নিজেকে নির্দোষ দাবি ফিরোজের

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, শনিবার
প্রকাশিত: ০১:১৩

নিজেকে নির্দোষ দাবি ফিরোজের

রাজধানীর কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের সভাপতি ও কৃষক লীগ নেতা সফিকুল আলম ফিরোজ বলেছেন, “আমি কোনো অপরাধ করিনি। কেন ধরা হলো জানি না। আমি ক্লাবে খারাপ কোনো খেলার সঙ্গে জড়িত ছিলাম না।”

শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে র‌্যাবের অভিযানে গ্রেফতারের পর গণমাধ্যমের সামনে এভাবেই তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছিলেন তিনি। এই অভিযানে মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করে র‍্যাব।

সফিকুল বলেন, “আমি নির্দোষ। কেনো আটক হলাম জানি না। কিছু তাস ছিল আমার রুমে। কোথা থেকে ইয়াবা এলো জানি না।”

তিনি দাবি করেন, তিনি এসব ক্যাসিনো খেলা বা ইয়াবা সেবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না।

তবে র‌্যাব-২ এর অধিনায়ক সাংবাদিকদের বলেন, “অবৈধ জিনিসসহ গ্রেফতার হলে সবাই এসব কথা বলে।”

আটকে উপরের কোনো নির্দেশ ছিল এমন প্রশ্নে সফিকুল বলেন, “আমি জানি না। তবে আমাকে আটক দেখানো হয়েছে।”

অভিযানে গ্রেফতার বাকি চারজন হলেন- হাফিজুল ইসলাম, মো. হারুন, আনোয়ার হোসেন ও লিটন মিয়া।

র‍্যাব-২ এর সিও আশিক বিল্লাহ বলেন, কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের অফিসে দুপুরের পর থেকে র‍্যাব-২ এর সদস্যরা অবস্থান নেয়। আমাদের কাছে তথ্য ছিল ক্রীড়া চক্রের ব্যানারের আড়ালে এখানে বিভিন্ন অনুমোদনহীন কার্যক্রম পরিচালনা হয়ে আসছিল। এই খবরের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, অভিযানে আমরা জুয়া খেলায় ব্যবহৃত বিভিন্ন কয়েন, আমেরিকান গোল্ডেন কার্ড ৫৭২ প্যাকেট, বিদেশি একটি পিস্তল, ৩ রাউন্ড তাজা গুলি এবং সম্পূর্ণ নতুন ধরণের হলুদ রঙের ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়, যা আগে কখনো দেখা যায়নি।

তিনি আরো বলেন, আমরা ধারণা করছি পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে এখান থেকে ক্যাসিনো’র মূল সামগ্রী সরিয়ে ফেলা হয়েছে অথবা খেলা করার জন্য এসব আনা হয়েছে। তবে ক্যাসিনো খেলার কয়েনসহ অনেক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

আশিক বিল্লাহ বলেন, কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের সভাপতি শফিকুল আলম ফিরোজসহ পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়। বাকি চার জন এখানের স্টাফ। 

তিনি বলেন, তাদের বিরুদ্ধে ধানমন্ডি থানায় মাদক ও অস্ত্র আইনে মামলা করা হবে।

এর আগে অস্ত্র, বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও ১৬৫ কোটি ৮০ লাখ টাকার এফডিআর সহ যুবলীগ নেতা জি কে শামীমকে আটক করে র‍্যাব।

তার আগে অবৈধ জুয়া ও ক্যাসিনো চালানোর অভিযোগে র‌্যাবের হাতে আটক হয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ মহানগর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। অস্ত্র ও মাদকের পৃথক দুই মামলায় তাকে সাত দিনের রিমান্ডেও পেয়েছে পুলিশ।

সম্প্রতি ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কয়েকজন নেতার বিষয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার পরই ছাত্রলীগের পদ হারান শোভন-রাব্বানী।

ব্রেকিংনিউজ/টিটি/এমজি