চাকুরিচ্যুত শ্রমিকদেরকে চাকুরিতে পুনর্বহালের দাবি

স্টাফ ক‌রেসপ‌ন্ডেন্ট
১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: ০৩:৩৮ আপডেট: ০৩:৩৯

চাকুরিচ্যুত শ্রমিকদেরকে চাকুরিতে পুনর্বহালের দাবি

গার্মেন্টস শিল্পে ঘোষিত মজুরিকে কেন্দ্র করে গত বছরের ডিসেম্বর এবং চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে শ্রমিকদের বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে বিভিন্ন কারখানার মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেফতাকৃতদের অবিলম্বে মুক্তি এবং গণহারে চাকুরিচ্যুত শ্রমিকদেরকে চাকুরিতে পুনর্বহাল করার দাবি জা‌নি‌য়ে‌ছে ইন্ডাষ্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিল-আইবিসি।

মঙ্গলবার (১২ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লা‌বের আব্দুস সালাম হ‌লে আ‌য়ো‌জিত সংবাদ স‌ম্মেল‌নে তারা এ দা‌বি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইন্ডাষ্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিল-আইবিসির মহাসচিব সালাউদ্দিন স্বপন।  তি‌নি ব‌লেন, ‘সরকার কর্তৃক ঘোষিত নিম্নতম মজুরি নিয়ে পোশাক শিল্পের শ্রমিকরা গত ১০ ডিসেম্বর ২০১৮ হইতে ১৩ জানুয়ারি ২০১৯ পর্যন্ত পোশাক শিল্প অঞ্চলগুলোতে শ্রমিকদের মধ্যে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন গুলোতে এবং পর্যায়ক্রমে উহা মারাক্তক আকার ধারণ করে। যার পরিপেক্ষিতে সমস্যাসমুহ চিহ্নিত করণ এবং উহা সমাধানে প্রয়োজনীয পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে গত ৮ জানুয়ারি সরকারের শ্রম মন্ত্রনালয় শ্রম সচিবকে প্রধান করে ১২ সদস্য বিশিষ্ট একটি ত্রিপক্ষীয় কমিটি গঠন করেন। উক্ত কমিটি গত ১০,১২ এবং ১৩ জানুয়ারী ধারাবাহিক সভায় মিলিত হয়ে সংকট সমাধানে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে ঐক্যমতে পৌঁছান। যদিও উক্ত সিদ্ধান্ত শ্রমিকদের পুরোপুরি প্রত্যাশা পুরণ করতে পারেনি তারপরও আমরা শ্রমিক সংগঠনসমুহ শিল্পের বৃহত্তর স্বার্থের কথা বিবেচনা করে গত ১৩ জানুয়ারির সংশোধিত মজুরির ঘোষণায় একমত পোষন করি এবং আমরা উপস্থিত শ্রমিক নেতৃবৃন্দ শ্রমিকদেরকে ১৪ জানুয়ারী থেকে কাজে যোগদানের অনুরোধ জানাই, শ্রমিকরা আমাদের অনুরোধে শান্তিপূর্ণ ভাবে কাজে যোগদান করেন।’

 তি‌নি আরও ব‌লেন, ‘শ্র‌মিকরা কা‌জে যোগদান কর‌বে এমন সময় মালিকরা আন্দোলনের বিপদ থেকে মুক্তি পেয়েই শ্রমিকদের উপর মামলা, হামলা, গ্রেফতার এবং চাকুরি হতে গণহারে বহিষ্কারের মহা উৎসব শুরু করেন। যার ফলে এ পর্যন্ত সাভার আশুলিয়া এবং গাজীপুরের বিভিন্ন থানায় ৩৪ টি মামলায় প্রায় ৩৫০০ জন শ্রমিককে আসামি করা হয়েছে, ইতোমধ্যে শতাধিক শ্রমিককে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ৯৯ টি কারখানা কর্তৃপক্ষ প্রায় ১১ হাজার শ্রমিককে বিভিন্ন পন্থায় চাকুরিচ্যুত করেছেন। যাহা পোশাক শিল্পের এ সংক্রান্ত অতীতে ঘটে যাওয়া সকল রেকর্ড অতিক্রম করেছে।’

লিখিত বক্তব্যে তি‌নি ব‌লেন, ‘শুধু মামলা হামলা ক‌রে ক্ষান্ত হয় নাই । বিজিএমইএ ইতোমধ্যে শ্রমিকদের ডাটাবেইজ কার্যক্রম শুরু করেছেন এবং বিজিএমইএ এর তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে প্রায় ৩৫ লক্ষ শ্রমিককে ডাটাবেইজ এর আওতায় আনা হয়েছে। আমরা বিজিএমইএ এর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। কিন্তু ডাটাবেইজ’কে যদি শ্রমিকদের বিরুদ্ধে পুনঃচাকুরি নেয়ার ক্ষেত্রে বিধি-নিষেধ হিসাবে ব্যবহার করা হয় তা হলে আইবিসি তা মেনে নিবে না।’

 সালাউদ্দিন স্বপন বলেন, ‘এদি‌কে বিভিন্ন কারখানার মালিক চাকুরিচ্যুত শ্রমিকদের তালিকা করে ছবিসহ সংস্লিষ্ট ওয়েব সাইটে দিয়ে দিচ্ছেন, যার ফলে অনেক শ্রমিককে অন্য কারখানায় চাকুরিতে নিচ্ছে না। এ অবস্থা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে পোশাক শিল্পের শ্রমিকরা ট্রেড ইউনিয়ন শব্দটি মুখে আনতেও সাহস পাবে না এবং মালিকরা এ সুযোগে সে কাজটিকেই পাকাপোক্ত করার চেষ্টা করছেন। শ্রম অসন্তোষকে পুঁজি করে পোশাক শিল্পের মালিকেরা শ্রমিকদেরকে বিভিন্ন কায়দায় অমানুষিক ভাবে নির্যাতন করে যাচ্ছেন। যাহা কোনভাবেই গ্রহনযোগ্য না। আমরা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে চাই, নিরাপরাধ কোন শ্রমিক একক বা দলগতভাবে অবৈধভাবে চাকুরিচ্যুত বা কালো-তালিকাভুক্ত করে জীবন-জীবিকার পথ রুদ্ধ করা মানবাধিকারের পরিপন্থি।’ 

এ সময় তারা কিছু দা‌বি তু‌লে ধ‌রেন। দা‌বি গু‌লো হ‌লো:

১। সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।
২। গ্রেফতারকৃত শ্রমিকদের মুক্তি দিতে হবে।
৩। চাকরিচ্যুত সকল শ্রমিকদেরকে কাজে পুনর্বহাল করতে হবে।
৪। শ্রমিকদের বিরুদ্ধে সকল ধরণের নিপিড়ন-নির্যাতন বন্ধ করতে হবে।
৫। মজুরির গেজেট প্রকাশের পর থেকে প্রোডাকশনের নামে টার্গেট দিয়ে চলমান শ্রমিক হয়রানি বন্ধ করতে হবে। 
 
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আইবিসির চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান আমিরুল হক আমিন, আইবিসির সাবেক মহাসচিব মো. তৌহিদুর রহমান, কুতুব উদ্দিন আহমেদ, বাবুল আক্তার, আইবিসির কেন্দ্রীয় নেত্রী নাজমা আক্তার প্রমুখ।

‌ব্রে‌কিংনিউজ/এএইচএস/জেআই