দাঙ্গা সৃষ্টি করতে চায় ইসকন, নিষিদ্ধ চান আহমদ শফী

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২০ জুলাই ২০১৯, শনিবার
প্রকাশিত: ১২:০৬ আপডেট: ১২:৫৪

দাঙ্গা সৃষ্টি করতে চায় ইসকন, নিষিদ্ধ চান আহমদ শফী

স্কুলে স্কুলে গিয়ে মুসলিম বাচ্চাদের প্রসাদ খাইয়ে হরে কৃষ্ণ হরে রাম বলতে বাধ্য করছে হিন্দু বৈষ্ণব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ-ইসকন। তারা বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাচ্ছে অভিযোগে করে তাদের নিষিদ্ধে দাবি করেছেন হেফাজত আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী।

তিনি বলেছেন, ‘চট্টগ্রামে উগ্র হিন্দু সংগঠন ইসকন কর্তৃক মুসলমান স্কুল শিক্ষার্থীদের প্রসাদ খাওয়ানোর সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও উগ্র হিন্দু সংগঠন ইসকন’র সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হোক। ইসকন তাদের হীনকর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশে সম্প্রীতি বিনষ্টে উস্কানি দিচ্ছে। ভারতের মতো এদেশেও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাচ্ছে।’

শুক্রবার (১৯ জুলাই) রাতে সংবাদপত্রে প্রেরিত হেফাজতে ইসলামের লিখিত বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। 

আহমদ শফী বলেন, ‘হিন্দু সম্প্রদায়ের পুণ্যের আশায় দেবতার নামে উৎসর্গকৃত খাবারই হলো প্রসাদ। এ প্রসাদ আহার করা মুসলমানদের জন্য হারাম। সংবিধান অনুযায়ী প্রত্যেক ধর্মাবলম্বী নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করতে পারবেন। তবে নিজেদের ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান অন্য ধর্মের কারও উপর চাপিয়ে দেয়া ধর্মীয় অধিকার ও অনুভূতিতে হস্তক্ষেপের শামিল, যা সংবিধান পরিপন্থী ও সুস্পষ্ট সংবিধান লঙ্ঘন।’

উগ্র গোষ্ঠীর এহেন কর্মকাণ্ডের জন্য সরকারকেই চরম মূল্য দিতে হবে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে এ উগ্র সংগঠনটি দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় উস্কানীসহ নানাভাবে উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে যাচ্ছে। ইসকনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। না হলে আমাদের ঈমান আকিদা রক্ষা ও দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ণ রাখার স্বার্থে ইসকনসহ এধরনের উগ্রবাদী সংগঠনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে হেফাজতে ইসলাম এ দেশের সর্বস্তরের তৌহিদী জনতাকে সাথে নিয়ে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে।’

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) ‘প্রসাদ খাইয়ে স্কুলে শিক্ষার্থীদের হরে কৃষ্ণ হরে রাম মন্ত্র পাঠ’- জাতীয় একটি পত্রিকার প্রতিবেদন হাইকোর্টের নজরে আনেন আইনজীবী তৈমুর আলম খন্দকার। তখন হাইকোর্ট বলেন, ‘একটি এনজিও স্কুলে খাবার বিতরণ করতে পারে। কিন্তু জোর করে বা প্রলোভন দেখিয়ে যদি প্রসাদ খাইয়ে মন্ত্র পাঠ করিয়ে থাকে, তবে সেটা অন্যায়।’

প্রসঙ্গত, দৈনিক ইনকিলাবি পত্রিকায় ১৮ জুলাই ‘প্রসাদ খাইয়ে স্কুলে শিক্ষার্থীদের হরে কৃষ্ণ হরে রাম মন্ত্র পাঠ’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘স্কুলে স্কুলে শিক্ষার্থীদের প্রসাদ খাওয়ালো আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ-ইসকন। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের রথযাত্রা উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী 'ফুড ফর লাইফ' কর্মসূচির আড়ালে গত ১১ জুলাই থেকে নগরীর প্রায় ৩০টি স্কুলের শিক্ষার্থীর মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। ইসকন কর্মীদের শেখানো মতে, কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ‘হরে কৃষ্ণ হরে রাম’ মন্ত্র পাঠ করে এ প্রসাদ গ্রহণ করে। শ্লোক-মন্ত্র পাঠের মাধ্যমে মুসলিমসহ বিভিন্ন ধর্মের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রসাদ গ্রহণে উৎসাহিত করায় অনেক শিক্ষার্থী তা গ্রহণে অস্বীকৃত হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের নজিরবিহীন কর্মসূচিতে বিক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

ব্রেকিংনিউজ/ এসএ