অগ্রগতি নেই জকসুর, সংশয়ে শিক্ষার্থীরা

জ‌বি ক‌রেসপ‌ন্ডেন্ট
৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার
প্রকাশিত: ১১:০৬

অগ্রগতি নেই জকসুর, সংশয়ে শিক্ষার্থীরা

গঠনতন্ত্র প্রণয়নের লক্ষ্যে কমিটি গঠন করলেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (জকসু) কোনো অগ্রগতি নেই। আর তাই সংশয় প্রকাশ কর‌ছেন বিভিন্ন ছাত্রসংগঠ‌নের নেতা ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। যথা সম‌য়ে জকসু না হ‌লে আবা‌রো আন্দোলনে নামার হুম‌কিও দেন তারা।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ফলে গত ১ জুলাই (সোমবার) জকসুর গঠনতন্ত্র প্রণয়নের জন্য আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. সরকার আলী আক্কাসকে আহ্বায়ক করে চার সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। একইসঙ্গে কমিটিকে ৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন সংশোধনের জন্য সুপারিশ প্রদান ও ‘জকসু’ গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

জকসু বিষয়ে কোনো ধারা বা উপধারা না থাকায় জকসু গঠনতন্ত্র প্রণয়নে আইন সংশোধনের জন্য এ কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু কমিটির সময়কাল প্রায় শেষ হয়ে গেলেও কমিটির কাজের আশানুরূপ অগ্রগতি না হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী সংশয় প্রকাশ করছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, জবি শাখার আহ্বায়ক রাইসুল ইসলাম নয়ন বলেন, আমাদেরকে প্রশাসন সবসময়ই আশা দিয়েছে। এতে আমরা কোনো ফল পাইনি। তবে এবার আমাদেরকে মাননীয় উপাচার্য বলেছেন জকসু হবে। আমরা উনাকে সম্মান করি। গঠনতন্ত্র প্রণয়ন কমিটির কার্যকাল শেষ হওয়ার পথে, আমরা আশা করি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই জকসুর গঠনতন্ত্র প্রণয়ন হবে। যদি এতে কোনো বিলম্ব হয়, তাহলে আমরা পরবর্তীতে অন্য কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করব। সাধারণ শিক্ষার্থীদের নি‌য়ে আমরা আবা‌রো আন্দোল‌নে নামবো।

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, জবি শাখার সাধারণ সম্পাদক এম এন জুনায়েদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জকসু গঠনতন্ত্র প্রণয়নের জন্য যে কমিটি গঠন করেছে আমরা তার ফল দেখার অপেক্ষায় আছি যে তারা জকসুকে কীভাবে দাঁড় করায়। এবং আমরা নিজেদের মতো করে প্রস্তুতি নিচ্ছি। কমিটির সময়কাল শেষ হলেই আমরা কার্যক্রম হাতে নেব।

কমিটির কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে গঠনতন্ত্র প্রণয়ন কমিটির আহ্বায়ক ও আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আলী আক্কাস বলেন, জকসুর যে গঠনতন্ত্র, সেটা তৈরি করতে হচ্ছে আমাদেরকে। এটি অনেক বড় একটি ডকুমেন্টস হবে। এর টাইপিং এর কাজ চলছে। এ সপ্তাহের মধ্যে কাজ শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। এর কাজ শেষ হয়ে গেলেই আমরা রিপোর্ট জমা দিয়ে দেব। আমরা আশাবাদী যে আগামী সপ্তাহের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন হবে।

৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে কমিটির কাজ শেষ হবে কী না প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (জকসু) গঠনতন্ত্র প্রণয়নের জন্য আমাদেরকে ৪৫ কার্যদিবস সময় দেওয়া হয়েছিল। এর এখনো সপ্তাহ খানেক বাকী আছে। আমরা আশা করি এর মধ্যেই কাজটি সম্পন্ন হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৫৪ সালে প্রথম জগন্নাথ কলেজ ছাত্র সংসদের (জকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে ভিপি এআর ইউসুফ আর জিএস সালাউদ্দিন আহমেদ নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত জগন্নাথ কলেজ ছাত্রসংসদের ১০টি কমিটি হয়। স্বাধীনতার পরে ১৯৭২, ১৯৭৯, ১৯৮৬, ১৯৮৭ সালে আরও চারটি ছাত্র সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ ১৯৮৭ সালের নির্বাচনে আলমগীর সিকদার লোটন ও জাহাঙ্গীর সিকদার জোটন নামে দুই ভাই ভিপি ও জিএস নির্বাচিত হন।

এরপরে ২০০৫ সালে জগন্নাথ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তরিত হওয়ার আগ পর্যন্ত ১৮ বছর ধরে কোনো ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়নি। আর জগন্নাথ কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হওয়ার সময়ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০৫ এ ছাত্র সংসদের অধ্যাদেশযুক্ত হয়নি। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পরে প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয় আইনে ছাত্র সংসদ অধ্যাদেশ যুক্ত ও নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।

ব্রেকিংনিউজ /এএইচ/ এমজি