গাবতলীর পশুর হাটে বেচাকেনার ধুম, দামে আগুন

তৌহিদুজ্জামান তন্ময়
১০ আগস্ট ২০১৯, শনিবার
প্রকাশিত: ০৬:০৩ আপডেট: ০৮:৪০

গাবতলীর পশুর হাটে বেচাকেনার ধুম, দামে আগুন

রাজধানীর সর্ববৃহত কোরবানির হাট গাবতলির পশু হাটে বেচাকেনার ধুম লেগে গেছে। গরু, মহিষ, ছাগলসহ বিক্রি হচ্ছে প্রায় সব ধরনের কোরবানি উপযোগী পশু। বিক্রির দিক থেকে এগিয়ে আছে ছোট-মাঝারি সাইজের গরু ও ছাগল। গত দুইদিনে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভীড় হিমশিম খেতে দেখে গেছে হাট ব্যাপারিদের।

ক্রেতাদের দাবি- এবারের পশুর হাটে যেন আগুল লেগেছে। বিক্রেতা-ব্যবসায়ীরা এমন দাম হাঁকছেন যা মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্তদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। দামে বিক্রেতা খুশি হলেও হতাশ ক্রেতারা। তাদের দাবি ভারত থেকে গরু না আসায় এবার ঈদে গরুর দাম বেশি। 

শনিবার (১০ আগস্ট) হাটে সরেজমিনে দেখা যায় ক্রেতা ও ব্যাপারিদের উপচে পড়া ভিড়। বেলা ১১ টার দিকে দেখা গেছে ট্রাক থেকে প্রচুর গরু গাবলতী হাটে আসছে। বিক্রেতারা বলছেন শুক্রবার থেকে পুরোদমে জমে উঠেছে কোরবানির হাট।

গাবতলীর মূল হাট ছাড়িয়ে চারপাশের সড়কের ওপরেও সারি সারি পশু নিয়ে বিক্রেতারা দাঁড়িয়ে আছেন। হাটে যথেষ্ট পশু সরবরাহ রয়েছে। ক্রেতা উপস্থিতিও অনেক।

ক্রেতারা বলছেন, আকারে ছোট (৫০ হাজার টাকা) ও মাঝারি (৬০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ টাকা) গরুর চাহিদা বেশি, তাই দামও বেশি। তবে সোয়া লাখ টাকা থেকে এর চেয়ে বেশি দামের গরুর চাহিদা কম।

বাবা-চাচার সঙ্গে গরুর কিনতে আসা মুহাইমিনুল ইসলাম ব্রেকিংনিউজকে জানান, গরুর দাম বেশি। সকালে হাটে এসেছি। তিন থেকে চারটি গরু পছন্দ করেছি। কিন্তু দাম বেশি বলে কিনতে পারিনি। তবে আজকের মধ্যে কিনে ফেলবো।

পাপন আহমেদ এসেছেন ৬০-৬৫ হাজার টাকার মধ্যে গরু কিনতে। কিন্তু ৬০ হাজার টাকায় যেসব গরু দেখছেন সেগুলো তার পছন্দ হচ্ছে না। যেগুলো পছন্দ হচ্ছে সেগুলোর দাম অনেক বেশি। 

আতিয়ার রহমান নামে আদাবর থেকে এসেছেন ৪০ হাজারের মধ্যে গরু কিনতে। তিনি ব্রেকিংনিউজকে বলেন, গতবার ৪০ হাজার দিয়ে কিনেছিলাম কিন্তু এবার যে দাম দেখছি তাতে এই দামে কেনা মনে হয় সম্ভব হবে না। 

কুষ্টিয়া থেকে ১৬টি গরু নিয়ে গাবতলী হাটে এসেছেন এনামুল ব্যাপারী। গতকালের আগ পর্যন্ত দুটি গরু বিক্রি করেছিলেন। মূল বিক্রিই হবে আজ ও আগামীকাল। আশা করছি গরুগুলো বিক্রি করেই বাড়ি ফিরবো। 

মিরপুর থেকে এসে হাসিলসহ ৮০ হাজার টাকায় গরু কিনেছেন রানা হোসেন। তিনি ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ছোট গরুর একটু দাম একটু বেশি। গরুটির আকার স্বাস্থ্য ও রং দেখে আমার পছন্দ হয়েছে এজন্য দেরী না করে কিনে নিলাম। 

রাজশাহী থেকে এসেছেন গরুর ব্যাপারী রহমত আলী। তিনি এবার ২০টি গরু এনেছেন এই হাটে। আশা করছেন ২০টি গরু বিক্রি করে ৪-৫ লাখ টাকা লাভ করবেন। গত বছর ১৫টি গরু এনেছিলেন এই বাজারে। যদিও সেবার গরু বিক্রি করে ৭০ হাজার টাকা লোকসান হয়েছিল তার।

ব্রেকিংনিউজ/ টিটি/ এসএ