সংবাদ শিরোনামঃ
bnbd-ads
bnbd-ads

বাড়ছে বৈষম্য, রাজনীতিতে ব্যবসায়ীদের গুরুত্ব: রেহমান সোবহান

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১০ এপ্রিল ২০১৯, বুধবার
প্রকাশিত: ১০:৫৪ আপডেট: ১১:০৫

বাড়ছে বৈষম্য, রাজনীতিতে ব্যবসায়ীদের গুরুত্ব: রেহমান সোবহান
ফাইল ফটো

দেশের রাজনীতিতেও এখন ব্যবসায়ীদের গুরুত্ব বাড়ছে উল্লেখ করে প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ রেহমান সোহবান বলেছেন, ‘বর্তমানে ৭০ শতাংশ সাংসদই ব্যবসায়ী। ব্যবসায়ীদের রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তি আছে। দেশে এখন রাজনীতি ও ব্যবসার মধ্যে কোনও সীমারেখা নেই।’

অর্থনৈতিক বৈষম্যের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রে দিন দিন বৈষম্য বাড়ছে। কতিপয় মানুষ উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে জীবনযাপন করলেও দেশের লাখ লাখ শ্রমিকের জীবন তৃতীয় বিশ্বের মানের। আমাদের বাজেট বরাদ্দে বৈষম্যের শিকার এইসব মানুষদের কথা বলার কেউ নেই। এদের কথা কেউ শোনেও না। শোনার দরকারও হয় না।’  

বুধবার (১০ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি) আয়োজিত ‘আসন্ন বাজেট: শ্রমিক কর্মচারী ও জনগণের প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি।

অর্থনৈতিক বৈষম্যের সঙ্গে রাজনৈতিক বৈষম্যও পাল্লা দিয়ে বাড়ে- উল্লেখ করে রেহমান সোবহান বলেন, ‘একটি রাষ্ট্রে অর্থনৈতিক গণতন্ত্র না থাকলে রাজনৈতিক গণতন্ত্রও থাকে না, থাকবে না। আর তখন গণতান্ত্রিক পদ্ধতি ক্রমে দুর্বল হয়ে পড়ে।’ 

বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক পদ্ধতির ধারায় দারিদ্র্য কমলেও বৈষম্য বেড়েই চলবে বলেও মনে করেন এ অর্থনীতিবিদ। 

দেশের শ্রমিক সংগঠনগুলোর কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘মালিকরা আজ ঐক্যবদ্ধ। কিন্তু দেশের শ্রমিক সংগঠনগুলো বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত। এই যেমন পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র কথাই ধরুন। তারা কিন্তু এক আছে।’

বর্তমানে দেশে রাজনীতি ও ব্যবসার মধ্যে কোনও সীমারেখা নেই মন্তব্য করে রেহমান সোবহান বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা এখন রাজনৈতিকভাবেও অনেক শক্তিশালী। ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর মালিকদের মধ্যে অনেকেই এখন সাংসদ, মন্ত্রী। ফলে তাদের মোকাবিলা করতে হিমশিম খাচ্ছে শ্রমিকরা। কেননা, আমাদের অর্থমন্ত্রীও নিশ্চয়ই শ্রমিকদের চেয়ে মালিকদের কথাই বেশি শোনেন, শুনবেন।’

এখন রাজনীতিতেও ব্যবসায়ীদের কথার গুরুত্ব বেশি- এমন মন্তব্য করে রেহমান সোবহান বলেন, ‘টানা দুই মেয়াদে ১০ বছর একজন অর্থমন্ত্রী (আবুল মাল আবদুল মুহিত) ছিলেন। তিনি বাজেট নিয়ে প্রতিবারই অনেকের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। প্রথম দুই-তিন বছর আমি কথা বলেছি। পরে বন্ধ করে দিয়েছি। কারণ, খেয়াল করেছি সেখানে ব্যবসায়ীদের কথাই অর্থমন্ত্রীর কাছে অধিক গুরুত্ব পাচ্ছে।’

এসময় সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বাজেট শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, আয়ের পুনর্বণ্টনও। আমাদের প্রবৃদ্ধি বেড়েছে এটা সত্য। কিন্তু আয়-বৈষম্যই সবচেয়ে দুশ্চিন্তার কারণ।’

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ তুলে ধরেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক অর্থনীতিবিদ এম এম আকাশ বলেন, ‘সাধারণ মানুষের অর্থে যে বাজেট তৈরি হয়, তার ব্যয় থেকে অসৎ ধনীদের ভর্তুকি দেওয়া হয়। বাজেটে কল্যাণমূলক দিক কম এবং তা বাস্তবায়িত হয় না। যেসব খাতে ধনীদের লাভ, দুর্নীতিবাজ বা ক্ষমতাসীনদের লাভ দেখা যায়, সেগুলোতে বরাদ্দ বেশি।’

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন টিইউসির সভাপতি শহীদুল্লাহ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক ওয়াজেদুল ইসলাম প্রমুখ।

ব্রেকিংনিউজ/এমআর

bnbd-ads
bnbd-ads