রাজশাহীতে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, রাজশাহী
১০ জুলাই ২০১৯, বুধবার
প্রকাশিত: ০৪:২০

রাজশাহীতে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ

রাজশাহীর আমানা হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় আব্দুুল্লাহ্ আল মারুফ (২৫) নামে এক রোগীর করুণ মৃত্যু হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

সোমবার (৮ জুলাই) ভোর রাতে ভুল চিকিৎসায় তার মৃতু হয়েছে বলে দাবি মৃতের স্বজনদের। নিহত মারুফ গোমস্তপুর থানার আতাউর রহমানের ছেলে।

ঘটনা সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী নগরীর আমানা হাসপাতালে ভাঙা হাতের অপারেশন করাতে এসে অপারেশনের আগেই ভুল চিকিৎসায় আব্দুুল্লাহ্ আল মারুফ (২৫) মৃত্যু হয়েছে। গত সোমবার ভোরে অপারেশন থিয়েটারে নেয়ার আগে তাকে অজ্ঞান করার জন্য ইনজেকশন দেয় হাসপাতালের এক সেবিকা। এর পরপরই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন মারুফ। মৃত মারুফ চাঁপাই নবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর থানার আতাউর রহমানের ছেলে। 

পরিবারের পক্ষ দাবি করা হয়েছে ভুল চিকিৎসায় মারুফের মৃত্যু হয়েছে। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময় আমানা হাসপাতাল কতৃপক্ষ মৃত ব্যক্তির পরিবারের সাথে সমাধান করে নেন বলে স্বীকার করেন আমানা হাসপাতালের ম্যনেজার আব্দুর রহমান।

 আমানা হাসপাতালের ম্যনেজার রহমানের মুঠোফোনে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সোমবার ভোরে মারা গেছে। চিকিৎসক দেবাশীস রায় ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিহত ব্যক্তির পরিবারের সাথে বসে সমাধান করে নিয়েছে।’

ঘটনা সূত্রে আরো জানা যায়, গত সোমবার মারুফের বাম হাতের কব্জিতে ডা. দেবাশিষ রায়ের অপারেশন করার কথা ছিলো। সে অনুযায়ী ভোর সাড়ে ৫ টায় অজ্ঞান করার জন্য তাকে ইনজেকশন দেবার কথা। একজন নার্স ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তাকে একটি ইনজেকশন দেন। এর কিছুক্ষণ পরেই মারুফের মৃত্যু হয়। এনিয়ে ঐ সময়ই রোগীর স্বজন ও হাসপাতাল কর্মীদের সাথে বাকবিতণ্ডা হয়।

নিহত আল মারুফের শ্যালক আজিজুল ইসলাম জানান, মারুফের তিন মাস আগে হাত ভেঙে যায়। তিনি শারীরিকভাবে দুর্বল ছিলেন। এর পর কিছুটা সুস্থ্য হলে তিনি চিকিৎসকের পরামর্শে হাতের অপারেশন করতে গত রবিবার (৭ জুলাই) আমানা হাসপাতালে ভর্তি হন। ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রোগীকে একটি ইনজেকশন দেন একজন নার্স। ইনজেকশন দেয়ার পরপরই দুলাভাইয়ের মৃত্যু হয়। পরে ডাক্তার এসে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পাশাপাশি ডা. দেবাশীষ রায় তার অপারেশনের জন্য জমা নেয়া ৩৫ হাজার টাকা রোগির স্বজনদের ফেরত দেন।

এ বিষয়ে মারুফের বাবা আতাউর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি ডিউটি থেকে গিয়ে শুনি যে তার জ্ঞান ফিরছে না পরে আমার বউমার কাছে থেকে শুনি তাকে ইনজেকশন দেয়ার পরই মারা গেছে। ভুল চিকিৎসায় আমার ছেলের মুত্যু হয়েছে। কিন্তু আমার ছেলে তো গেছে তাকে কাটা-ছেড়ার ভয়েই আমি অভিযোগ করিনি। আভিযোগ করে আর কী হবে। যে গেছে সে তো গেছে।’

এ বিষয়ে গতকাল আমানা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুব উল আলমের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় জানার পর তিনি জানান, তিনি আমানা হাসপাতালের কেউ নন। পরে আমানা হাসপাতালের অভ্যার্থনা ডেস্কে ফোন করা হলে সেখান থেকে জানানো হয় যে নম্বরে ফোন দিয়েছেন সেটি মাহবুব সাহেবের নম্বর এবং তিনিই আমানা হাসপাতালের এমডি। এরপর তার ঐ নম্বরে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও তিনি বারবার ফোন কেটে দেন।

এদিকে ঘটনাটি জানার জন্য গতকাল রাতে ডা. দেবাশীষ রায়ের মুঠোফনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন। তবে সাংবাদিক পরিচয় পাবার পর কোন কিছু না বলেই ফোনটি কেটে দেন।

রাজপাড়া থানার ওসি শাহাদাত হোসেন বলেল, ‘বিষয়টি আমাদের জানা নেই। রোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আনইগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

ব্রেকিংনিউজ/এসডিএম/জেআই