আ. লীগের কার্যালয় করার কথা বলে নিজস্ব মার্কেট করার অভিযোগ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৮ নভেম্বর ২০১৯, শুক্রবার
প্রকাশিত: ১২:০৫

আ. লীগের কার্যালয় করার কথা বলে নিজস্ব মার্কেট করার অভিযোগ

মুন্সীগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ সহ কয়েকজন নেতার বিরু‌দ্ধে দলীয় কার্যালয় করার নামে শহরের কাচারীতে ৫০ কোটি টাকা মূল্যের সরকারি জমি লিজ নিয়ে পাঁচতলা মার্কেট করার অভিযোগ ক‌রে‌ছে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে মুখে কালো কাপড় বেঁধে মানববন্ধনে ক‌রে তারা।

মানববন্ধনে লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, “নিয়োগ বাণিজ্য, সরকারি-বেসরকারি টেন্ডার, সাধারণ ও সংখ্যালঘুদের জমি দখল, জল ও বালুমহল দখল, নমিনেশনসহ ব্যবসা-বাণিজ্যে একচেটিয়া চাঁদা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে, গোটা মুন্সীগঞ্জ জুড়ে দুর্নীতি ও ভয়ের অভয়ারণ্য গড়ে তুলেছেন মহিউদ্দিন আহমেদ। সব মিলিয়ে মুন্সীগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনগুলোর সকল শীর্ষ পদে নিজের আত্মীয়-স্বজন বসিয়ে, মুন্সীগঞ্জে এক ‘মহিউদ্দিন লীগ’ গড়ে তুলেছে।”

“তার এসব কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত রয়েছে মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মহিউদ্দিনের ভাই আনিসুজ্জামান আনিস ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান এবং মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আফসারুজ্জামান আফসু ও সাধারণ সম্পাদক শামসুল কবির মাস্টার। তারা জেলা ও উপজেলাসহ বিভিন্ন কমিটিতে কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে বিএনপি-জামায়াতের লোকদের স্থান দিয়েছে। এসব কমিটিতে এখন বিএনপি-জামায়াতের লোকদের জয়জয়কার।”  

বক্তরা বলেন, “জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হওয়ায় মহিউদ্দিন আহমেদ কোটি টাকা মূল্যের সরকারি সম্পদ বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে কয়েকশো কোটি টাকা নিয়ে সরকারি রাজস্বে অল্প কিছু টাকা দেখিয়ে লিজ দিয়ে দিয়েছেন। এছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় করার নাম ভাঙিয়ে শহরের কাচারীতে ৫০ কোটি টাকা মূল্যের সরকারি জমি লিজ নিয়ে সেখানে পাঁচতলা মার্কেট করেছেন মহিউদ্দিন। তিনি একটানা গত দুই দশক ধরে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে বিএনপি নেতাদের অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছেন। কোটি টাকা ঘুষের বিনিময়ে তার পরিবারের সদস্য লৌহজং উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি গিয়াস উদ্দিন ব্যাপারী এখন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। তার ভাই আনিস উজ্জামান আনিস বালু ও জলমহল দখল, টেন্ডার, চাঁদাবাজি আর নিয়োগ বাণিজ্য করে গত দশ বছরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন। আনিসের দুই ছেলের টর্চার সেলে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের লোকেরাও নির্যাতনের স্বীকার হচ্ছে।” 

তারা বলেন, মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আফসার উদ্দিন ভুইয়া আফসু ও সাধারণ সম্পাদক শামসুল কবির মাস্টার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদের সহায়তায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অর্ধশত কোটি টাকার মনোনয়ন বাণিজ্য করেছেন। হিন্দু পরিবারসহ মুন্সিগঞ্জের সাধারণ মানুষের শত শত বিঘা জমি ভোগদখল করছেন আফসু। 

বক্তারা আরো বলেন, “মহিউদ্দিন আহমেদের হাত ধরে আওয়ামী লীগের নেতা বনে গেছেন মুন্সিগঞ্জের রামপালের কুখ্যাত ডাকাত সর্দার ‘সিটি বাচ্চু’ ওরফে বাচ্চু ডাকাত। একে ৪৭সহ আধুনিক অস্ত্র নিয়ে এলাকায় অস্ত্রের মহড়া দিয়ে মুন্সীগঞ্জে ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করছে।”

এসময় ভুক্তভোগীরা মহিউদ্দিন ও শাহীন বাহিনীর বিরোদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। 

মানববন্ধনে মুন্সীগঞ্জের তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পক্ষে মোল্লাকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা আলামীন হোসেন, আধারা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা শ্যামল, রামপাল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা লিমন হোসেন ও পঞ্চাশার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা হাসান সহ অনেক ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। 

ব্রেকিংনিউজ/এএইচএস/এমজি

bnbd-ads