বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষের আট প্রকৌশলীকে স্ট্যান্ড রিলিজ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার
প্রকাশিত: ০১:৩৬ আপডেট: ০১:৩৭

বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষের আট প্রকৌশলীকে স্ট্যান্ড রিলিজ

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযানের পর বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) প্রকৌশলী পর্যায়ের আট কর্মকর্তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ দেয়া হয়েছে। যাদের দপ্তরে দুর্ণীতি ও অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে দুদক।

রবিবারের (৮ সেপ্টেম্বর) মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তর করে তাদের বদলি করা নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত অফিস আদেশে স্বাক্ষর করেছেন বিএমডিএ’র ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. আশরাফুল ইসলাম।

সুনির্দিষ্ট কয়েকটি অভিযোগের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহীতে অবস্থিত বিএমডিএ এর প্রধান কার্যালয়ে অভিযান পরিচালনা করে দুদক। এ সময় দুদক কর্মকর্তারা সাত কোটি টাকার দুর্ণীতির সন্ধান পায়। এর পর ওইদিন বিকেলে বিএমডিএ’র চেয়ারম্যান ড. আকরাম হোসেন চৌধুরীর আটজন কর্মকর্তাকে স্ট্যান্ড রিলিজের আদেশ জারি করেন।

স্ট্যান্ড রিলিজ হওয়া কর্মকর্তারা হলেন, বিএমডিএ’র প্রধান কার্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শামসুল হোদা, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ড. আবুল কাশেম, নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ, নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) তরিকুল ইসলাম, ঠাকুরগাঁও সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম খান, জয়পুরহাট রিজিয়নের নির্বাহী প্রকৌশলী সুমন্ত কুমার বসাক, রাজশাহীর পবা জোনের উপ-সহকারী প্রকৌশলী রাহাত পারভেজ ও দুর্গাপুর জোনের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. শামসুল আলম।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মকর্তা জানান, অভিযানের পর বিএমডিএ’র চেয়ারম্যান ড. আকরাম হোসেন চৌধুরীর আটজন কর্মকর্তাকে স্ট্যান্ড রিলিজের আদেশ দিয়েছেন। রবিবারের মধ্যে তাদেরকে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিএমডিএ’র প্রধান কার্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শামসুল হোদা বলেন, আটজনকে স্ট্যন্ড রিলিজ দেয়া হয়েছে। যার মধ্যে আমাকে ঠাকুরগাঁ কার্যালয়ে পাঠান হয়েছে।

প্রসঙ্গত, রাজশাহী তথা উত্তরাঞ্চলের খরাপ্রবণ বরেন্দ্র এলাকার কৃষিসহ এলাকার মানুষের জীবন-মান উন্নয়নে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধিনে অন্যতম বৃহৎ একটি প্রকল্প প্রতিষ্ঠান বিএমডিএ। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে, ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত অডিট আপত্তি, কোটি টাকা ব্যয়ে সরকারি প্রকৌশলী ভবন নির্মাণ করেও সেখানে প্রকৌশলী না থাকা, পিপিআর অমান্য করে খ- খ- আকারে প্রয়োজনীয় সরঞ্জমাদি ক্রয়ের মাধ্যমে সরকারি অর্থের ক্ষতি সাধন, গোদাগাড়ীতে প্রায় ৫০ লাখ টাকার হিসেব জালিয়াতি, চলমান প্রকল্পে অনিয়ম, সরকারি পরিপত্র অমান্য করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বেতন স্কেল প্রদান ও পল্লী বিদ্যুতের অবৈধ ব্যবহার করা। এমন সাতটি সুনির্দিষ্ট অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত করতে বৃহস্পতিবার এই অভিযান পরিচালনা করে দুদকের একটি টিম।

ব্রেকিংনিউজ/এমজি