সরস্বতী পূজায় জবির সমাজকর্ম বিভাগের উদ্যোগে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা

জবি প্রতিনিধি
১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, রবিবার
প্রকাশিত: ০৯:৫৪ আপডেট: ০৯:৫৯

সরস্বতী পূজায় জবির সমাজকর্ম বিভাগের উদ্যোগে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা

দেড়শ বছরের ইতিহাস ঐতিহ্যমন্ডিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) পুরান ঢাকার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হিন্দু ধর্মালম্বীদের অংশগ্রহণে সরস্বতী পূজা পালিত হয়েছে। এবারের পূজায় ব্যতিক্রম উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সমাজকর্ম বিভাগ। বিভাগটি প্রতিমা স্থাপনের পাশাপাশি শিশুদের জন্য চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছেন। এতে পুরান ঢাকার স্কুলের শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছে। 

অনুষ্ঠান শেষে তাদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন সমাজকর্ম বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন। এসময় তিনি বলেন, ‘এ উৎসবে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলেই অংশগ্রহণ করেছে। এতে করে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়েছে।’
 
এবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় পূজা কমিটির উদ্যোগে জবিতে মোট ৩৬টি ডিপার্টমেন্টে পূজার আয়োজন করা হয়েছে।

এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পূজা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সাবেক শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রিয়ব্রত পাল। তি‌নি ব‌লেন, ‘সাম্প্রদায়িক মনোভাব নিয়ে সরস্বতী পূজার আয়োজন করা হয়। এখা‌নে সকল ধ‌র্মের মানুষ একই সা‌থে সরস্বতী পূজার আনন্দ‌কে ভাগাভা‌গি ক‌রে নেয়।’

পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে দেখা যায় দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভীড়। দেবী প্রতিমাতে অঞ্জলি প্রদানসহ দিনভর নাচগানের মধ্যদিয়ে পালিত হয়েছে এ পূজা। বিদ্যা-বুদ্ধির বিকাশের জন্য দর্শনার্থীরা দেবীর কাছে প্রার্থনা করেন। 

জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান পূজা মণ্ডপগুলো পরিদর্শন করেন। এ সময় বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। 

এবারের পূজায় অন্যান্য বছরের তুলনায় পুরান ঢাকায় বসবাসরত হিন্দুধর্মালম্বীদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পরার মতো। রবিবার সকাল ৯টা থেকে আয়োজিত এই পূজায় অংশ নেন সনাতন ধর্মালম্বী শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরাও। পূজা উপলক্ষে প্রতিটি বিভাগের সামনে স্থাপন করা হয়েছে সরস্বতী প্রতিমা।

সমাজকর্ম বিভাগের সহকারি অধ্যাপক শিল্পী রাণী দে’র নেতৃত্বে এবারের পূজায় সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষক শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে তা বেশ জমজমাট হয়ে ওঠে। এছাড়াও প্রতিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা ব্যাপক উৎসাহ নিয়ে অংশগ্রহণ করছে বিদ্যাদেবীর এ পূজায়। শিক্ষা, সংগীত ও শিল্পকলায় সফলতার আশায় সনাতন ধর্মালম্বী শিক্ষার্থীরা দেবীর পূজা অর্চনা করেছে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন সরস্বতী বিদ্যা, বাণী ও সুরের অধিষ্ঠাত্রী দেবী। 

ক্যাম্পাসে পূজা আয়োজনের অন্যতম সংগঠক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী এবং ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নিউটন হাওলাদার বলেন, ‘জ্ঞানালোকে উদ্ভাসিত হয়ে দেশের প্রতিটি মানুষ অসাম্প্রদায়িকতা, অজ্ঞানতার অন্ধকার, কূপমণ্ডুকতা আর অকল্যাণকর সকল বাধা পেরিয়ে একটি উন্নত সমাজ গঠনে এগিয়ে আসবে-এটাই সকলের প্রত্যাশা। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশকে একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ হিসেবে গড়ে  তোলা।’

পূজা আয়োজনের বিষয়ে জানাতে চাইলে গৌরাঙ্গ রায় বলেন, ‘আমরা পূজার আয়োজন করেছি যেন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ বজায় থাকে। এই পূজার মাধ্যমে ছাত্র- ছাত্রীরা জ্ঞান অর্জনে সচেষ্ট হবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের  চেয়াম্যান ও পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. অরুণ কুমার গোস্বামী বলেন, ‘আমরা মনে করি এই পূজার মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ। এখানে  কোনো ধরনের ধর্মীয় বিদ্বেষ থাকতে পারে না। এই পূজার মাধ্যমে আমরা ছাত্রদের কাছ থেকে বিদ্যাদেবীর যে আদর্শ তাই আশা করি। যেন তারা বিদ্যা অর্জনে দেবী স্বরস্বতীর আদর্শকে অনুসরণ করে ‘

আইন শৃঙ্খলার বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে সহকারি প্রক্টর জাফর ইকবাল বলেন, ‘বরাবরের মতো এবারও আমাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা থাকবে। আমরা পুলিশ ও প্রক্টরিয়াল বডি নিয়ে সার্বক্ষণিক তদারকির মধ্যে থাকব। বিশৃঙ্খলাকারী কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।’

 জবি উপাচার্য ড.মীজানুর রহমান আশা প্রকাশ করেন, এবারও পূজায়  প্রতিটি বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছি যেন সর্বোচ্চ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য  নিয়ে পালন করা হয়। এই পূজা যেহেতু পুরানো ঢাকার সকল প্রতিষ্ঠানকে সাথে নিয়ে পালন করা হবে তাই এখানে সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। 

শাস্ত্র  থেকে জানা যায়, বাকদেবী, বিরাজ, সারদা, ব্রাহ্মী, শতরূপা, মহাশ্বেতা, পৃথুধর, বকেশ্বরীসহ আরও অনেক নামেই  দেবী ভক্তের হৃদয়ে বিরাজ করে। সরস্বতী হলেন জ্ঞান, বিদ্যা, সংস্কৃতি ও শুদ্ধতার দেবী।  সৌম্যাবয়ব, শুভ্র বসন, হংস-সম্বলিত, পুস্তক ও বীণা ধারিণী এই দেবী বাঙালির মানসলোকে এমন এক প্রতিমূর্তিতে বিরাজিত, যেখানে কোনও অন্ধকার  নেই, নেই অজ্ঞানতা বা কুসংস্কারের কালো ছায়া।

ব্রেকিংনিউজ/এএইচ/জেআই


 

bnbd-ads