ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে যুগ্ম সচিবের বিরুদ্ধে মামলা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৮ অক্টোবর ২০১৯, শুক্রবার
প্রকাশিত: ০৭:১১ আপডেট: ১১:৫৯

ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে যুগ্ম সচিবের বিরুদ্ধে মামলা

শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ এনে এক যুগ্ম সচিবসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে পিটিশন মামলা হয়েছে। 

বুধবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইবুনাল ১ আদালতে এক নারী বাদী হয়ে এ মামলা করেন। (মামলা নং -১২৭/২০১৯)। 

আসামিরা হলেন- আব্দুল খালেক (৫৩), অন্তর (৩৫), আবু বক্কর প্রধান (৪৫), রবিউল ইসলাম রবি (৩৮), মিল্টন (৪০)।

থানা পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলায় মূল অভিযুক্ত আব্দুল খালেক স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের (ইউপিইএইচডিপি) প্রকল্প পরিচালক (যুগ্ম সচিব)।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ সেপ্টেম্বর জুমা খাতুন চাকরির খোঁজে ঢাকার সায়েদাবাদ জনপথ মোড়ে একটি প্রতিষ্ঠানে আসেন। সেখান থেকে ফেরার পথে ভুক্তভোগী জুমা’র পূর্ব পরিচিত আসামি অন্তর ও আবু বক্করের সঙ্গে দেখা হয়। তারা জুমাকে সিটি কর্পোরেশনে একটি ভালো চাকরি পাইয়ে দেবার আশ্বাস দিয়ে একজন বড় স্যারের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে জুমাকে বংশালের সিদ্দিক বাজার এলাকায় এলাহি ভবনে নিয়ে যায়।

সেখানে যাওয়ার পর ভবনের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে একটি 
কক্ষে জুমাকে আটকে রেখে ভয়ভীতি দেখিয়ে ১ লাখ টাকা দাবি করে। কিছুক্ষণ পরে ওই কক্ষে রবিউল ও মিল্টন এসে জানায়, তাদের বড় স্যার আব্দুল খালেক আসতেছেন। আব্দুল খালেক আসার পর তারা জুমাকে আব্দুল খালেকের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বলেন, স্যারকে খুশি করতে পারলেই তোর চাকরি হয়ে যাবে। একথা বলে তারা সঙ্গে সঙ্গেই রুম থেকে বেরিয়ে আসে। এরপর আব্দুল খালেক জুমাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ সময় জুমা আত্নরক্ষার চেষ্টা করলে তাকে চর-থাপ্পর ও কিলঘুষি মেরে চলে আসে আব্দুল খালেক। এ বিষয়ে মুখ খুললে তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেয়া হয়।

ওই ঘটনার পর বংশাল থানায় মামলা করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন। পরে আদালতে মামলা দায়ের করেন তিনি।

বংশাল থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মামলাটি দায়েরের পর তদন্ত করার জন্য বংশাল থানাকে তদন্তে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। 

মামলাটি তদন্ত করছেন বংশাল থানার ইন্সপেক্টর (ওসি তদন্ত) মীর রেজাউল ইসলাম।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমি আজই হাতে মামলার নথি পেয়েছি। মামলার মূল অভিযুক্ত আব্দুল খালেকসহ অপরাপর আসামিদের কার কি পরিচয়, অভিযোগের ব্যাপারে কার কি ভূমিকা এবং ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হয়ে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে।

মামলায় মূল অভিযুক্ত স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের (ইউপিইএইচডিপি) প্রকল্প পরিচালক আব্দুল খালেক বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আদালতে নালিশ হয়েছে। বংশাল থানা এনকুয়ারি করছে। আইনি নালিশ আমি আইনগতভাবেই মোকাবেলা করবো। 

তিনি বলেন, ‘এতোটুকু বলবো, বাদীকে আমি চিনি না। কেনইবা আমার বিরুদ্ধে এমন মিথ্যা অভিযোগ করেছেন বুঝতে পারছি না’।

ব্রেকিংনিউজ/টিটি/এসএসআর