গৃহবধূকে ধর্ষণ ও বিয়ে: পাবনার ওসি প্রত্যাহার, এসআই বরখাস্থ

জেলা প্রতিনিধি
১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: ০২:০৮ আপডেট: ০৩:৪০

গৃহবধূকে ধর্ষণ ও বিয়ে: পাবনার ওসি প্রত্যাহার, এসআই বরখাস্থ

পাবনায় গৃহবধূকে ধর্ষণের পর থানায় ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ে দেয়ার ঘটনায় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবায়দুল হককে প্রত্যাহার ও উপপরিদর্শক (এসআই) একরামুল হককে সাময়িক বরখাস্থ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পাবনা পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন। 

তিনি বলেন, ‘থানা কম্পাউন্ডে বিয়ে দেয়ার ঘটনায় ওসি ওবায়দুল হককে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। সেইসাথে কাজী ডেকে থানায় বিয়ে দেয়ার সংশ্লিষ্টতা থাকায় এসআই একরামুল হককে সাময়িক বরখাস্থ করা হয়েছে।’

ধর্ষণের ঘটনায় বুধবার রাতে অভিযান চালিয়ে আলী হোসেন ও সঞ্জু হোসেন নামে আরও ২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে এ মামলায় ৫ জন আসামির মধ্যে ৪ জনকে গ্রেফতার করা হলো।

উল্লেখ্য, পাবনা সদর উপজেলার সাহাপুর যশোদল গ্রামের এক গৃহবধুর সাথে মোবাইলে প্রেমের সর্ম্পক ছিল একই গ্রামের রাসেল হোসেন নামের এক যুবকের। গত ২৯ আগস্ট রাতে বিয়ের প্রলোভনে ডেকে নিয়ে গৃহবধূকে ধর্ষণ করে রাসেল ও তার সহযোগীরা। এ ঘটনায় গত ৫ সেপ্টেম্বর থানায় অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ।

কিন্তু মামলা নথিভুক্ত না করে মীমাংসা করতে অভিযুক্ত যুবক রাসেলের সাথে গৃহবধুকে বিয়ে দেয়ার অভিযোগ ওঠে সদর থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার হলে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন এবং ধর্ষণ মামলা নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেয় জেলা পুলিশ।

এ ঘটনায় সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ওই গৃহবধূকে থানায় ডেকে নিয়ে মামলা দায়ের ও অভিযুক্ত যুবক রাসেলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর বুধবার সকালে আরেক আসামি দাপুনিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম ঘন্টুকে গ্রেফতার করা হয়।

ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেয়ে ওসিকে প্রত্যাহার ও এসআইকে সাময়িক বরখাস্থ করা হয়।

ব্রেকিংনিউজ/এমআর