রাজশাহীর দারুচিনি প্লাজার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

সরকার দুলাল মাহবুব, রাজশাহী
২৫ আগস্ট ২০১৯, রবিবার
প্রকাশিত: ০৩:৫১

রাজশাহীর দারুচিনি প্লাজার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

রাজশাহী নগরের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নির্মাণাধীন বাণিজ্যিক ভবনের একটি হচ্ছে দারুচিনি প্লাজা। সিটি করপোরেশনের সঙ্গে অংশীদারিত্রত্বের ভিত্তিতে এই ভবনের নির্মাণকাজ পায় আওয়ামী লীগের স্থানীয় এক নেতার মালিকানাধীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তার পক্ষে কাজটি করছিলেন একজন ব্যবসায়ী। সম্প্রতি একটি বেসরকারি ব্যাংক ওই ব্যবসায়ীর বন্ধকি সম্পত্তি নিলামে তুলেছে। এতে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে দারুচিনি প্লাজার ভবিষ্যৎ।

দারুচিনি প্লাজায় দুই বছরে আটতলা ভবন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত ১০ বছরে চারতলা পর্যন্ত উঠেছে। বর্তমানে নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে। এরই মধ্যে নিলামে উঠেছে এই ভবন নির্মাণ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০০৯ সালে রাজশাহী নগরের নিউ মার্কেটের কাঁচাবাজার উঠিয়ে সেখানে দুই বিঘা জমির ওপর দারুচিনি প্লাজার নির্মাণকাজ শুরু হয়। চুক্তি অনুযায়ী দুই বছরের মধ্যে সেখানে একটি আটতলা ভবন গড়ে তোলার কথা ছিল। আর নির্মাণ শেষ হলে ভবনের ২৮ শতাংশ পাবে সিটি করপোরেশন। বাকিটা পাবে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। 

কাজটি পেয়েছিল রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা শামসুজ্জামান আওয়ালের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শামসুজ্জামান জেভি। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে কাজটি করছিলেন রুহুল আমিন নামের একজন ব্যবসায়ী। যে ভবন ২ বছরে আটতলা হওয়ার কথা ছিল, গত ১০ বছরে সেই ভবনের চারতলা পর্যন্ত উঠেছে। বর্তমানে নির্মাণকাজ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রয়েছে।

এদিকে ওই ভবনে দোকান বুকিং দিয়ে বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে নিউ মার্কেটের একজন ব্যবসায়ী বলেছিলেন, ‘প্রায় ছয় বছর আগে ওই ভবনে দোকানের জন্য তিনি চার লাখ টাকা বুকিং দিয়েছেন। হস্তান্তরের সময় আরও দুই লাখ টাকা দেয়ার কথা। এখনো সেই দোকান এত দিনেও বুঝে পাইনি।’

অপর একজন ব্যবসায়ী সেই সময় বলেছিলেন, ‘দারুচিনি প্লাজায় দোকানের জন্য ছয় বছর আগে পাঁচ লাখ টাকা দিয়েছিলান। আর ২ লাখ ১৯ হাজার টাকা বাকি রয়েছে। হস্তান্তরের সময় এই টাকা দেব। কিন্তু এখনো আমার দোকান নাকি রেডি হয়নি।’ গত বছরের (২০১৮) জানুয়ারিতে তার দোকান বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত তিনি তাঁর দোকান বুঝে পাননি।

ব্র্যাক ব্যাংকের রাজশাহী শাখার একটি নিলাম বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা গেছে, গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যাংকের ওই শাখার কাছে ব্যবসায়ী রুহুল আমিনের এক কোটি সাত লাখ টাকার শ্রেণিকৃত ঋণ রয়েছে। এই টাকা আদায়ের জন্য ব্যাংক গত ৩ মে ঢাকার একটি দৈনিকে নিলাম বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে ঋণের টাকা আদায়ের জন্য ব্যবসায়ী রুহুল আমিনের বন্ধকি সম্পত্তি বিক্রির ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

ভবনের মূল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান শামসুজ্জামান জেভির মালিক শামসুজ্জামান আওয়াল জানান, তারা আর কাজ করবেন না। এটি সিটি করপোরেশনকে জানিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ী রুহুল আমিন আর টাকা দিতে পারবেন না, এ জন্যই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আটতলা ভবন নির্মাণের চুক্তি ছিল, সেখানে আরও চারতলা বাকি রয়েছে।’

এ অবস্থায় চুক্তিভঙ্গ হচ্ছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘চুক্তিতে এটাও রয়েছে যে পর্যন্ত কাজ হবে চাইলে চুক্তি অনুযায়ী সেই পরিমাণ ভবন ভাগাভাগি করে নেয়া যাবে।’

যেসব ব্যবসায়ী এই ভবনে দোকান নেয়ার জন্য বুকিং দিয়েছেন তাঁদের কী হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তারা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে বিষয়টি ফয়সালা করে ফেলবেন।’

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক জানান, তাদের চুক্তি রয়েছে শামসুজ্জামান জেভির সঙ্গে। রুহুল আমিনের সঙ্গে শামসুজ্জামান জেভির অভ্যন্তরীণ চুক্তি থাকতে পারে। এটা তাদের বিষয় নয়। তারা শামসুজ্জামান জেভির কাছ থেকে কাজ বুঝে নেবেন।

তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত তারা চারতলা পর্যন্ত শেষ করেছে। এখন তারা নতুন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাকি কাজ করার জন্য চুক্তিও করতে পারেন।’

যে পরিমাণ কাজ হয়েছে সে পর্যন্ত নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেয়া যায় কি না, এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখনো এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’

ব্রেকিংনিউজ/জেআই