রাজশাহীতে ভাবি-ভাতিজা খুন: দেবরসহ ৩ আসামির মৃত্যুদণ্ড

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, বুধবার
প্রকাশিত: ১২:২২ আপডেট: ০৩:০০

রাজশাহীতে ভাবি-ভাতিজা খুন: দেবরসহ ৩ আসামির মৃত্যুদণ্ড
ছবি: প্রতীকী

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় ৫ বছর আগে মা-ছেলেকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দেবরসহ ৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ৪ জনকে যাবজ্জীবনসহ ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- দেবর আবুল হোসেন মাস্টার, হাবিবুর রহমান হাবিব ও চাকরিচ্যুত বিজিবি সদস্য আব্দুর রাজ্জাক। আর যাবজ্জীবনপ্রাপ্তরা হলেন- দুর্গাপুর উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে আব্দুল্লাহ আল কাফি, একই গ্রামের লবির উদ্দিনের ছেলে রুহুল আমিন, দুর্গাপুরের খিদ্রকাশিপুর গ্রামের ছাবের আলীর ছেলে রুস্তম আলী এবং খিদ্রলক্ষ্মীপুর গ্রামের মনিরুল ইসলাম ওরফে মনির।

বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক অনুপ কুমার এ হত্যা মামলার রায় দেন। 

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আকলিমার দেবর আবুল হোসেন রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার আলীপুর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে। তিনি দেউলা রানী রিভারভিউ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং বাগমারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। 

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ২৪ নভেম্বর রাতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বাগমারার দেউলা গ্রামের বাসিন্দা আকলিমা বেগম ও তার ছেলে জাহিদ হাসানকে গলা কেটে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় আকলিমার বড় ছেলে দুলাল হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে বাগমারা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করলে জোড়া খুনের তদন্তে তিন দফা তদন্ত কর্মকর্তা বদল করা হয়।

গেল বছরের ৩১ মে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক আলমগীর হোসেন মামলায় ৭ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করলে শুরু হয় মামলার বিচারকাজ।

এর পর মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য চলতি বছরের এপ্রিলে জেলা জজ আদালত থেকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। 

এ মামলায় মামলাটিতে মোট ৫১ জন সাক্ষী ছিলেন। আদালত ৪৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে। হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী আকলিমা বেগমের দেবর আবুল হোসেন মাস্টার ও হাবিবুর রহমান হাবিবও এরমধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

এদিকে রায় ঘোষণার পর সন্তুষ্টি প্রকাশ করে আকলিমা বেগমের বড় ছেলে মামলার বাদী দুলাল হোসেন জানান, ছোটবেলায় বাবা মারা যাওয়ার পর চাচা আবুল হোসেনই তাদের সব সম্পত্তি দেখাশোনা করতেন। কিন্তু পরিবারের জাহিদের শিক্ষিত হয়ে ওঠা মেনে নিতে পারছিলেন না তার চাচা আবুল হোসেন। এক পর্যায়ে জাহিদ শিক্ষিত হয়ে চাচার কাছ থেকে বাবার সম্পত্তি বুঝে নিতে চাইলে ভাড়াটে খুনি দিয়ে মা-ছেলেকে হত্যার পরিকল্পনা করেন আবুল হোসেন মাস্টার। ২০১৪ সালে হত্যার সময় ছোটভাই জাহিদ রাজশাহী কলেজ থেকে দর্শন বিভাগে মাস্টার্স শেষ করেন বলেও জানান দুলাল হোসেন।

ব্রেকিংনিউজ/এমআর

bnbd-ads