পাহাড়ি ঢলে সিরাজগঞ্জে ৯০০ গ্রাম প্লাবিত, ২১ হাজার পরিবার পানিবন্দি

জেলা প্রতিনিধি
১৮ জুলাই ২০১৯, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: ১০:২৬ আপডেট: ০১:০১

পাহাড়ি ঢলে সিরাজগঞ্জে ৯০০ গ্রাম প্লাবিত, ২১ হাজার পরিবার পানিবন্দি

সপ্তাহব্যাপী ভারি বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বিদপসীমার ৯১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গেল ২৪ ঘণ্টায় যমুনার পানি বেড়েছে ২৩ সেন্টিমিটার। আর তাতে করে নদী-সংলগ্ন জেলার কাজীপুর, সদর, বেলকুচি, এনায়েতপুর ও শাহজাদপুর উপজেলার চরাঞ্চলের অন্তত সাড়ে ৯০০ গ্রাম নতুন করে প্লাবিত হয়েছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ওইসব উপজেলার ফসলি জমি এরইমধ্যে যমুনার পানিতে তলিয়ে গেছে। প্রায় ২১ হাজার পরিবার পানিবন্দি জীবন যাপন করছে। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অনেকেই বাড়িঘর ফেলে পরিবার-পরিজন নিয়ে ছুটছেন ঢলের পানি ভেঙে। 

যমুনার প্রবল স্রোতে কাজীপুর উপজেলা পরিষদ নির্মিত রিং বাঁধের ৬০ মিটার এলাকা ধসে নতুন করে কিছু কিছু এলাকা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্লাবিত হচ্ছে। বহু মানুষ পরিবার ও গবাদি পশু নিয়ে বাঁধের উপর আশ্রয় নিয়েছে। অনেকেই বাঁধের ওপর ঝুপড়ি ঘর তুলে রাত যাপন করছেন। 

এরইমধ্যে কাজীপুর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য তানভীর শাকিল জয় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আবদুর রহিম জানিয়েছেন, যমুনার বাড়ি বেড়ে এখন পর্যন্ত ৫টি উপজেলার ৯৩৬টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ২১ হাজার ৫৫২ পরিবারের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। 

বন্যার্তদের বিতরণের জন্য ৪৯৪ টন চাল ও আট লাখ টাকা মজুদ রয়েছে। পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হলে এগুলো বিতরণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, গত মঙ্গলবার রাতে হঠাৎ বাঁধে ধস দেখা দেয়ায় নতুন করে গ্রামগুলো প্লাবিত হয়ে পড়েছে। বাঁধটি পানি উন্নয়ন বোর্ড, নির্মাণ করেছিল কাজীপুর উপজেলা পরিষদ। এখন সেটি সংস্কার করাও সম্ভব নয়। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এখন পর্যন্ত ঠিক আছে। 

এ ব্যাপারে কাজীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ হাসান সিদ্দিকী গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘পানির স্রোতের কারণে আমরা এখনই বাঁধটি মেরামত করতে পারছি না। তবে বন্যাকবলিত মানুষের প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী দেয়া হচ্ছে।’

ব্রেকিংনিউজ/এমআর

bnbd-ads