ঢাকা-চট্টগ্রামসহ ৮৭ রুটে চলছে পরিবহন ধর্মঘট

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
২৫ এপ্রিল ২০১৯, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: ০৭:৫৫

ঢাকা-চট্টগ্রামসহ ৮৭ রুটে চলছে পরিবহন ধর্মঘট

গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে বাস থেকে চালককে নামিয়ে পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদ ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ও সংশ্লিষ্ট ১৯ সড়কপথে এবং চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়কসহ সংশ্লিষ্ট ৬৮টি সড়কপথে চলছে ২৪ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘট। বুধবার ( ২৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা থেকে ধর্মঘট শুরু হয়েছে। 

মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় এক বৈঠক থেকে এ ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়। ধর্মঘট প্রত্যাহারে বুধবার বিকাল ৫টায় পরিবহন শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে বৈঠক করেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াছ হোসেন। এতে জেলা পুলিশ সুপার নূরে আলম মিনাসহ পুলিশের বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। তবে বৈঠকে প্রশাসনের ডাকে সাড়া দেননি শ্রমিক নেতারা। তারা ধর্মঘটের পক্ষে অনড় অবস্থান নিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় শ্রমিক ফেডারেশন কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক আহ্বান করেছেন। এ বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হবে কিনা।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ মুসা বলেন, গত সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা গাজীপুরমুখী শ্যামলী পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাস চট্টগ্রামের পটিয়া থানাধীন শান্তিরহাট এলাকা দিয়ে যাচ্ছিল। ওয়াই জংশনের কাছাকাছি এলে একটি মাইক্রোবাসে সাদাপোশাকে থাকা একদল লোক নিজেদের ডিবি (গোয়েন্দা শাখা) পুলিশ পরিচয় দিয়ে বাসটি থামায়।

মুসা বলেন, ইয়াবা আছে বলে তারা চালককে হাতকড়া পরিয়ে নিচে নামায়। ৫০ থেকে ৫৫ গজ দূরে নিয়ে চালক জালাল উদ্দিনকে বেদম মারধর করে। এরপর তাঁকে গাড়িতে ওঠায়। তারা সবকিছু তল্লাশি করে কিছু পায়নি। আবার ওই চালককে বাস থেকে নামিয়ে বেদম মারধর করা হয়। এতে চালক জালাল উদ্দিন অজ্ঞান হয়ে গেলে বাসে তুলে দেওয়া হয়। আহত ও চালককে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা।

মুসা বলেন, ‘গোয়েন্দা পুলিশের পরিচয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। তাদের হাতে ওয়াকিটকি ও অস্ত্র ছিল। আমাদের সন্দেহ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। জালাল হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে আমরা ধর্মঘট ডেকেছি। কোনো সুরাহা না হলে রোববার সকাল ছয়টা থেকে সোমবার সকাল ছয়টা পর্যন্ত বৃহত্তর চট্টগ্রামে সর্বাত্মক ধর্মঘট কর্মসূচি আহ্বান করা হবে।’

চট্টগ্রাম গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (বন্দর) এস এম মোস্তাইন হোসাইন প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনাটি যেখানে ঘটেছে বলে সংশ্লিষ্ট পরিবহনের সুপারভাইজার জানিয়েছেন, সেখানে গোয়েন্দা পুলিশ যায়নি। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। মামলা হলে তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মোস্তাইন হোসাইন বলেন, ‘এটা নৃশংস ঘটনা। খবর পাওয়ার পর কর্ণফুলী ও পটিয়া থানার পুলিশের সঙ্গে নগর গোয়েন্দা পুলিশের যৌথ দল তদন্ত শুরু করেছে। আমরা আশাবাদী, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা আইনের আওতায় আসবে।’

ব্রেকিংনিউজ/এনকে