রংপুর শহরে যত্রতত্র আবর্জনা : ভোগান্তিতে জনসাধারণ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, রংপুর
১০ অক্টোবর ২০১৯, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: ০৭:৪৪ আপডেট: ০৭:৪৪

রংপুর শহরে যত্রতত্র আবর্জনা : ভোগান্তিতে জনসাধারণ

রংপুর মহানগরীতে যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা আর অসংখ্য খোলা ডাস্টবিন। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে যেখানে সেখানে বর্জ্য ফেলছে মানুষ। সঠিক সময়ে অপসারণ না করার কারণে বর্জ্যের দুর্গন্ধে ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ। পাশাপাশি এতে বসবাসের স্বাভাবিক পরিবেশও বিনষ্ট হচ্ছে নগরীতে। 

সরেজমিনে নগরীর গুপ্তপাড়া, ইঞ্জিনিয়ারপাড়া, শাপলা চত্বর, গ্র্যান্ড হোটেল মোড়, সেন্ট্রাল রোড, শালবন, কামাল কাছনাসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় , গৃহস্থালীর ময়লা আবর্জনা এনে রাখা হচ্ছে বিভিন্ন্ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান , দোকনের সামনে এবং প্রধান সড়কের উপরে রাখা সিটি কর্পোরেশনের অসংখ্য খোলা ডাস্টবিনে। রাস্তার পাশে কুকুর মেরে ফেলে রাখা হয়েছে। এর পাশ দিয়ে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী এবং পথচারীদের   প্রতিনিয়ত চলাচল করতে হচ্ছে। এসব বর্জ্যের কারণে যেমন মানুষের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে, তেমনি পরিবেশ দুষিত হচ্ছে। এছাড়াও বিভিন্ন রোগ জীবানু ছড়াচ্ছে। একদিকে বৃষ্টি হলে বর্জ্য গুলো এমন ভাবে ছড়িয়ে যায় তখন রাস্তা চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পরে। অন্যদিকে এসব বর্জ্যের দুর্গন্ধে মানুষের স্বাভাবিক চলাচল দুর্বিসহ হয়ে উঠছে। 

সরকারি বেগম রোকেয়া কলেজের শিক্ষার্থী তুলি বলেন, আমাদের প্রতিনিয়ত এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হয়। এই রাস্তা দিয়ে আসা-যাওয়ার পথে দুর্গন্ধের কারণে নাকে রুমাল চেপে যেতে হয়। অনেক সময় বর্জ্যের দুর্গন্ধে বমি চলে আসে। 

বর্জ্যে অপসারণের কথা জানতে চাইলে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, অতিরিক্ত জনসংখ্যা এর জন্য দায়ী না। এটা হচ্ছে সচেতনতার অভাব। আমরা যদি ডাস্টবিনের ব্যবহার না জানি তাহলে এ সমস্যা সমাধান করা সম্ভব না। এভাবে সম্ভব না বলে, বাড়ি বাড়ি একটি করে ময়লা ঝুড়ি দেয়া হয়েছে। দেখা যায় কিছুদিন পর সেগুলো চুরি হয়ে যায়। রাস্তা পরিষ্কার করা হয় সকাল ১০ টায়। এর পর যদি আবার বাড়ি ঘর এবং দোকান ঝাড়ু দিয়ে রাস্তায় ফেলা হয় তাহলে রাস্তা পরিস্কার করে লাভ কী? কারণ আমরা সিডিউল অনুযায়ী কাজ করি। এই লেভেল গুলো মানুষের উন্নতি করতে হবে। 

এ পর্যন্ত তিনবার ব্যবসায়ী সমিতির সঙ্গে কথা বলা হয়েছে এ ব্যাপারে। মানুষ এখন আইন মেনে চলে না। মেডিকেলের বর্জ্য আর সাধারণ বর্জ্য এক নয়। মেডিকেলের বর্জ্যে যা থাকে সেগুলো স্বাস্থ্যের জন্য বেশি ক্ষতিকর। তাই মেডিকেলের বর্জ্য অপসারণের জন্য প্রীজম বাংলাদেশ নামে একটি এনজিও গত ১ অক্টোবর থেকে কাজ শুরু করেছে।

এছাড়া ময়লা অপসারণের জন্য ২৪ টি ট্রাক এবং ৭০ টি ভ্যান গাড়ি কে ৩ টি জোনে ভাগ করে দেয়া হয়েছে। ৩ হাজার ডাস্টবিন দেয়া হয়েছে কিন্ত দেখা যায় এর অর্ধেকই থাকে না। ৩ হাজার ডাস্টবিন দিয়ে হচ্ছে না, এখন আমাদের দরকার আরো ১ লাখ ডাস্টবিন। জনগণের সচেতনতা না থাকলে একার পক্ষে বর্জ্য অপসারণ করা সম্ভব না বলেও জানান তিনি।

ব্রেকিংনিউজ/এম