এক ছাত্রলীগ নেতা বলছিলেন, ‘ও নাটক করতাছে’

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৯ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার
প্রকাশিত: ০৪:৫০ আপডেট: ০৬:৪৬

এক ছাত্রলীগ নেতা বলছিলেন, ‘ও নাটক করতাছে’

ভারতের সঙ্গে চুক্তির বিরোধিতা করে স্ট্যাটাস দেয়ায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে দুই দফা পিটিয়ে হত্যা করেছে ছাত্রলীগ।

সেই হত্যাকাণ্ডের শেষ সময়ের প্রত্যক্ষদর্শীর দুইজন আরাফাত ও মহিউদ্দিন। বুধবার (৯ অক্টোবর) সকালে ক্যাম্পাসে বুয়েট শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে কর্মসূচির এক পর্যায় ঘটনা বর্ণনা দেন তারা।

তারা জানান, ‘ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা পিটিয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় ফেলে রেখে যাওয়ার পর তাকে দেখেন কাতরানো অবস্থায়। তখন তাঁর পুরো শরীর ঠান্ডা হয়ে গেছে।’

আরাফাত আফসোস করে বললেন, তিন-চার মিনিট আগে তিনি যদি সেখানে উপস্থিত হতে পারতেন, তাহলেও হয়তো আবরারকে বাঁচানো যেত।

মহিউদ্দিন বললেন, ‘আবরারকে কাতরানো অবস্থায় দেখার সময় এক ছাত্রলীগ নেতা বলছিলেন, ‘ও নাটক করতাছে।’ এ রকম পরিস্থিতিতে তাঁকে বাঁচাতে না পারায় মহিউদ্দিনের এখন আফসোস হচ্ছে।’

আরাফাত বলেন, ‘পড়া শেষে রাতে নিচে খাবার আনতে বেরিয়েছিলেন তিনি। তখনই দেখেন তোশকের মধ্যে একজন পড়ে আছেন। তখনো তাঁর চিন্তায় আসেনি এ রকম হতে পারে। তার ধারণা হয়েছিল, হয়তো কেউ মাথা ঘুরে পড়ে গেছে।’

আরাফাত বলেন, ‘খোদার কসম, এক সেকেন্ডের জন্যও মাথায় আসেনি এভাবে কাউকে মারা হতে পারে।’ তিনি বলছিলেন, যখন আবরারের হাত ধরেন, তখন হাত পুরো ঠান্ডা, পা ঠান্ডা। শার্ট-প্যান্ট ভেজা। তোশক ভেজা। মুখ থেকে ফেনা বের হয়েছে।

‘তখন ওকে বাঁচানোর জন্য বুকে চাপ দিই। হাতে চাপ দিই। আশপাশের সবাইকে বলি, কেউ একজন ডাক্তারকে ম্যানেজ কর। এরপর ডাক্তার আসল। ডাক্তার দেখে বলেন, ১৫ মিনিট আগেই সে (আবরার) মারা গেছে।’

আফসোস করে কাঁদতে কাঁদতে আরাফাত বলছিলেন, ‘তিন-চারটা মিনিট আগে যদি খাবার আনতে যাইতাম, তাহলে পোলাডারে বাঁচাইয়া রাখতে পারতাম। এই তিন মিনিটের আফসোসে তিন দিনে তিন ঘণ্টাও ঘুমাইতে পারি নাই।’

আরাফাত এ বক্তব্য দেওয়ার পরপরই মহিউদ্দিন বলছিলেন, ‘আরাফাতের তো তিন মিনিটের আফসোস আছে, আর আমার আছে অনুতাপ।’

আরাফাত ফেলে রাখার দৃশ্য দেখার বর্ণনা দিয়ে বলেন, তখন আড়াইটার মতো বাজে। তিনি খেতে বের হয়েছেন। তখন দেখেন আবরার কাতরাচ্ছেন। তখনো ছাত্রলীগ নেতা জিয়ন বলছিলেন, ‘ও (আবরার) নাটক করতাছে।’ নিষ্ঠুরতার এই বর্ণনা দিতে দিতে মহিউদ্দিন আবারও কেঁদে ফেলে বলেন, ‘আমি ওরে বাঁচাইতে পারিনি। মাফ করে দিস, ভাই। আমারে সবাই মাফ কইরা দিস। আমি জীবিত দেইখাও ওরে বাঁচাইতে পারি নাই।’

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হয় তার সমালোচনা করে ফেসুবকে স্ট্যাটাস দেন বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদ।

ওই স্ট্যাটাসের জন্য রবিবার (৬ অক্টোবর) রাতে ফোন করে তাকে শেরেবাংলা আবাসিক হল কক্ষে ডেকে নেয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পরে তাকে সেখানেই পিটিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। দুই দফা পিটিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত হলে আবরারের লাশ সিঁড়ির নিচে রাখে। সোমবার (৭ অক্টোবর) ভোর ৪টার দিকে মৃতদেহটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

ব্রেকিংনিউজ/ এসএ