাঁদেরই একজন। বর্তমানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন এই রাজনীতিক। রাজনীতির বাইরে এক সময় সাংবাদিকতা করতেন, লেখালেখি করেন এখনো। 

ওবায়দুল কাদের ১৯৫০ সালের ১ জানুয়ারি নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ থানার বড় রাজাপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বসুরহাট সরকারি এএইচসি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রথম বিভাগে এসএসসি ও নোয়াখালী সরকারি কলেজ থেকে মেধা তালিকায় স্থান নিয়ে এইচএসসি পাশ করেন তিনি। এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্সসহ স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন।

ওবায়দুল কাদের কলেজ জীবন থেকে ছাত্র রাজনীতি শুরু করেন। ১৯৬৬ সালে ৬ দফা আন্দোলন এবং ১৯৬৯ সালে গণ-অভ্যুত্থান ও ছাত্রদের ১১ দফা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তিনি ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন এবং কোম্পানীগঞ্জ থানা মুজিব বাহিনীর (বিএলএফ) অধিনায়ক ছিলেন। রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার কারাবরণ করেন ওবায়দুল কাদের।

স্বাধীনতার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ওবায়দুল কাদের ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে যুক্ত হন। পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা দমন-পীড়নের মুখে পড়েন। কারাবন্দি হন ওবায়দুল কাদের। ১৯৭৬ সালে কারাগার থেকেই ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৭৮ সালে ছাত্রলীগের সভাপতি পুনঃনির্বাচিত হন। ছাত্রজীবন শেষে আওয়ামী লীগে যোগ দেন ওবায়দুল কাদের। নব্বইয়ের দশকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ছিলেন সক্রিয়। 

১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে হেরে গেলেও রাজনীতিতে ছিলেন সরব। ১৯৯৬ সালে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নির্বাচিত হয়েই শেখ হাসিনার প্রথম মন্ত্রিসভায় ক্রীড়া, যুব ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি। ২০০০ সালে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে ঠাঁই পান। দলের সংস্কৃতি ও শিক্ষা সম্পাদক হন।

২০০২ সালের ২৬ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের ১৭তম সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় কারাবন্দি হয়ে ১৭ মাস ২৬ দিন কারাবরণ করেন। ওই সময়ে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর কারণে সমালোচিত হন। ২০০৮ সালের ৫ সেপ্টেম্বর তিনি জামিনে মুক্ত হন।

তিনি ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর পুনরায় দ্বিতীয়বারের মত নোয়াখালী-৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং তথ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। এরপর ২০০৮ সালের শেখ হাসিনার দ্বিতীয় মেয়াদের সরকারের শুরুর দিকে মন্ত্রিসভায় স্থান না পেলেও মেয়াদের মাঝামাঝি এসে যোগাযোগমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি।  

২০০৯ সালে ১৮তম কাউন্সিলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হন ওবায়দুল কাদের। ২০১২ সালের কাউন্সিলেও একই পদ পান। ২০১২ সালে যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে রেল মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন। 

এর পর ২০১৪ সালে শেখ হাসিনার তৃতীয় মেয়াদে সরকারে আবারও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান ওবায়দুল কাদের। ২০১৫ সালের দিকে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়কে ভেঙে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং রেল মন্ত্রণালয় নামে দুটি আলাদা মন্ত্রণালয় করা হলে তিনি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।

২০১৬ সালের ২৩ অক্টোবর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনে তিনি ২০১৬-১৯ মেয়াদে দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

সর্বশেষ ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী আওয়ামী লীগ যে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে, তাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রিসভায় চতুর্থবারের মতো স্থান করে নিয়েছেন তিনি। তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সব সরকারেরই মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেয়েছেন। 

ব্রেকিংনিউজ/আরএইচ/জেআই