ত্রাণের ভাগ নিয়ে চেয়ারম্যান-মেম্বারের দ্বন্দ্ব!

মিলন খন্দকার, গাইবান্ধা প্রতিনিধি
২৩ জুলাই ২০১৯, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: ১০:৩৮

ত্রাণের ভাগ নিয়ে চেয়ারম্যান-মেম্বারের দ্বন্দ্ব!

‘সাতদিন হয় পানিত আচি ছোলপোল নিয়া,আচকা ঘরত কিচুই নাই,আতোত কি খামো।’ এভাবেই দুর্ভোগের কথা জানালেন বানভাসি গোলাপি বেগম।

তার বাড়ি গাইবান্ধার সদর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের আজম আলীর স্ত্রী।

গোলাপি বলেন, ‘বাড়িতে ছেলে মেয়েদের  আজ এই চালের ভাত পেট পুড়ে খাওয়ানোর কথা ছিল। কিন্তু বিধি বাম।’

গোলাপি বেগম ছাড়াও একই এলাকার এনামুলের স্ত্রী রুবিনা, নুরুলের স্ত্রী জাহেদা, নুরন্নবীর স্ত্রী  মিনা, হাবিজারের স্ত্রী ছকিনা বেগমসহ অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, গত শনিবার (২০ জুলাই) সকালে রহিম মেম্বার দশ কেজি করে ত্রাণের চালের স্লিপ হাতে দিয়ে চাল তুলে আনতে বলেন। সেই দিন থেকে ইউনিয়ন পরিষদে সকালে এসে বিকেলে বাড়ি ফিরতে হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারের মধ্য ভাগ নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। সে কারনে বানভাসিরা চারদিনেও স্লিপ থাকার পরেও চাল পাননি।

তবে ইউপি চেয়ারম্যান এমএ মাজেদ উদ্দিন খান আবদুল্লাহ ভাগ নিয়ে দ্বন্দ্বের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘২০ তারিখে আমার স্বাক্ষরিত সকল স্লিপের চাল বানভাসিদের ২১ তারিখেই বিতরণ করা হয়েছে। এই স্লিপধারী বানভাসিরা কেন চারদিনেও চাল পেলো না তা আমার বোধগম্য নয়।’

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য আব্দুর রহিম কথা বলতে রাজি হননি।

জানতে চাইলে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক আবদুল মতিন মুঠোফোনে বলেন, ‘ঘটনাটি অবশ্যই দুঃখজনক। স্লিপধারী বানভাসিদের মাঝে দ্রুত চাল বিতরণসহ কেনো এমন ঘটনা ঘটলো তা জানাতে ইউএনওকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

সদর উপজেলার ইউএনও উত্তম কুমার রায় সন্ধায় বলেন, ‘স্লিপ বিতরনের চারদিন পরেও বানভাসিরা কেন চাল পেলেন না, তা গুরুত্বের সাথে ক্ষতিয়ে দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থ্য নেয়া হবে। দ্রূত চাল বিতরণের ব্যবস্থ্য করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।’

ব্রেকিংনিউজ/জেআই