ফরিদপুরে হত্যার দায়ে ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড

জেলা প্রতিনিধি
১০ অক্টোবর ২০১৯, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: ০১:১৭ আপডেট: ০৩:১৫

ফরিদপুরে হত্যার দায়ে ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার উত্তর লোহারদিয়া গ্রামে পিকআপ চালক কেরামত হাওলাদার হত্যা মামলায় সাত আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে ফরিদপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক সেলিম মিয়া এ রায় দেন।

রায় ঘোষণার সময় সাত আসামির মধ্যে পাঁচজন উপস্থিত ছিলেন। সাজাপ্রাপ্তরা হলেন, মৃত আব্দুল মোল্যার ছেলে তোফা মোল্যা (২৬), আব্দুল মান্নান ফকিরের ছেলে পলাশ ফকির (৩২), সামছুল হক খালাসির ছেলে সিদ্দিক খালাসি (৩৬) , আব্দুল মালেক মাতুব্বরের ছেলে এরশাদ মাতুব্বর (৩২),  মৃত মোসলেমের ছেলে সুরুজ ওরফে সিরাজুল খাঁ (২৭), মৃত আব্দুল মালেক মাতুব্বরের ছেলে নাইম মাতুব্বর (৩৫),  গিয়াস উদ্দিন মোল্যার ছেলে আনু মোল্যা ওরফে আনোয়ার মোল্যা (২৮)। এদের সকলের বাড়ি ভাঙ্গা উপজেলা চান্দ্রা গ্রামে। এদের মধ্যে নাইম মাতুব্বর ও সুরুজ ওরফে সিরাজুল পলাতক রয়েছে। 

জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) দুলাল চন্দ্র সরকার জানান, ২০১৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর রাতে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার উত্তর লোহারদিয়া গ্রামের পিকআপ চালক কেরামত হাওলাদার নিখোঁজ হন। পরদিন ভোরে পার্শ্ববর্তী ছলিলদিয়া দিঘলকান্দা বিলের ভেতর থেকে কেরামতের গলা ও পেট কাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। 

এ ঘটনায় ১৫ ডিসেম্বর নিহতের ভাই ইকরাম হাওলাদার বাদি হয়ে ভাঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করে। পুলিশ মোবাইল ফোনের কললিষ্টের সূত্র ধরে তোফা মোল্লাকে আটক করলে সে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী বাকি আসামীদের পুলিশ আটক করে আদালতে সোপর্দ করে। মামলার দীর্ঘ শুনানী ও সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে আদালত বৃহস্পতিবার এ রায় ঘোষনা করেন।

তিনি এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী আবদুর রশিদ বলেন, তারা এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর কেরামত হাওলাদার রাতের খাবার খেয়ে নিজ কক্ষে ঘুমাতে যান। পরদিন সকালে তাকে আর ওই কক্ষে পাওয়া যায়নি। সকাল ১০টার দিকে তার লাশ স্থানীয় দীঘলকান্দা বিল থেকে গলা এবং পেট কাটা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। 

এ ঘটনায় তার ভাই ইসলাম হাওলাদার বাদী হয়ে ওই বছর ১৫ ডিসেম্বর অজ্ঞাতনামা লোকজনকে আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ফরিদপুরের উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুল হোসেন মোবাইল কললিস্টের সূত্র ধরে তোফা মোল্লাকে গ্রেপ্তার করেন। তিনি আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। পরে মনিরুল হোসেন ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে সাতজন হত্যাকাণ্ডে জড়িত উল্লেখ করে অভিযোগপত্র প্রদান করেন।

আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, হত্যা মামলার ৩০২/৩৪ ধারাটি বাদীপক্ষ এবং সাক্ষীরা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন। এ কারণে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

ব্রেকিংনিউজ/এম