গাইবান্ধায় বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধে ধস, পাউবো’কে দায়ী করছে এলাকাবাসী

মিলন খন্দকার, গাইবান্ধা প্রতিনিধি
১৪ জুলাই ২০১৯, রবিবার
প্রকাশিত: ০৮:৪৮

গাইবান্ধায় বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধে ধস, পাউবো’কে দায়ী করছে এলাকাবাসী

ব্রহ্মপুত্র নদীর পানির তোড়ে বাগুড়িয়া-সদ্দার পাড়ায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের প্রায় একশ ফিট ধসে গেছে। ফলে এলাকার প্রায় ৭ শতাধিক বাড়িঘর নিমজ্জিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে বিভিন্ন ধরনের ফসল ও ভেঙে গেছে কাঁচা ঘর-বাড়ি।

রবিবার (১৪ জুলাই) গাইবান্ধা সদর উপজেলার গিদারী ইউনিয়নের বাগুড়িয়া-সদ্দার পাড়ায় সকালে বাঁধটি ধসে যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডকে (পাউবো) কয়েক দফায় জানিয়েও শেষ রক্ষা পাননি তারা। যদি পাউবো সময় মতো বাঁধটি মেরামত করতো, তাহলে এলাকাবাসীর সর্বনাশ হতো না।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বুক পানিতে তলিযে গেছে ঘর-বাড়ি ও ফসলাদি। লোকজন কোনো মতো তাদের গবাদী পশু ও কাঁথা-বালিশ নিয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয়ের জন্য মালামাল স্থুপ করে রেখেছে। কোথায় যাবে তার কোনও ঠিক-ঠিকানা নেই। এই হতাশায় এলাকার লোকজন ডুবে ডুবে তাদের ডুবন্তু ঘর থেকে যতটুকু পারেন মালামাল সরিয়ে নিয়ে আসছে।

এদিকে গাইবান্ধায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের অবহেলার কারণে গাইবান্ধায় ৭৮ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের প্রায় ৪০ কিলোমিটার ঝুকির মধ্যে পড়েছে। প্রতি কিলোমিটারে প্রায় ৭ থেকে ৮ জায়গায় বিভিন্ন ছোট ছোট গর্ত দিয়ে পানি বের হচ্ছে। 
 
এলাকাবাসীরা অভিযোগ করে বলেন, ‘বাঁধটি নির্মানের পর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে কোনও সংস্কার করা হয়নি। প্রতি বছর বন্যার সময় সমস্যা দেখা দিলে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় নামেমাত্র মেরামত করা হলেও বাঁধটি রক্ষায় স্থায়ী কোনও উদ্যোগ নেয়া হয় না।’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যানুয়ায়ী ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি ফুলছড়ি পয়েন্টে ৮৬ সেন্টিমিটার, ঘাঘট নদীর পানি শহরের ব্রিজরোড পয়েন্টে ৫৭ সেন্টিমিটার এবং তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে বিপদ সীমার ১৮ সেন্টিমিটার বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। 
অপরদিকে, পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে ফুলছড়ি উপজেলার উড়িয়া ইউনিয়নের উত্তর উড়িয়া, কাবিলপুর, গজারিয়া ইউনিয়নের কাতলামারী, গলনা, ফুলছড়ি ইউনিয়নের দেলুয়াবাড়ী, ফজলুপুর ইউনিয়নের পূর্ব খাটিয়ামারী, উজালডাঙ্গা, বাজে তেলকুপি, এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের হরিচন্ডি, জিগাবাড়ী, সন্যাসীর চর এবং সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর, কাপাসিয়া ও শ্রীপুর ইউনিয়নের বেশকিছু এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। গত এক সপ্তাহে এসব এলাকার চার শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। 

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান মুঠোফোনে জানান, নদীর পানি যে হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে ঘাঘট, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর বাঁধ হুমকির মুখে পড়বে। ঝুকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ভাঙন ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।

গাইবান্ধার ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক রোকসানা বেগম বলেন, ‘সাঘাটা, ফুলছড়ি, গাইবান্ধা সদর ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ২০০ মেট্রিক টন চাল ও দুই হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। শনিবার (১৩ জুলাই) থেকে বিতরণ শুরু হয়েছে। এছাড়া পানিবন্দি মানুষের জন্য আশ্রয় কেন্দ্রগুলো খুলে দেয়া হয়েছে।’  

ব্রেকিংনিউজ/জেআই