জবি ছাত্রলীগের সম্মেলন: নেতা হলেই কোটিপতি, চলছে লবিং তদবির

জ‌বি ক‌রেসপ‌ন্ডেন্ট
১৯ জুলাই ২০১৯, শুক্রবার
প্রকাশিত: ১০:৩২ আপডেট: ০২:০৩

জবি ছাত্রলীগের সম্মেলন: নেতা হলেই কোটিপতি, চলছে লবিং তদবির

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার দীর্ঘ প্রায় ৬ মাস পর নতুন করে সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ২০ জুলাই সম্মেলন অনুষ্ঠানে জন্য ইতোমধ্যে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি তৈরি করে দিয়েছেন। সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি তাদের সকল কার্যক্রমও যথাসময়ে শেষ করে সম্মেলনের অপেক্ষায় রয়েছেন।

পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীরা নিজেদের অবস্থান জানান দিতে প্রায় প্রত্যেকদিন ক্যাম্পাসে তাদের অনুসারীদের নিয়ে শোডাউন দিচ্ছেন। সম্মেলনের দিন যতো ঘনিয়ে আসছে ততোই পদপ্রত্যাশী নেতাদের দৌড়ঝাঁপ বেড়ে যাচ্ছে। ক্যাম্পাসে নিজেদের নামে অনেকেই বিশাল বিশাল ব্যানার ফেস্টুন লাগিয়ে নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে জানান দিচ্ছেন।

ক্যাম্পাসের পাশাপাশি বিভিন্নভাবে লবিং তদবিরেও থেমে নেই তারা। শীর্ষ পদে আসার জন্য কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ থেকে শুরু করে নেতারা মধুর ক্যান্টিন, ডাকসু ভবন এবং আওয়ামী লীগের দলীয় অফিসে ধরনা দিচ্ছেন। অনেকেই আবার সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এবং আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। 

এছাড়া জবি ছাত্রলীগের শীর্ষ পদে নিজেদের লোক বসাতে বিভিন্ন সক্রিয় সিন্ডিকেট কাজ করছে। নিজেদের পছন্দের লোককে বসাতে তারা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের নেতাদের দ্বরস্থ হচ্ছে। 

বিগত কমিটির জবি ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের নেতৃত্বে আসার আগে মেসের সিট ভাড়া পর্যন্ত ছিলো না। অথচ ছাত্রলীগের পদের আসার পর পরই রাতারাতি তারা কোটিপতি হয়ে যায়। তাইতো জবি ছাত্রলীগের পদ পেতে এতো লবিং তদবির চলছে। তাছাড়া কেরানিগঞ্জে জবির নতুন ক্যাম্পাসের জন্য একনেকে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ৯০০ কোটি টাকার চেক জবি প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। 

নতুন ক্যাম্পাসের এসব কাজের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন প্রকার কাজ পরিচালনা করে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য। তাইতো জবি ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আসার জন্য টাকা পয়সা খরচ করতে কেও কার্পণ্য করছে না। নিজেদের কর্মীদের খাওয়ানো, অর্থ প্রদান, বেনার ফেস্টুন সহ বিভিন্নভাবে প্রায় লাখ লাখ টাকা খরচ ইতোমধ্যে করে ফেলছে। তাছাড়া বিভিন্ন জায়গায় লবিং তদবিরের জন্য দুহাতে অর্থ খরচ করে যাচ্ছে তারা।

জবি ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আসার জন্য বিভিন্ন সময় বির্তকিতরাও রয়েছে। বিভিন্ন সময় ক্যাম্পাসে চাঁদাবাজি, বাস লেগুনা স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি, অস্ত্র মামলার আসামি, প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে মহড়া, মারামারি সহ বিভিন্ন প্রকার অপকর্মে জড়িতরা ও রয়েছেন। তাছাড়াও ছাত্রত্ব নেই এমন প্রার্থীও রয়েছেন কমিটির শীর্ষ পদপ্রত্যাশী। বয়স গোপন করে অনেকেই আবার শীর্ষপদ বাগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন। 

বিতর্কিত এসব বিষয় নিয়ে যদিও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সম্পাদক বলছেন- স্বচ্ছ, জনপ্রিয় ও যোগ্য ব্যক্তিকেই জবি ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হবে।

জবি ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন- সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক সাবেক সহ-সভাপতি আশরাফুল ইসলাম টিটন, যুগ্ম আহ্বায়ক সাবেক সহ-সভাপতি জামাল উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক ইব্রাহিম ফরায়েজি, সৈয়দ শাকিল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হোসনে মুবারক রিশাদ, নাজমুল আলম, তারেক আজীজ, সহ-সভাপতি আল আমিন শেখ, উপ-মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক (শরীফ-সিরাজ কমিটি) নাহিদ পারভেজ, সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য আদম সাইফুল্লাহ, আনিসুর রহমান, শেখ মেহেদি হাসান, মাহমুদ হাসান পারভেজ, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল আফসার, আসাদুল্লা আসাদ, আসাদুজ্জামান আসাদ, আক্তার হোসেন, সাবেক সহ-সভাপতি শরিফুল ইসলাম, তানজিনা শিমু ও সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাওসার আহমেদ। 

এছাড়াও পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে আলোচনায় আছেন- সাবেক দফতর সম্পাদক শাহবাজ হোসেন বর্ষণ, সহ-সম্পাদক মোল্লা আনোয়ার হোসেন (সজীব), উপ-আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক সৈকতুর রহমান, সহ-সম্পাদক নূর-ই-আলম, মেহেদী বাবু, খন্দকার অমিত হাসান।

ব্রেকিংনিউজ/এএইচ/এমআর