কুবিতে ছাত্রী লাঞ্ছিত

কুবি করেসপন্ডেন্ট
২৫ আগস্ট ২০১৯, রবিবার
প্রকাশিত: ০১:১৮

কুবিতে ছাত্রী লাঞ্ছিত

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) বহিরাগত সন্ত্রাসীদের দ্বারা এক ছাত্রীকে লাঞ্ছনা ও মোবাইল ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদ ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, শুক্রবার (২৩ আগস্ট) রাত ৮ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী ও তার বন্ধু রাশেদুল আলম সিফাত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদ ভবনের সামনে (সানসেট ভ্যালি) ঘুরতে যায়। সেখানে যাওয়ার কিছু সময় পরে বহিরাগত দুজন সন্ত্রাসী তাদের কাছে এসে কেন গিয়েছে এটা বলে ধমকাতে শুরু করে। একপর্যায়ে তারা দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে সাথে থাকা সবকিছু বের করে দিতে বলে ও ঐ ছাত্রীর ব্যাগ নিয়ে টানা হেঁচড়া শুরু করে। ভুক্তভোগী ঐ ছাত্রী সন্ত্রাসীদের বাঁধা দিলে তাকে চপেটাঘাত করে এবং তার সাথে থাকা রাশেদুল আলম সিফাতের মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে দৌঁড়ে পালিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী ছাত্রী জানান, ‘সন্ধ্যা হলেই আমাদের ক্যাম্পাসই আমাদের জন্য অনিরাপদ হয়ে যায়। আমদের পড়তে হয় নানা সমস্যায়। বহিরাগতদের আক্রমণের শিকার হতে হয়। এটা আমাদের জন্য লজ্জার বিষয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ।’

ভুক্তভোগী রাশেদুল আলম সিফাত বলেন, আজকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মধ্যেই বহিরাগত সন্ত্রাসীরা আমার মোবাইল ফোন ছিনতাই হলো এবং আমার বান্ধবীকে লাঞ্ছিত করলো ও থাপ্পড় দিলো কিন্তু কোন নিরাপত্তাকর্মীকে দেখলাম না। বহিরাগতদের দ্বারা নিজ ক্যাম্পাসে এভাবে লাঞ্ছনা ও ছিনতাইয়ের শিকার দুঃখজনক।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে এর আগেও বিভিন্ন সময়ে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের দ্বারা শিক্ষার্থীরা ছিনতাই ও মারধরের শিকার হয়েছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তেমন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের আনাগোনা এবং নানা ধরনের অপকর্মের মাত্রা বেড়ে গেছে বলেও অভিযোগ করে শিক্ষার্থীরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন,‘কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এখন বহিরাগত সন্ত্রাসী ও মাদকসেবীদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ স্থান। ক্যাম্পাসের মধ্যেই চলে মাদক সেবন ও কেনাবেচা। এ বিষয়গুলো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরে বারবার দেয়া হলেও তেমন কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় ছিনতাই লাঞ্ছনার মতো ঘটনাগুলো ঘটছে। যেখানে নিরাপত্তা জোড়ালো হওয়ার কথা সেখানেই নিরাপত্তার অভাব। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির নিরাপত্তার বিষয়ে তেমন কোন পদক্ষেপ নেই বললেই চলে।’

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন জানান, ‘ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা আমাকে এখনো কিছু জানায়নি। ভিন্ন সূত্রে ঘটনাটি জানার পর আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সাথে আলোচনা করেছি। পুলিশ প্রশাসনের সহায়তা নিয়ে শিগগিরইই ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা টহল বৃদ্ধি করা হবে।’  

ব্রেকিংনিউজ/এমজি