নাফিসার কামালের কণ্ঠ নকল করে ডিসি-এসপি-ওসিকে ফোন, অতঃপর...

কুমিল্লা প্রতিনিধি
২২ আগস্ট ২০১৯, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: ০৪:৫৭

নাফিসার কামালের কণ্ঠ নকল করে ডিসি-এসপি-ওসিকে ফোন, অতঃপর...

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের মেয়ে নাফিসা কামালের কণ্ঠস্বর নকল করে ফোন করেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, ওসি ও এসিল্যান্ডসহ শীর্ষ স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তাকে। হুবহু কণ্ঠস্বর নকল করে বেশকিছু তদবির করে তারা। শেষ স্বশরীরে থানায় তদবির করতে এসে গ্রেফতার হলেন দুই প্রতারক। তারা হলেন- কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের মোঃ শাহীন (৩০) ও মোঃ হারুন।

জোরারগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোজাম্মেল হক বলেন, ‘জোরারগঞ্জ থানায় একজনকে গ্রেফতারের তদবির করতে এসেছিল অভিযুক্ত শাহীন। অর্থমন্ত্রীর মেয়ে তাকে থানায় পাঠিয়েছে বলার পর আমাদের সন্দেহ হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারণার অনেক তথ্য বেরিয়ে আসে। আমরা শাহীন ও তার সহযোগীকে আটক করে সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের করি। এরপর মঙ্গলবার আদালতে হাজির করে তাদের তিন দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সে আমাদের ডিসি-এসপি-ওসি স্যারের সঙ্গেও প্রতারণা করেছে। সে মেয়েদের কণ্ঠস্বর খুব ভালো করে নকল করতে পারে। কণ্ঠস্বর নকল করে অর্থমন্ত্রীর মেয়ে সেজে সে অনেকের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।’

শুধু প্রশাসনের কর্মকর্তার নয়, গ্রেফতারের পর বেরিয়ে আসে আরও চাঞ্চল্যকার তথ্যও। তিনি জানান, ২০১৬ সালে শাহীন ‘তানিশা আক্তার’ নাম দিয়ে একটি ফেসবুক আইডি খোলেন। সেই আইডি মাধ্যমে পরিচিত হয় চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা দুবাই প্রবাসী দিদারুল আলমের সঙ্গে। দিদারুল ও তানিশার (শাহীন) মধ্যে ফেসবুকে বন্ধুত্বের একপর্যায়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তানিশা প্রথমে নিজেকে স্কুল শিক্ষিকা ও পরে ৩৬তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ‘মিরসরাইয়ের এসি ল্যান্ড’ পদে আছে বলে পরিচয় দেয়।

দিদারুলের কিছু জমি নিয়ে ঝামেলা মিটিয়ে দেয়ার নাম করে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় শাহীন ওরফে তানিশা। সম্প্রতি দিদারুল দেশে ফিরে আসেন এবং শাহীনের প্রতারণার বিষয়টি অবগত হন। এরপর থেকে দিদারুলকে গ্রেফতারের জন্য উঠেপড়ে লাগেন শাহীন।

বৃহস্পতিবার কণ্ঠস্বর নকল করে অর্থমন্ত্রীর মেয়ে পরিচয়ে প্রথমে এসপি ও এরপর জোরারগঞ্জ থানার ওসিকে ফোন করে শাহীন। এসপি বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে দেখার জন্য ওসিকে নির্দেশ দেন। এরপর শাহীন নিজেই তার এক সহযোগীকে নিয়ে তদবির করতে এসে ধরা পড়ে বলে জানান পুলিশ পরিদর্শক।

অভিযুক্ত শাহীনের বরাত দিয়ে পুলিশ পরিদর্শক বলেন, কণ্ঠস্বর নকল করে কুমিল্লার জেলা প্রশাসককে ফোন করে শাহীন বেশকিছু তদবির করে এবং জায়গা-জমি সংক্রান্ত সমস্যা সমাধান করে। কুমিল্লা ও মিরসরাইয়ের এসিল্যান্ডকেও সে একইভাবে কয়েকবার ফোন করে।

ব্রেকিংনিউজ/ এসএ