ফরিদপুরের আ.লীগ নেতা বরকত ও রুবেলকে দুদকে জিজ্ঞাসাবাদ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২০ আগস্ট ২০১৯, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: ০৯:২১ আপডেট: ০৯:২১

ফরিদপুরের আ.লীগ নেতা বরকত ও রুবেলকে দুদকে জিজ্ঞাসাবাদ
বামে বরকত, ডানে রুবেল

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও তার ভাই ইমতিয়াজ হাসান রুবেলকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন অভিযোগের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক আলী আকবর। সকাল সাড়ে ১১ টা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত দুই দফায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। 

এর আগে বরকত ও রুবেলকে চিঠি দিয়ে তলব করা হয়।

অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা আলী আকবর বলেন, ‘অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে তাদের দুজনকে (বরকত ও রুবেল) দুই দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তারা সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে দুদক কার্যালয়ে আসলে প্রথমে সাজ্জাদ হোসেন বরকতকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেয়া হয়।’

দুদক সূত্র জানায়, ‘বরকতকে সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এসময় তার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বিপুল সম্পদ অর্জন, ফরিদপুরের এলজিইডি, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, নদী গবেষণাসহ সরকারি বিভিন্ন সেবাখাতের অফিসের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, কমিশন আদায়, পরিবহনখাতে চাঁদাবাজি, মাদক বাণিজ্য, জমি দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়।’

সূত্র জানায়, পরে বেলা ২টার দিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইমতিয়াজ হাসান রুবেলকে নেয়া হয়। তাকে বেলা সাড়ে চারটা পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার বিরুদ্ধেও অবৈধভাবে বিপুল স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জন, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, জমি দখল, বালুমহাল দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। তার কাছেও এসব অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। 

জানতে চাইলে দুদকের উপ-পরিচালক আলী আকবর বলেন, ‘তাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ রয়েছে তার আলোকে বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে। তারা কিছু তথ্য দিয়েছেন। অনুসন্ধানের প্রয়োজনে আবারও ডাকা হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘অনুসন্ধানের জন্য নিয়ম ৪৫ কর্মদিবস সময় আছে। আশা করি এর মধ্যেই কাজ শেষ করতে পারবো। যদি প্রয়োজন হয় তাহলে আরও ৩০ কর্মদিবস নেয়া যাবে।’

এর আগে গত ১ মে দুদকের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের এক চিঠিতে দুদকের ফরিদপুর জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আবুল কালাম আজাদকে অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। গত ২০ মে অনুসন্ধানী কর্মকর্তা চিঠি দিয়ে বরকত ও রুবেলকে দুদকে তলব করে। ২২ মে তারা ফরিদপুর দুদক কার্যালয়ে হাজির হন। 

দুদক সূত্রে জানায়, দুদক কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে বরকত ও রুবেলের সখ্যের অভিযোগ ওঠে। গত রমজান মাসে তাদেরকে একসঙ্গে ইফতার পার্টিসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেখা যায়। সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে পরে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদকে অব্যাহতি দিয়ে অনুসন্ধান কাজ ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। দায়িত্ব দেয়া হয় দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক আলী আকবরকে। 

অনুসন্ধান কাজ তদারকির দায়িত্বে আছেন দুদকের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক আক্তার হোসেন। তিনি বলেন, ‘সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের জন্য অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়েছে। অনুসন্ধান চলছে। অগ্রগতি সম্পর্কে এখন বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়।’


ব্রেকিংনিউজ/টিটি/জেআই