বন্যার্তদের ত্রাণ চুরি করে ধরা, বিক্রির টাকা ফেরত

মাজহারুল করিম অভি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
২৫ আগস্ট ২০১৯, রবিবার
প্রকাশিত: ১০:৫৮

বন্যার্তদের ত্রাণ চুরি করে ধরা, বিক্রির টাকা ফেরত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বন্যার্তদের জন্য আসা সরকারি চাল চুরি করে ধরা খাওয়ার পর টাকা ফেরত দিয়েছেন এক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান। 

চাল চরির অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি হলেন উপজেলার মনিয়ন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ কামাল ভূঁইয়া।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত ওই চেয়ারম্যানের পদত্যাগ অথবা আইনি প্রক্রিয়ার কোনো একটা পথ বেছে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক।

এদিকে স্থানীয়দের তোপের মুখে ওই চেয়ারম্যান চুরি করা চাল বিক্রির ৪৩ হাজার টাকা আখাউড়া পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক তাকজিল খলিফা কাজলের কাছে ফেরত দিয়েছেন। গত শুক্রবার চেয়ারম্যান টাকা ফেরত দেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি আখাউড়ার বিভিন্ন এলাকা বন্যায় প্লাবিত হয়। বন্যার্তদের সাহায্যার্থে কয়েক দফায় মনিয়ন্দ ইউনিয়নের জন্য ১০ টন চাল বরাদ্দ হয়। কিন্তু ওই পরিমাণ চাল বিতরণের মতো ক্ষতি ওই এলাকায় হয়নি। এই সুযোগটিই কাজে লাগান চেয়ারম্যান। 

এদিকে এলাকায় আলোচনা হয়, চেয়ারম্যান অন্তত চার-পাঁচ টন চাল আত্মসাত করেছেন। এ অবস্থায় মনিয়ন্দ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান আলমগীর ভূঁইয়া সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও আইনমন্ত্রী আনিসুল হককেও অবহিত করা হয়। ওই চেয়ারম্যানকে পদত্যাগ করা কিংবা আইনী প্রক্রিয়ার কোনো একটা পথ বেছে নেয়ার জন্য বলতে উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক ও পৌর মেয়রকে নির্দেশ দেন মন্ত্রী। এ অবস্থায় মন্ত্রীর নির্দেশ পেয়ে চেয়ারম্যানকে কথাটা জানিয়ে দেন মেয়র। গত শুক্রবার মেয়রের কাছে চাল বিক্রির ৪৩ হাজার টাকা দিয়ে যান চেয়ারম্যান।

খালেকুজ্জামান আলমগীর ভূঁইয়া জানান, মেয়রের কাছে চেয়ারম্যান কিছু টাকা ফেরত দিয়েছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন। ওই চেয়ারম্যান গত বছরও চাল বিতরণে নানা ধরণের অনিয়ম করেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।              

এ ব্যাপারে আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার রেইনা বলেন, চাল বিক্রির খবরটি বিভিন্নভাবে জানতে পারি। ওই চেয়ারম্যান পৌরসভার মেয়রের কাছে টাকা ফেরত দিয়েছেন বলে জানতে পেরেছি।

আখাউড়া পৌরসভার মেয়র মোঃ তাকজিল খলিফা বলেন, ‘ইউএনও’র কাছে দেয়ার জন্য ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কামাল ভূঁইয়া আমার কাছে শুক্রবার ৪৩ হাজার টাকা দিয়ে গেছেন। রবিবার ওই টাকা ইউএনও’র কাছে বুঝিয়ে দেয়া হবে।’

তবে মনিয়ন্দ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ কামাল ভূঁইয়া এ অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি টাকা ফেরত দেননি বলে জানান। এ বিষয়ে ফোনে না বলে সামনা সামনি বিস্তারিত বলবেন জানিয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

ব্রেকিংনিউজ/এসএসআর