ভুয়া জন্মসনদ দেয় নাটাই ইউনিয়ন পরিষদ!

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
২৩ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার
প্রকাশিত: ০২:১১ আপডেট: ০২:১২

ভুয়া জন্মসনদ দেয় নাটাই ইউনিয়ন পরিষদ!

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ওয়ার্ড মেম্বার, চেয়ারম্যান ও সচিবের বিরুদ্ধে ভুয়া জন্মসনদ তৈরির অভিযোগ উঠেছে। শফিকুল ইসলাম (৪৮) নামের এক অজ্ঞাত ব্যক্তির একটি ভুয়া জন্মসনদ তৈরি করে সদর উপজেলার নাটাই ইউনিয়ন পরিষদ। নাটাই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ রতনের স্বাক্ষরকৃত জন্মসনদের তথ্য যাচাইয়ের কাগজে ‘১৪ অক্টোবর ইস্যুকৃত জন্মসনদে’ উল্লেখ রয়েছে নরসিংসার ৪ নং ওয়ার্ডের মন্তাজ মিয়া ও মমতাজ বেগম দম্পত্তির ছেলে শফিকুল ইসলাম।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, অত্র সদর উপজেলার নাটাই দক্ষিণ ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড নরসিংসার গ্রামের মন্তাজ মিয়া ও মমতাজ বেগম নামের দম্পত্তির শফিকুল ইসলাম (৪৮) নামের কোনো পুত্র সন্তান নেই। ভুতুরে ভুয়া জন্মসনদে উল্লেখকৃত নরসিংসার গ্রামের শফিকুল ইসলাম নামের লোকটি কিভাবে মন্তাজ মিয়ার ছেলে হলো প্রশ্নটি এখন গ্রামের সকল জনসাধারণের মুখে মুখে।

অনুসন্ধান ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, মন্তাজ মিয়া নামে চারজন ব্যক্তি নরসিংসার গ্রামে থাকলেও তারা সবাই মৃত। এ চারজন ব্যক্তির মধ্যে নরসিংসার গ্রামের উত্তর পাড়ার মাজার সংলগ্ন বাড়ির মো. মন্তাজ মিয়ার কোনো ছেলে নেই, একটি মাত্র মেয়ে নাম সাদিয়া হাসান। দক্ষিণ পাড়ার মো. মন্তাজ মিয়ার ৪ ছেলে ও ২ মেয়ে। ছেলেদের নাম শহীদ আলী, খোরশেদ মিয়া, হরমুজ আলী ও কালু মিয়া। পূর্ব পাড়ার মো. মন্তাজ মিয়ার ৩ ছেলে, তবে ৩ জনই মৃত। ছেলেদের নাম তাহের মিয়া, কাশেম মিয়া ও মুছা মিয়া। এদিকে আলগা পাড়ার মো. মন্তাজ মিয়ার ৩ ছেলে ও ১ মেয়ের মধ্যে ২ ছেলেই মৃত। ছেলেদেরে নাম মৃত আব্দুল হামিদ, জীবিত জারু মিয়া ও মৃত জামাল মিয়া। এলাকাবাসী ধারণা করছেন, শফিকুল ইসলাম নামের ভুয়া জন্মসনটি তৈরি করা হয়েছে শুধুমাত্র ইউপি চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত), ৪নং ওর্য়াড মেম্বার (পুরুষ), ৪,৫,৬নং ওর্য়াড মেম্বার (মহিলা) ও ইউনিয়নের সচিবসহ অজ্ঞাত কোনো এক দালালের যোগসাজসে।

ভুয়া নামের এই জন্মসনদটিতে উল্লেখ রয়েছে অজ্ঞাত ব্যক্তির জন্ম ১৯৬৯ সালের ৬ এপ্রিল এবং জন্মসনদের ইস্যুকৃত তারিখ চলতি মাসের ১৪ অক্টোবর। দীর্ঘ ৪৮ বছর পর একটি ব্যক্তির জন্মসনদ কিভাবে তৈরি করে এবং এতদিন তিনি কোথায় ছিলেন তা বোধগম্য নয়।

এদিকে নাটাই দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জন্মসনদটি তৈরি করা হয়েছে এবং অনলাইনে খোঁজ করেও এর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। নাটাই ইউনিয়ন পরিষদ থেকেই হয়েছে একথা চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য ও সচিবসহ সবাই স্বীকার করলেও কে অথবা কার মাধ্যমে হয়েছে তা কেউ বলতে পারছেন না। তবে স্থানীয় এলাকাবাসী ও সুশীল সমাজ মনে করছেন ভুয়া নামের এই ব্যক্তিটি রোহিঙ্গা অথবা আইএস এর সদস্যও হতে পারে।

এ বিষয়ে আলাপকালে নরসিংসার গ্রামের মোহাম্মদ আলী (৫৫) জানান, মন্তাজ মিয়ার ছেলে শফিকুল ইসলাম নামের কোনো ব্যক্তি এই গ্রামে নাই। যে এই কাজটা করেছে তাকে ধরে উপযুক্ত শাস্তি দিলে এমন কাজ আর কেউই করতে সাহস পাবে না।

একই গ্রামের রফিকুল ইসলাম (৫২) নামের আরেক ব্যক্তির সাথে আলাপকালে জানান, মন্তাজ মিয়ার ছেলে শফিকুল ইসলাম নামের কেউই নাই এই গ্রামে। শফিকুল ইসলাম নাম দিয়া কোনো রোহিঙ্গাকে এখানের লোক বানানোর চেষ্টা করতাছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এদেরকে চিহিৃত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করতে জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।

এ ব্যাপারে নরসিংসার ৪নং ওয়ার্ডের বতর্মান মেম্বার মো. ফরিদ মিয়া জানান, আমার জানামতে নরসিংসার গ্রামে শফিকুল ইসলাম নামে কোনো ব্যক্তি নেই। তবে এই নিবন্ধনটা যে হয়েছে, সেটা কিভাবে হয়েছে, কার মাধ্যমে হয়েছে আমি এর কিছুই জানি না।

ভুয়া জন্মসনদটির ব্যাপারে ৪,৫ ও ৬নং ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার পারভীন বেগমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না এবং শফিকুল ইসলাম নামে কাউকে চিনেন না।

এ বিষয়ে নাটাই দক্ষিন ইউনিয়ন পরিষদের সচিব লিটন চক্রবর্তী দায় স্বীকার করে জানান, আমি অত্যন্ত দুঃখিত যে আমাদের এখান থেকে ভুয়া নামের পরিচিতিতে যে নিবন্ধনটা হয়েছে সেটা কে বা কাহারা করেছে আমি সঠিকভাবে তা বলতে পারছি না।

এদিকে গত ৬ অক্টোবর জাতীয় জন্ম নিবন্ধন দিবসে জেলা প্রশাসক মহোদয় আমাদেরকে কঠোরভাবে বলেছেন যে, জন্ম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে কঠোরতা অবলম্বন করতে এবং কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হয় সেদিকে খেয়াল রেখে কাজ করতে। তারপরেও আমাদের এখান থেকে ভুয়া পরিচয়ে যে জন্ম নিবন্ধনটি তৈরি হয়েছে তা সঠিক তদন্ত করে আমাদের ৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ভুয়া পরিচয়দানকারীর বিষয়টি চেয়ারম্যান মহোদয়কে নিশ্চিত করবেন এবং চেয়ারম্যান মহোদয় পরে আপনাদের কাছে আসল রহস্য উন্মোচন করবেন।  

ভুয়া পরিচয়কারী শফিকুল ইসলামের জন্ম নিবন্ধনের বিষয়টি নিশ্চিত করে নাটাই দক্ষিণ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ রতন জানান, আমি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে নতুন যোগদান করেছি। ভুয়া পরিচয়দানকারী শফিকুল ইসলামের জন্মসনটির ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। এটা ওয়ার্ড মেম্বারদের দায়িত্ব। তারা সিল-স্বাক্ষর দিয়ে কাগজ নিয়ে আমাদের কাছে আসলে আমরা চেয়ারম্যান যারা আছি স্বাক্ষর দিয়ে দেই। কারণ আমরা সারাদিন অনেক ব্যস্ততায় সময় পার করি, যে কারণে কোনো রকম যাচাই-বাছাই ছাড়াই অনুমোদন দিয়ে দেই। এছাড়া ওয়ার্ড মেম্বারদের যাচাই-বাছাইয়ের পর আমাদের আর কোনো যাচাইয়ের প্রয়োজন মনে করি না।

তিনি আরো বলেন, মেম্বার বা কাউন্সিলর যারা রয়েছেন তারা অনেকেই লেখাপড়া জানেন না, তাই এরকম অনেক ভুলই তারা করে থাকেন। আমাদের কিছুটা সময় দিন, আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখবো এবং এর মূল রহস্যাটি আপনাদের মাধ্যমেই উন্মোচন করবো।

ব্রেকিংনিউজ/এমজি

bnbd-ads
breakingnews.com.bd
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা, ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫, ইমেইল : editor. breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা,
  ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫,
 ইমেইল : editor. breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
© ২০১৯ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি