যেভাবে অ্যাপস ডাউনলোড করে তথ্য নিবন্ধন করবেন নগরবাসী

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার
প্রকাশিত: ০৬:৩৭

যেভাবে অ্যাপস ডাউনলোড করে তথ্য নিবন্ধন করবেন নগরবাসী

ঢাকা মহানগরীতে বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়া তথ্য সংগ্রহ প্রক্রিয়া আরো সহজ, নির্ভূল ও দ্রুত করার লক্ষ্যে 'সিটিজেন ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম' (সিআইএমএস) মোবাইল অ্যাপস এর উদ্বোধন করেছেন ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া। এখন থেকে মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে ঢাকার বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়ারা নিজেরাই নিজেদের তথ্য সহজ, নির্ভূল ও দ্রুত ফরম পূরণ করতে পারবেন। এই তথ্য সরাসরি ডিএমপির সার্ভারে জমা হবে। এতে করে ডিএমপি পুলিশ নগরবাসীদের জন্য কোনও ম্যাসেজ দিতে চাইলে মোবাইলের ম্যাসেজে কিংবা ইমেলে দ্রুততার সাথে দিতে পারবে।

সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া ‘সিটিজেন ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ (সিআইএমএস) বা নাগরিক তথ্য ব্যবস্থাপনার পদ্ধতির একটি অ্যাপস উদ্বোধন করে।

সিআইএমএস নিবন্ধন করলে কাগজে-কলমে আর ফরম পূরণ করে থানায় জমা দেয়া লাগবে না। মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে একজন নাগরিক তার সকল তথ্য সিআইএমএস মাত্র ৫ মিনিটে জমা দিতে পারবেন। এতে করে তাকে কোথাও যাওয়া লাগবে না। একটি ইন্টারনেট সংযুক্ত এন্ড্রোয়েড মোবাইলের সাহায্যে ফরম পূরণ করে জমা দিতে পারবেন।

যেভাবে তথ্য নিবন্ধন করবেন
প্রথমে Google Play Store এ গিয়ে  CIMS DMP লিখে সার্চ দিয়ে অ্যাপসটি ডাউনলোড করতে হবে। তারপর  login অপশনে নিজের ফোন নম্বর দিয়ে নিবন্ধনে ক্লিক করতে হবে। এরপর একটি ভেরিফিকেশন কোড আপনার প্রদত্ত মোবাইলে পাঠানো হবে। ভেরিফিকেশন কোড এ্যাকটিভ করে পাসওয়ার্ড সেট করে login করলে বিভিন্ন ক্যাটাগরি দেখতে পাবেন। এখান থেকে আপনার অপশনটিতে ক্লিক করলে একটি ফরম পাবেন। ফরমে প্রদত্ত ঘরে আপনার সকল তথ্য নির্ভূলভাবে পূরণ করে সাবমিট করলে আপনার কাজ শেষ। আপনার পূরণকৃত তথ্য সেন্ট্রাল ডাটাবেজে যুক্ত হওয়ার আগে থানার অফিসার ইনচর্জ আপনার প্রদত্ত তথ্য যাচাই বাছাই করে সঠিক থাকলে এ্যাপ্রুভাল দিলে CIMS এর মূল ডাটাবেজে আপনার তথ্য যুক্ত হবে। আর যদি কোন কারণে আপনার ফরম পূরণ অসম্পূর্ণ হয় বা তথ্যে ভূল থাকে সেক্ষেত্রে আপনার মোবাইলে এসএমএস দিয়ে জানানো হবে।

এ সময় আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার যে উদ্যোগ নিয়েছেন, এর বাস্তব একটি প্রয়োগ হচ্ছে ডিএমপির সিআইএমএস মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন। আজ থেকে অ্যাপটি গুগল প্লে-স্টোরে পাওয়া যাবে। নাগরিকরা অ্যাপটি নিজেদের স্মার্টফোনে ডাউনলোড করে ব্যবহার করতে পারবেন।

‘নাগরিক তথ্য সংগ্রহ আগে আমরা ম্যানুয়ালি করতাম। থানা পুলিশ বাড়ি বাড়ি গিয়ে নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ করত। পরে সব তথ্য যাচাই-বাছাই করে আমরা সিস্টেমে এন্ট্রি দিতাম। এতে লোকবল ও সময় দু'টিই বেশি লাগত। কিন্তু এখন এ অ্যাপের মাধ্যমে নাগরিকরা নিজেদের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তথ্য দিতে পারবেন। পরে থানা পুলিশের গ্রাউন্ড ভেরিফিকেশন করার পর এ তথ্য সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তবে এখন ম্যানুয়ালি ও ডিজিটালি দুইভাবেই নাগরিক তথ্য সংগ্রহের কাজ করা যাবে’, যোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ২০১৬ সালে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ করার প্রক্রিয়া শুরু করি৷ অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে বলছি, আজ পর্যন্ত ঢাকা মহানগরীর ৭২ লাখ নাগরিকদের তথ্য আমাদের এ সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এখন আমরা যে সিআইএমএস তথ্য ভাণ্ডার তৈরি করেছি। এতে নগরীতে কেউ নিজের পরিচয় লুকিয়ে বাসা ভাড়া নিতে বা বাসা তৈরি করতে পারেন না। কোনো বাসায় যদি অপরাধ করে অপরাধী পালিয়ে যান, তাহলে আমরা নাগরিক তথ্য ভাণ্ডারের মাধ্যমে তাকে সহজেই চিহ্নিত করতে পারি এবং তাকে গ্রেফতার করতে পারি।

‘২০১৬ সালের হলি আর্টিজানে মর্মান্তিক জঙ্গি হামলার পর ঢাকা মহানগরীতে তেমন কোনো বড় ধরনের জঙ্গি আস্তানা গড়ে ওঠেনি। এর অন্যতম কারণ, নাগরিক ডাটাবেস থাকার কারণে জঙ্গিরা ঢাকা শহরে বাসা ভাড়া নিতে পারেননি বা অবস্থান করতে পারেননি। জঙ্গি দমনে এ সিস্টেম যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া আমাদের অপরাধ ডিটেকশন এবং প্রিভেনশনের ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। এছাড়া টেন্ডারবাজি, ছিনতাই, রাহাজানি ও চাঁদাবাজি দমনে নাগরিক তথ্য ভাণ্ডার অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।’

ব্রেকিংনিউজ/টিটি/ এসএ