রাজশাহীতে ‘ছেলেধরা’ সন্দেহে ৫ এনজিওকর্মীকে গণপিটুনি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, রাজশাহী
২২ জুলাই ২০১৯, সোমবার
প্রকাশিত: ০৪:৪০ আপডেট: ০৪:৪৬

রাজশাহীতে ‘ছেলেধরা’ সন্দেহে ৫ এনজিওকর্মীকে গণপিটুনি

রাজশাহীর চারঘাটে ছেলেধরা গুজবে গণপিটুনির শিকার হয়েছেন পাঁচ এনজিওকর্মী। সোমবার (২২ জুলাই) দুপুরে উপজেলার রাওধা এলাকা থেকে পুলিশ ওই পাঁচজনকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেয়। তারা আদ-দ্বীন ওয়েলফেয়ার সেন্টার নামের একটি এনজিও’র কর্মী বলে চারঘাট থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন।

ওসি বলেন, ‘চারঘাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের রাওধা এলাকায় অপরিচিত পাঁচজন ব্যক্তি সমিতির সদস্য সংগ্রহের করছিল। এমন সময় সন্দেহ হলে স্থানীয় লোকজন তাদের এনজিও নাম জানতে চেয়ে কাগজপত্র ও পরিচয়পত্র দেখতে চান। এ সময় তারা কোনও কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হলে ছেলেধরা সন্দেহ পাঁচজনকে ধরে পিটুনি দিয়ে আটকে রেখে থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।’

আটককৃতরা হলেন, গোপালগঞ্জ জেলার মকসুদপুর উপজেলার ঝাকরপুর গ্রামের মসলেম উদ্দিনের ছেলে হাফিজুর রহমান (৪২), একই এলাকার আখতারুজ্জামানের ছেলে আবুল হোসেন (৪০), একই এলাকার লুৎফর রহমানের ছেলে রেজাউল করিম (৩৮), ঢাকা দক্ষিণের লালবাগ থানার আব্দুল মজিদের ছেলে কাইয়ুম আলী (৩৯) ও একই এলাকার আবুল কালাম (৩৬)।

ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, ‘‘আটককৃতরা নিজেদেনর আদ-দ্বীন ওয়েলফেয়ার সেন্টার নামে একটি এনজিও’র মাঠ কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়েছে। রবিবার (২১ জুলাই) এতে তারা রাওধা গ্রামের আব্দুল মজিদের বাড়ি ভাড়া নেয়। সোমবার (২২ জুলাই) তারা ওই এনজিও’র নামে সদস্য সংগ্রহের কাজে বের হয়। এ সময় তারা এলাকাবাসীর রোষানালে পড়েন।’

চারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, ‘‘কোনো এনজিও উপজেলায় কাজ করতে চাইলে তাদের পরিচয়সহ কাগজপত্র জমা দিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুমতিপত্র নেয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু তারা এ ধরণের কোনও অনুমোদন নেয়নি। এছাড়াও তারা যে এনজিও’র কথা বলছে তার বৈধ কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।’

ব্রেকিংনিউজ/জেআই