জানা-অজানা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড.এ কে আবদুল মোমেন

জহুরুল ইসলাম
২৯ জানুয়ারি ২০১৯, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: ০৫:৩৫ আপডেট: ০৯:০৪

জানা-অজানা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড.এ কে আবদুল মোমেন

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর মন্ত্রিসভা গঠন করেছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাশালী মহোজোট। নতুন মন্ত্রিসভায় শরিক দল থেকে কেউই জায়গা পাননি, বাদ পড়েছে আওয়ামী লীগের অধিকাংশ সাবেক মন্ত্রীই। চমকের এ মন্ত্রিসভায় অন্যতম চমক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। প্রথমবার সাংসদ হয়েই গুরুত্বপূর্ণ এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি।
 
অর্থনীতিবিদ হওয়ায় ও এবং সদ্য সাবেক অর্থমন্ত্রী ড. আবুল মাল আবদুল মুহিতের ছোট ভাই হিসেবে ড. এ কে আবদুল মোমেনের অর্থমন্ত্রী হওয়ার জোর গুঞ্জন ছিল। তবে বাতাসে থাকা গুঞ্জনকে এড়িয়ে কূটনীতিক পেশায় থাকা ড. মোমেনকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়ে চমক দেখিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
 
ড. এ কে আবদুল মোমন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। এ আসনে আগে সাংসদ ছিলেন তার বড় ভাই ড. আবুল মাল আবদুল মুহিত। ড. আবুল মাল আবদুল মুহিত বার্ধক্যজনিত কারণে এবার প্রার্থী না হওয়ায় তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হন। তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে হারিয়ে জয়লাভ করেন।
 
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া ড. মোমেন বাংলাদেশ সরকারের কূটনীতিক হিসেব দায়িত্ব পালন করেছেন জাতিসংঘে। ২০০৯ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
 
জাতিসংঘে তিনি কৃতিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। তার সমেয়েই জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশেনে সর্বোচ্চ সংখ্যক সদস্য যাওয়ার গৌরব অর্জন করে। তার কূটনৈতিক তৎপরাতেই বাংলাদেশ মহিলা শান্তিরক্ষী বাহিনী ও নেভাল ফোর্স পাঠানো শুরু করে।
 
তিনি জাতিংঘে দূত থাকাকালীন সমেয়েই বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সমুদ্রসীমা নিয়ে বিবদমান সমস্যার সমাধান হয়। যেখানে বাংলাদেশ বিরোধপূর্ণ ওই জলসীমা জয় করতে পেরেছিল। বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রঅ ডা. দিপু মনির সময়ে এ সমুদ্র বিজয়ের নেপথ্যে ড. এ কে মোমেন গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেন।  
 
ড. এ কে মোমেন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইউনিসেফ নির্বাহী বোর্ডের সভাপতি ছিলেন। ৬৭তম জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে উপ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ড. এ কে মোমেন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জাতিসংঘের সাউথ-সাউথ কো অপারেশনের উচ্চ পর্যায়ের কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ড. এ কে মোমেন জাতিসংঘের পিস বিল্ডিং কমিশনের সভাপতি ছিলেন।
 
শিক্ষকতার অভিজ্ঞতাও রয়েছে এ অর্থনীতিবিদ-কূটনীতিবিদের। তিনি ফ্রামইংহাম স্টেট ইউনিভার্সিটি’র ব্যবসায় প্রশাসন ও অর্থনীতি বিভাগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া ড. মোমেন ইউনিভার্সিটি অব ম্যানচেস্টার, দ্য সালেম স্টেট কলেজ, মেরিম্যাক কলেজ, ক্যামব্রিজ কলেজ, কেনেডি স্কুল অব গভর্নমেন্ট, হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি, ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি এবং নর্থইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ফ্যাকাল্টি মেম্বার ছিলেন।
 
তিনি অর্থনীতি এবং ব্যবসা প্রশাসনে নর্থইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি (বোস্টন) থেকে ডক্টরেট এবং হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি থেকে লোক প্রশাসন, পাবলিক পলিসি অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইকোনোমিক্সে এমপিএ করেন।
 
এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি এবং উন্নয়ন অর্থনীতিতে বিএ ও এমএ করেন।
 
ড. এ কে মোমেন ১৯৭৮ সালে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে ফোর্ড ফাউন্ডেশন এবং মেশন ফেলো হিসেবে উচ্চশিক্ষা নেন। তার আগে তিনি ওয়াশিংটন ডিসিতে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন।
 
ড. এ কে মোমেন ১৯৯৮ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত সৌদি আরবের অর্থ ও জাতীয় অর্থনীতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রকল্পে অর্থনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এসময় তিনি সৌদি আরবে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্যও নানা কল্যানকর কাজ করেন।
 
তিনি ১৯৯৩, ১৯৯৪, ১৯৯৫ এবং ১৯৯৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের শিশু শ্রম, শিশুকে জকি হিসেবে ব্যবহার এবং শিশু পতিতাবৃত্তির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন। তার নিরন্তর প্রয়াসে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আদম পাচার সম্পর্কিত সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ সৃষ্টি হয়েছে।
 
তিনি নানা সময়ে বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে কাজ করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি মুজিবনগর সরকারের সঙ্গে কাজ করেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হলে তিনি বঙ্গবন্ধু সরকারের অধীনে কাজ করেন। ১৯৮২ সালে সামরিক অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে বরখাস্ত করা হয়।
 
নব-গঠিত মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব নেয়ার সময়েও তিনি চট্টগ্রাম স্টক একচেঞ্জের (সিএসই) সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়ে এ শেয়ারবাজার থেকে তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন।
 
পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন তিনি অর্থনৈতিক কূটনীতিতে বেশি নজর দেবেন।
 
ড. এ কে আবদুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তার উচ্চশিক্ষা নেয়া শুরু করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি এবং উন্নয়ন অর্থনীতিতে বিএ ও এমএ করেন। তিনি হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি থেকে লোক প্রশাসন, পাবলিক পলিসি অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইকোনোমিক্সে এমবিএ করেন। অর্থনীতি এবং ব্যবসা প্রশাসনে নর্থইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি (বোস্টন) থেকে তিনি ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন।
 
১৯৪৭ সালের ২৩ আগস্ট সিলেটে জন্মগ্রহণ করা ড. মোমেন একজন লেখক ও কলামনিস্ট। তিনি ৪টি বই এবং ২৫০টি গবেষণাপত্র লিখেছেন।
 
ব্রেকিংনিউজ/জেআই/এমআর