‘বিয়ে ভাঙানোর’ অপবাদে গৃহবধূকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, গ্রেফতার ২

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, রংপুর
৮ আগস্ট ২০১৯, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: ১০:২২ আপডেট: ১০:৩১

‘বিয়ে ভাঙানোর’ অপবাদে গৃহবধূকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, গ্রেফতার ২

বিয়ে ভেঙে দেয়ার মিথ্যা অপবাদে রংপুরে গঙ্গাচড়ায় এক গৃহবধূকে গাছে বেধে অমানকি নির্যাতন ও চুল কেটে দিয়েছে নির্যাতনকারীরা। এঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় ২ আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বুধবার (৭ আগস্ট) ওই নির্যাতনের ঘটনা ঘটে রংপুর রংপরের গঙ্গাচড়া থানার বেতগাড়ী পুটিমারী গ্রামে শহর ছেড়ে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূর। নির্যাতিতা গৃহবধূর জামাতা মোকলেছ মিয়া মামলার বাদি হয়ে থানা পুলিশের কাছে দেয়া লিখিত অভিযোগ করেন।

থানায় অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় একমাস আগে নির্যাতিতা গৃহবধূর চাচা শ্বশুড় আব্দুল মতিনের মেয়ে মৌসুমি বেগমের (২৪) সঙ্গে রংপুর সদর থানার পাগলাপীর এলাকায় লিটন মিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর লিটন মিয়া বিভিন্ন সূত্রে জানতে পারে তার স্ত্রীর সাথে অনেকের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। এই অপবাদে স্ত্রী মৌসুমি বেগমকে গত ২১ জুলাই তার স্বামী লিটন মিয়া তালাক দেয়। 

এ ঘটনায় মানিকা বেগমের দেবর আব্দুল মতিন ও তার মেয়েসহ স্ত্রী সকলেই মনে করে এই তালাকের নেপথ্যে মানিকা বেগম দায়ী। সে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তার মেয়েকে তালাক দেয়ার ইন্ধন যুগিয়েছে। মেয়ের এ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে তাদের দুই পরিবারের মাঝে ঝগড়া বিবাদ চলছিল। সর্বশেষ বুধবার (৭ আগস্ট) বিকেলে মানিকার দেবর আব্দুল মতিন, তার মেয়ে, স্ত্রী, অপর দেবর আব্দুল মোত্তালেব (৪৩)সহ পরিবারের লোকজন মিলে মানিকা বেগমকে বেধড়ক মারধর করে। এক পর্যায়ে তাকে গাছের সাথে বেঁধে দিনভর নির্যাতন করে মাথার চুল কেটে গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেয়া হয়।

এই খবরে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য জাহাঙ্গির আলম মানিকা বেগমকে নির্যাতনকারীদের হাত থেকে উদ্ধার করে। পরে বাড়িতে রেখে তাকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেন মানিকার স্বামী ও অন্যরা। তার অবস্থার অবনতি হলে এ খবর বৃহস্পতিবার (রাত সাড়ে ৮টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত) তাকে হাসপাতালে ভর্তির প্রস্তুতি নেয়া হয় পরিবার থেকে।

ওই নির্যাতনের ঘটনায় বৃহস্পতিবার নির্যাতিতা গৃহবধূর জামাতা মোকলেছ মিয়া গঙ্গাচড়া থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ মামলা দায়ের করার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে ঘটনার সত্যতা পান। পরে মামলার ৬ আসামির মধ্যে ২ আসামি আব্দুল মোত্তালেব ও আব্দুল মতিনকে গ্রেফতার করে। অপর আসামিরা পালিয়ে যায়। 

বেতগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান লিপটন বলেন, বিষয়টি দুঃখজনক। ঘটনা সম্পর্কে থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ ২ আসামিকে গ্রেফতার করেছে। ঘটনার সাথে জড়িতরা পরস্পর ভাই-দেবর-ভাবি-ভাতিজি সম্পর্কের। তাই এ নিয়ে আমি কোন মন্তব্য করতে চাই না। 

গঙ্গাচড়া থানার ওসি (তদন্ত) সুশান্ত কুমার সরকার জানান, তারা ঘটনার সাথে অভিযুক্ত দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছেন। অপর আসামিদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশ কাজ করছে।

ব্রেকিংনিউজ/ এসএ