আবরার হত্যা: ভিসিকে আল্টিমেটাম, বুয়েটে তালা ঝুলানোর হুঁশিয়ারি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১০ অক্টোবর ২০১৯, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: ০১:০৫ আপডেট: ০২:৫৮

আবরার হত্যা: ভিসিকে আল্টিমেটাম, বুয়েটে তালা ঝুলানোর হুঁশিয়ারি

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ভিসি অধ্যাপক সাইফুল ইসলামের কাছে আবরার হত্যাকাণ্ড ও চলমান দাবির বিষয়ে জবাবদিহিতা চেয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। আগামীকাল শুক্রবার (১০ অক্টোবর) দুপুর ২টার মধ্যে ভিসিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মাঝে এসে জবাবদিহি করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় প্রতিষ্ঠানটির সকল একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা এ হুঁশিয়ারি দেন।

এর আগে বেলা ১১টার দিকে ক্যাম্পাসের শহিদ মিনারে জড়ো হতে থাকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। আবরার হত্যার বিচার চেয়ে ১০ দফা দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন তারা। আন্দোলনকারীদের মতে, আগামী ১৪ অক্টোবর বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষা রয়েছে। সুতরাং প্রশাসনের উচিত হবে যথাসময়ে তাদের দাবির বিষয়ে সহমত জানানো। অন্যথায় তারা ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে দেবেন না।

শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা আন্দোলন করছি। কিন্তু বুয়েট কর্তৃপক্ষ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের কোনও কিছু জানায়নি।

এসময় তারা স্লোগান দেন- “খুনিদের ফাঁসি চাই”; “খুনিদের ঠিকানা এই বুয়েটে হবে না”; “আমার ভাই কবরে খুনি কেন বাহিরে”; “প্রশাসন নীরব কেন, জবাব চাই”।

এসময় আবরারের বাড়িতে ঘটে যাওয়া ঘটনারও নিন্দা জানান শিক্ষার্থীরা।

আবরার হত্যাকাণ্ডে বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ-মিছিল ও গ্রাফিতির আয়োজন।

শিক্ষার্থীদের ১০ দফা দাবিগুলো হলো-
১. খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সিসিটিভি ফুটেজ ও জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে শনাক্তকারী খুনিদের প্রত্যেকের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

২. বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সিসিটিভি ফুটেজ থেকে শনাক্তকৃত সকলকে আগামী ১১ অক্টোবর বিকেল ৫টার মধ্যে আজীবন বহিষ্কার নিশ্চিত করতে হবে।

৩. মামলা চলাকালীন সকল খরচ এবং আবরারের পরিবারের সকল ক্ষতিপূরণ বুয়েট প্রশাসনকে বহন করতে হবে। এ মর্মে অফিশিয়াল নোটিশ ১১ তারিখ ৫ টার মধ্যে প্রদান করতে হবে।

৪. দায়েরকৃত মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালের অধীনে স্বল্পতম সময়ে নিষ্পত্তি করার জন্য বুয়েট প্রশাসনকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। বুয়েট প্রশাসনকে সক্রিয় থেকে সমস্ত প্রক্রিয়া নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং নিয়মিত ছাত্রদের আপডেট করতে হবে।

৫. অবিলম্বে চার্জশিটের কপিসহ অফিশিয়াল নোটিশ দিতে হবে।

৬. বুয়েটে সাংগঠনিক ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। রাজনৈতিক সংগঠনের ব্যানারে দীর্ঘদিন ধরে বুয়েটে হলে হলে ত্রাসের রাজনীতি কায়েম করে রাখা হয়েছে। জুনিয়র মোস্ট ব্যাচকে সবসময় ভয়ভীতি প্রদর্শনপূর্বক জোর করে রাজনৈতিক মিছিল মিটিংয়ে যুক্ত করা হয়েছে। রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে যেকোনো সময় যেকোনো হল থেকে সাধারণ ছাত্রদের জোরপূর্বক হল থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে হলে হলে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে। রাজনৈতিক সংগঠনের এহেন কর্মকাণ্ডে সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা ক্ষুব্ধ, তাই আগামী ৭ দিনের (১৫ অক্টোবর) মধ্যে বুয়েটে সকল রাজনৈতিক সংগঠন এবং এর কার্যক্রম স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে।

৭. বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি কেন ৩০ ঘণ্টা অতিবাহিত হবার পরও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হননি এবং পরবর্তীতে ৩৮ ঘণ্টা পরে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিরূপ আচরণ করেন এবং কোনও প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে স্থান ত্যাগ করেন, তাকে স্বশরীরে ক্যাম্পাসে এসে আজ (০৯/১০/১৯) দুপুর ২ টার মধ্যে জবাবদিহি করতে হবে।

৮. আবাসিক হলগুলোতে র‌্যাগিং নামে এবং ভিন্ন মতাবলম্বীদের ওপর সকল প্রকার শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। এ ধরনের সন্ত্রাসে জড়িত সকলের ছাত্রত্ব প্রশাসনকে বাতিল করতে হবে। একইসঙ্গে আহসানউল্লা হল এবং সোহরাওয়ার্দী হলের পূর্বের ঘটনাগুলোতে জড়িত সকলের ছাত্রত্ব বাতিল ১১ অক্টোবর বিকেল ৫টার মধ্যে নিশ্চিত করতে হবে।

৯. পূর্বে ঘটা এ ধরনের ঘটনা প্রকাশ এবং পরবর্তীতে ঘটা যেকোনো ঘটনা প্রকাশের জন্য একটা কমন প্ল‌্যাটফর্ম (কোনও সাইট বা ফর্ম) থাকতে হবে এবং নিয়মিত প্রকাশিত ঘটনা রিভিউ করে দ্রুততম সময়ে বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে। এই প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বুয়েটের বিআইআইএস অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে হবে এবং ১১ অক্টোবর বিকেল ৫ টার মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি প্রদর্শন করতে হবে এবং পরবর্তী ১ মাসের মধ্যে কার্যক্রম পূর্ণরূপে শুরু করতে হবে। নিরাপত্তার স্বার্থে সবগুলো হলের প্রত্যেক ফ্লোরের সবগুলা উইংয়ের দু’পাশে সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবস্থা করতে হবে।
 
১০. রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে আবাসিক হল থেকে ছাত্র উৎখাতের ব্যাপারে অজ্ঞ থাকা এবং ছাত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হওয়ায় শেরে বাংলা হলের প্রভোস্টকে ১১ অক্টোবর বিকেল ৫ টার মধ্যে প্রত্যাহার করতে হবে।

ব্রেকিংনিউজ/টিটি/এমআর

bnbd-ads