নেতৃত্বে দূরদর্শী কামাল ও একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

তৌহিদুজ্জামান তন্ময়
৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: ০৪:৩৩ আপডেট: ০৬:০২

নেতৃত্বে দূরদর্শী কামাল ও একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এমপি ১৯৫০ সালের ৩১ ডিসেম্বর ঢাকা জেলার তেজগাঁও থানার মুনিপুড়িপারায় সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মরহুম- আশরাফ আলী খান এবং মরহুম- আকরামুন নেসার দ্বিতীয় সন্তান। ছোটবেলায় লেখাপড়ার পাশাপাশি সত্তরের দশকে মঞ্চ নাটক করতেন এবং তুখোড় ব্যাডমিন্টন ও দাবা খেলোয়ার ছিলেন। 

১৯৬৫ সনে তেজগাঁও পলিটেকনিক হাইস্কুল থেকে এসএসসি ও ১৯৬৭ সনে জগন্নাথ কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে বিএসসি অনার্স সম্পন্ন করেন। ছাত্র জীবনে তিনি অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। 

ছাত্র জীবন থেকেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে রাজনীতি শুরু করেন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। ২নং সেক্টর এর ক্যাপ্টেন আব্দুল হালিম চৌধুরীর অধীনে মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেন। বর্তমানে ঢাকা মহানগর (উত্তর) আওয়ামী-লীগের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। 

আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। জানুয়ারি ২০১৪ সালে ১০ম জাতীয়  সংসদে নির্বাচিত হয়ে ১২ জানুয়ারি ২০১৪ সালে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। ২০১৫ সালের ১৪ জুলাই তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পান। তিনি ২০০৯ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। খান বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের সদস্য। তিনি শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য। 

তার দক্ষতা, যোগ্যতা এবং দেশ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ১৪ জুলাই ২০১৫ তারিখে পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন এবং যথারীতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সর্বশেষ ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী আওয়ামী লীগ যে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে, তাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রিসভায় তৃতীয়বারের মতো স্থান করে নিয়েছেন তিনি।

তার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূলের মাধ্যমে তিনি বর্তমানে বৈশ্বিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও রাজনীতিবিদ হিসেবে আন্তর্জাতিক মহলে স্বীকৃত। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযানের মাধ্যমে দেশে মাদকের প্রকোপ কমিয়ে আনতে অনন্য ভূমিকা রেখে চলেছেন। 

তিনি রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান ও জাতিসংঘে টেকসই শান্তি সম্মেলনসহ বহু আন্তর্জাতিক সেমিনারে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেন। বাংলাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় তিনি অনন্য ভূমিকা রেখেছেন। তার নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অধিভুক্ত ১০টি প্রতিষ্ঠান সত্যিকার অর্থে বিশ্বমানের নিরাপত্তা ও সেবা দানে প্রাগ্রসর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ২০০৯ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত গৃহায়ন ও গণপূর্ত বিভাগের স্থায়ী কামিটির সদস্য ছিলেন। প্রাইভেটাইজেশন বোর্ড এবং প্রেস কাউন্সিলেরও একজন সম্মানিত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দোহার পদ্মা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা, হোসেন আলী স্কুলের সভাপতি, তেজগাঁও কলেজের প্রেসিডেন্ট এবং শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সিনেট সদস্য। 

তিনি তেজগাঁও, রমনা, হাতিরঝিল ও দোহার এলাকায় স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসা ও অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছেন। রাজনীতির পাশাপাশি একজন সমাজকর্মী হিসেবে তিনি সুপরিচিত। 

তিনি অবসরে বই পড়া, পত্রিকা পড়া এবং ভ্রমণ করতে পছন্দ করেন। তার সহধর্মিনী মিসেস লুৎফুল তাহমিনা খান। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তানের জনক।

ব্রেকিংনিউজ/টিটি/এমআর