সংবাদ শিরোনামঃ
bnbd-ads
bnbd-ads

ইডেনের সাবেক অধ্যক্ষ হত্যায় ২ গৃহকর্মীকে খুঁজছে পুলিশ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, সোমবার
প্রকাশিত: ১১:২১ আপডেট: ১২:৫৫

ইডেনের সাবেক অধ্যক্ষ হত্যায় ২ গৃহকর্মীকে খুঁজছে পুলিশ

রাজধানীর ইডেন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মাহফুজা চৌধুরী পারভীন হত্যার ঘটনায় তার দুই গৃহকর্মীকে খুঁজছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে বাসায় থাকা তিন গৃহকর্মীর মধ্যে দুই জনই পলাতক আছেন।    

সোমবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপির) রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার ব্রেকিংনিউজকে জানান, তাদের আটকের জন্য বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালানো হয়েছে।
 
তিনি বলেন, ওই ঘটনার পর বিকেল ৫টার দিকে তারা পালিয়ে যায় এরপরই তাদের ধরার জন্য বিভিন্ন জায়গায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গতকাল (রবিবার) সারা রাতই অভিযান চলে। আশা করছি দ্রুতই তাদের আটক করা সম্ভব হবে।

এ ঘটনায় মামলার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে জানিয়ে উপ-কমিশনার বলেন, তার পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হতে পারে এই ঘটনাটি পুলিশ ছাড়াও র‍্যাব ছায়াতদন্ত করছে।

পলাতক দুই গৃহকর্মী হলেন- স্বপ্না ও রেশমা। স্বপ্নার বয়স আনুমানিক ৩৬, রেশমার বয়স আনুমানিক ৩০ বছর। স্বপ্নার বাড়ি ফরিদপুরের বোয়ালমারী ও রেশমার বাড়ি কিশোরগঞ্জে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ দুজনকে ধরতে পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও তৎপরতা চালাচ্ছে।

রবিবার (১০ ফেব্রুয়ায়রি) বিকেলে নিজের বাসায় খুন মাহফুজা চৌধুরী পারভীন। এলিফ্যান্ট রোডের সুকন্যা টাওয়ারের বাসায় থাকতেন তিনি। এ ঘটনার পর তার বাসার দুই গৃহকর্মী স্বপ্না ও রেশমা পালিয়ে যান। পুলিশ খুনি হিসেবে প্রাথমিকভাবে তাদের সন্দেহ করছে।

মাহফুজা চৌধুরীর স্বামী ইসমত কাদির গামা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান। মাহফুজা চৌধুরী ২০০৯ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ইডেন কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন। সুকন্যা টাওয়ারের ১৫ ও ১৬ তলায় দুটি ফ্ল্যাটে (ডুপ্লেক্স) এই দম্পতির বহুদিনের সংসার। ওপরের অংশটিতে তারা থাকেন। নিচতলায় রান্নাঘর, গৃহকর্মীদের আবাস।

নিউ মার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, ওই বাসায় তিন জন গৃহকর্মী কাজ করত। তাদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব নারীটি বাসায় আছেন। বাকি দুইজনকে পাওয়া যাচ্ছে না।

মাহফুজা চৌধুরীকে ১৬ তলায় তার বিছানায় মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তার মুখে বালিশচাপা ছিল। বিছানায় ধস্তাধস্তির চিহ্ন পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ঘুমন্ত অবস্থায় মুখে বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার পর দুই গৃহপরিচারিকা আলমারি থেকে মূল্যবান কিছু নিয়ে গেছে। ঘটনার পর ওই বাসায় গিয়ে ইসমত কাদির গামাকে পাওয়া যায়।’

ওসি সাংবাদিকদের বলেন, ‘সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ১৬ তলার দরজা দিয়ে বাসায় ঢুকতে গিয়ে দেখেন ভেতর থেকে বন্ধ। পরে নিচে নেমে অনেক ডাকাডাকির পর বৃদ্ধা গৃহকর্মী দরজা খুলে দেন। দুই গৃহকর্মী স্ত্রীকে হত্যার পর টাকা-স্বর্ণালঙ্কার লুটে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন ইসমত কাদির গামা।’

বাসায় ঢুকে খাটের ওপর স্ত্রীকে শুয়ে থাকতে দেখেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দেখি তার পা খাট থেকে ঝুলে আছে। পরে ঘটনা বুঝতে পারি।

ঘরের আলমারি খোলা দেখতে পান জানিয়ে গামা বলেন, ‘আলমারি বেশ বড় অংকের টাকা ছিল সেগুলো নিয়ে গেছে। আর ওই গৃহকর্মীদের ছবি তোলা হয়েছিল একটি মোবাইলে, সেই মোবাইলটাও নিয়ে গেছে।’

বাসায় থাকা গৃহকর্মীর বরাত দিয়ে তিনি বলেন, আমরা আছি, তুমি ঘুমাও- ওই দুইজনের এই কথায় তিনি ১৫ তলার একটি ঘরে ঘুমিয়েছিলেন জানান ওসি।

ব্রেকিংনিউজ/টিটি/ এসএ 

bnbd-ads
bnbd-ads