bnbd-ads
bnbd-ads

যশোরে মেম্বারের হামলায় ৬ জন আহত

মহসিন মিলন, বেনাপোল প্রতিনিধি
২৩ এপ্রিল ২০১৯, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: ০৭:৫০ আপডেট: ০৭:৫১

যশোরে মেম্বারের হামলায় ৬ জন আহত
ফাইল ছবি

যশোরের শার্শা উপজেলার নাভারণ ইসলামপুর গ্রামের ঢাকা পাড়ায় গ্রাম্য শালিসের নামে দাবিকৃত টাকা না দেয়ায় ইউপি সদস্য মুজিবর রহমান পিটিয়ে জখম করেছে ৬ জন গ্রামবাসীকে। এ নিয়ে গ্রামে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।  

আহতরা হলেন- নাভারণ ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের  ইসলামপুর গ্রামের ঢাকা পাড়ার জুলহাসের স্ত্রী রেহেনা বেগম, ছেলে রানা হোসেন (২৮) ও রনি হোসেন (২৫) এবং ঐ একই গ্রামের তাহেরের ছেলে ইলিয়াস (১৯), হিরার ছেলে রাকিব হোসেন (২২), আজিম উল্লাহর ছেলে শাহিন (১৮)। আহতদের মধ্যে রনির অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গিয়াস উদ্দিনের ছেলে বাপ্পী (১৯) গত ১৯ তারিখ শুক্রবার ইসলামপুর গ্রামের রোস্তম মোল্লার ছেলে হাবিল (৩০) ও রনির (২৫) বিরুদ্ধে ঝিকরগাছা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয় তারা নেশাগ্রস্থ অবস্থায় তাকে মারধর করে।  অভিযোগের পর একই এলাকার কালু ও শহিদুল মিলে কৌশলে রানা ও রনিকে তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়েছে বলে জানায়। 

টাকা-পয়সা দিলে তারা মামলা উঠিয়ে নেবে বলে চাপ দিতে থাকে। এক পর্যায়ে সোমবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে দিকে নাভারণ ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলীর ছেলে মুজিবর রহমান স্থানীয়ভাবে বিচার-সালিশের আয়োজন করে। বিচারে ইউপি সদস্য মুজিবর রহমান, রানা ও রনিকে বেধড়ক মারপিট শুরু করে। পরে ইউপি সদস্য মুজিবর রহমানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত বাপ্পী, হাবিল, আলমগীর হোসেন, হেদায়েত হোসেন, মিন্টু, মিজান, সজল, সহ আরও অনেকে তাদের ওপর হামলা চালায়। পরে রনিকে বাঁচাতে গ্রামের অন্যরা এগিয়ে আসলে তাদের ওপরও হামলা চালায়।

হামলায় রনিকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রানাকে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে ও অন্যান্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা নিয়েছে। 

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, ‘ইউপি সদস্য মুজিবর রহমান সবকিছুর জন্যই দায়ী। আহতদের হুঁমকি-ধামকি দিচ্ছে মামলায় যেন তাকে জড়ানো না হয়। জড়ালে তাদেরকে হত্যা করা হবে।’
  
ঢাকা পাড়ার শহীদুল ইসলাম জানান, ইউপি সদস্য মুজিবর রহমান’র একটি দূর্ধর্ষ সন্ত্রাসী বাহিনী রয়েছে। প্রায়শই তারা গ্রামবাসীদের জিম্মী করে টাকা পয়সা হাতিয়ে নিচ্ছে। নিজেকে আওয়ামী লীগ নেতা পরিচয় দিয়ে গ্রামবাসীদের ভয় ভীতি দেখিয়ে আসছে।  

ঝিকরগাছা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমি মেম্বার মুজিবর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো। মেম্বার আইন হাতে নিতে পারে না। সে এটা করবে কেন? আমিতো আর মেম্বারকে দায়িত্ব দেই নাই যে, আপনি এটা করেন।’

ব্রেকিংনিউজ/এমএম/জেআই