চবিতে ‘শাটল ট্রেন’ আসছে কাল

মিনহাজ তুহিন, চবি করেসপন্ডেন্ট
১৫ এপ্রিল ২০১৯, সোমবার
প্রকাশিত: ০৫:৩৪

চবিতে ‘শাটল ট্রেন’ আসছে কাল

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের যাতায়তের অন্যতম প্রধান বাহন শাটল ট্রেন নিয়ে নির্মিত পূর্ণদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র ‘শাটল ট্রেন’ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রদর্শিত হবে মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল)। যা চলবে আগামী ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত। 

সোমবার (১৫ এপ্রিল) বিকেলে ব্রেকিংনিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শাটল ট্রেন চলচ্চিত্রের পরিচালক প্রদীপ ঘোষ। 

তিনি বলেন, শাটল ট্রেন চলচ্চিত্রটি মঙ্গলবার ১৬ এপ্রিল থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ মিলনায়তনে প্রদর্শিত হবে। প্রতিদিন বেলা ১২ টা, দুপুর ২ টা ও বিকেল ৪ টায় প্রদর্শিত হবে চলচ্চিত্রটি ।

তিনি আরো বলেন, তিন দিন ব্যাপি এ প্রদর্শনীর প্রিমিয়ার শো মঙ্গলবার বেলা ১০ টায় একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী।

এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার। এছাড়া সিনেমাটির পরিচালক প্রদীপ ঘোষ ও প্রধান সহকারী পরিচালক রিফাত মোস্তফা, অভিনেতা ইমরান হোসেন ও অভিনেত্রী সাদিয়া আফরোজ শান্তাও উপস্থিত থাকবেন। টিকেট আইন অনুষদ প্রাঙ্গণে পাওয়া যাবে।

জানা যায়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের যাতায়তের অন্যতম প্রধান বাহন শাটল ট্রেন। হাসি কান্না, আড্ডা, পড়াশোনা, প্রেম-বিচ্ছেদ, রাজনীতি সবই হয় এখানে। চবি শিক্ষার্থীরা এই শাটল ট্রেনকে ঘিরে তাদের স্বপ্ন সাজায়। এই শাটল নিয়ে গান, কবিতা, টেলিফিল্ম, নাটক তৈরি হলেও এতদিন সিনেমা তৈরি হয়নি, অবশেষে তাও হলো।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী প্রদীপ ঘোষ শাটল ট্রেন নিয়ে তৈরি করেছেন পূর্ণদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র। যার নাম দিয়েছেন ‘শাটল ট্রেন’।

শাটল ট্রেন চলচ্চিত্র সংশ্লষ্ট সূত্রে জানা যায়, ছবির চিত্রনাট্য তৈরি করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মোহেছিনা ঝর্ণার ‘বহে সমান্তরাল’ বই থেকে। চলচ্চিত্রটির শুটিং সব ঋতুতেই হয়েছে এবং এটি নির্মিত হয়েছে শিক্ষার্থীদের গণঅর্থায়নে। মোট ৬টি মৌলিক গান রয়েছে চলচ্চিত্রটিতে। এছাড়াও ট্রেনের বগি ভিত্তিক গান রয়েছে। এতে যারা অভিনয় করছেন তারা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী।

‘শাটল ট্রেন’ চলচ্চিত্রের নির্মাতা প্রদীপ ঘোষের সঙ্গে কথা হয় ব্রেকিংনিউজের এই প্রতিবেদকের। শাটল ট্রেন নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণের বিষয়টি মাথায় কীভাবে এলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিশ্বে একমাত্র চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিবহনের জন্য নিজস্ব ট্রেন আছে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট কয়েকটি সময়ে এটি শহর ও বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া আসা করে। এতে শিক্ষার্থীদের কোনো টিকিটের প্রয়োজন হয় না এবং কোনো টিটিও থাকে না। বিষয়টি অনেক মজার। তাছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যে নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তা অন্য কোথাও তেমন একটা নেই। এখানে পাহাড় আছে, ঝর্ণা আছে। এগুলো সবার কাছে তুলে ধরতে মূলত এই চলচ্চিত্র নির্মাণ করা।’

চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তু সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘চবির প্রতিটি শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫ থেকে ৬ টি বছর অতিবাহিত করেন। আর এই দীর্ঘ সময় ক্যাম্পাসে যাওয়া আসার জন্য মাধ্যম ব্যবহার করেন শাটল ট্রেন। এসময় তাদের অনেক স্মৃতি তৈরি হয়। আর এই স্মৃতি ও বাস্তব অভিজ্ঞতা এতে চিত্রায়ন করা হয়েছে।

চলচ্চিত্রের অর্থায়নের বিষয়ে প্রদীপ ঘোষ বলেন, ‘নির্মিত হচ্ছে গণঅর্থায়নে। যারা টাকা দিয়েছেন, তারা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। তবে এতে যারা অভিনয় করছেন তারা কোনো পারিশ্রমিক নিচ্ছেন না।’

তিনি আরও বলেন, ‘চলচ্চিত্রটির নাম শাটল ট্রেন হলেও এতে শুধু শাটল ট্রেনের গল্পই থাকবে না, বরং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য ও রূপ বৈচিত্র উঠে আসবে এই চলচ্চিত্রে।’

ব্রেকিংনিউজ/এনএসএন

bnbd-ads
bnbd-ads