জৌলুস নেই হালখাতায়, ঐতিহ্য হিসেবেই পালন

তৌহিদুজ্জামান তন্ময়
১৪ এপ্রিল ২০১৯, রবিবার
প্রকাশিত: ০৫:৫৮ আপডেট: ০৩:৪১

জৌলুস নেই হালখাতায়, ঐতিহ্য হিসেবেই পালন

“বাকির নাম ফাঁকি”, “বাকি দেওয়া বড় কষ্ট, বাকিতে হয় বন্ধুত্ব নষ্ট” এধরনের লেখা সম্বলিত অনেক স্টিকার দোকানে লাগানো থাকে; তারপরও ক্রেতাদের বাকি দিতে হয়। ব্যবসায়ের জন্য কিংবা ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে হলেও দোকানদারদের বাকি দেওয়া পড়ে। এই বাকি বেচাকেনার সাথে ‘শুভ হালখাতা’ কথাটি জড়িত। যার সাথে বাঙালি জাতিসত্তার এক অনন্য সম্পর্ক। বাকি না থাকলে হালখাতা থাকতো না। হালখাতা না থাকলে বৈশাখের উৎসব একঘেয়েমি হয়ে যেতো। একঘেয়েমি বৈশাখের উৎসবের ফলে বাঙালি তার প্রাণের অস্তিত্ব হারাতো।

বাংলা নববর্ষকে কেন্দ্র করে প্রাচীনকাল ধরেই হালখাতার আয়োজন করে আসছেন ব্যবসায়ীরা। তাই বৈশাখ এলেই ব্যবসায়ীরা খুশিতে বাগবাগ হয়ে ওঠে। যদিও এতে পত্র প্রাপকের পকেটের অবস্থা বেহাল হয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। হালখাতা শুধু হিসাবের নতুন খাতা খোলা নয়, পাওনা আদায়ের পাশাপাশি ক্রেতাদের আপ্যায়নের মাধ্যম। হালখাতার এই ঐতিহ্য সুদীর্ঘ কাল বহন করে চলছে বাঙালির আনন্দ উৎসব আর সম্প্রীতির গৌরবগাঁথা।



নববর্ষের হালখাতায় ব্যবসায়ীরা তাদের হিসাব-নিকাশ সম্পন্ন করে হিসাবের নতুন খাতা খুলেন। এই উপলক্ষে তারা নতুন-পুরাতন খদ্দের ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের আমন্ত্রণ জানিয়ে মিষ্টি বিতরণ করেন এবং নতুনভাবে তাদের সঙ্গে ব্যবসায়িক যোগসূত্র স্থাপন করেন। চিরাচরিত পহেলা বৈশাখে হালখাতার এই অনুষ্ঠানটির মাধ্যমেই বাঙালির সম্পর্ক অটুট রাখার প্রয়াস। বছরের প্রথমদিন হালখাতার রেওয়াজ থাকলেও এটা প্রায় পুরো বৈশাখ মাস থেকে শুরু করে জ্যৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত চলে।

এক সময় সার্বজনীন উৎসব হিসেবে ‘হালখাতা’ ছিল বাংলা নববর্ষের প্রাণ। ইতিহাস মতে, ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দের ১০-১১ মার্চ সম্রাট আকবরের বাংলা সন প্রবর্তনের পর থেকেই ‘হালখাতা’র প্রচলন হয় তৎকালীন ভারতবর্ষে। পশ্চিমবঙ্গেও এ অনুষ্ঠানটি বেশ ঘটা করে পালন করা হয়। পুরনো বছরের হিসাব বন্ধ করে নতুন হিসাব খোলা হয় যে খাতায়, তা-ই ‘হালখাতা’ নামে পরিচিত।

অতীতে জমিদারকে খাজনা প্রদানের অনুষ্ঠান হিসেবে ‘পূণ্যাহ’ প্রচলিত ছিলো। বছরের প্রথমদিন প্রজারা সাধ্যমতো ভালো পোশাকাদী পরে জমিদার বাড়িতে গিয়ে খাজনা পরিশোধ করতেন। তাদের মিষ্টি দিয়ে আপ্যায়ন করা হতো। জমিদারি প্রথা উঠে যাওয়ায় ‘পূণ্যাহ’ বিলুপ্ত হয়েছে। তবে ব্যবসায়ী সম্প্রদায় নববর্ষে হালখাতার আয়োজন করে আজও। বাংলা সনের প্রথমদিন দোকানপাটের হিসাব আনুষ্ঠানিকভাবে হালনাগাদ করার এ প্রক্রিয়া পালন করা হয়। ব্যবসায়ীরা এদিন তাদের দেনা পাওনার হিসাব সমন্বয় করে হিসাবের নতুন খাতা খোলেন। এজন্য ক্রেতাদের আগের বছরের সকল পাওনা পরিশোধ করার কথা বিনীতভাবে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়। এ উপলক্ষে নববর্ষের দিন তাদের মিষ্টিমুখ করান ব্যবসায়িরা। আগে একটিমাত্র মোটা খাতায় ব্যবসায়িরা তাদের যাবতীয় হিসাব লিখে রাখতেন। এই খাতাটি বৈশাখের প্রথম দিন নতুন করে হালনাগাদ করা হতো। হিসাবের খাতা হালনাগাদ করার এ রীতি থেকেই উদ্ভব হয় হালখাতার। একসময় বাংলা নববর্ষের মূল উৎসব ছিলো হালখাতা।

নিয়মিত গ্রাহক, পৃষ্ঠপোষক ও শুভানুধ্যায়ীদের আমন্ত্রণ জানিয়ে থাকেন ব্যবসায়ীরা। হালখাতায় আগত অতিথিদের মিষ্টি মুখ করান। শুধু যে মিষ্টি মুখ তা কিন্তু না সাথে থাকে নানা রকম খাবারের ব্যবস্থা যেমন, রসগোল্লা, কালোজাম, সন্দেশ, বাতাসা, মন্ডা, জিলাপি, লুচি, পুড়ি, বুন্দিয়া, লাচ্ছা সেমাই, সুজি, হালুয়া, মুড়ি মুড়কি, দই, চিড়া, ভাতের সাথে ইলিশ মাছ, মাংস, মাছের মুড়িঘণ্ট, শরবত, বৈশাখী ফলমূল আর খাওয়া শেষে মিষ্টি পান। অনেক সময় দোকানের সামনেই কারিগররা নতুন চুলা বসিয়ে তৈরি করে গরম গরম জিলাপি, লুচি, বুন্দিয়া আর রসগোল্লা। খরিদ্দারদের গরম গরম মিষ্টি খাওয়ানোর উদ্দেশেই দোকানের সামনে এমন ব্যবস্থা করা হয়।

সরেজমিনে শনিবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজার, তাঁতিবাজার, ইসলামপুর, চকবাজার, শ্যামবাজার ও বাবুবাজারের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে আগের মতো হালখাতা উৎসবের জৌলুস না থাকলেও ব্যবসায়ীরা ঐতিহ্য হিসেবেই পালন করছেন এখনও।

পুরান ঢাকার ছোট কিংবা বড়-সব দোকানেই উৎসব উৎসব ভাব। দোকানে-দোকানে রঙ করা থেকে শুরু করে মালামাল পরিষ্কারে নেমেছেন মালিক-কর্মচারীরা। অনেক ব্যবসায়ী হালখাতা উপলক্ষে বিভিন্ন রঙ দিয়ে দোকানে সাজসজ্জা করছেন। এ ছাড়া পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি তারা পুরাতন খাতার সব লেনদেনের হিসাবও করছেন। অনেক দোকানের ব্যবস্থাপক আমন্ত্রণপত্রের ওপর পাওনাদারের নাম লিখছেন। অনেকে আবার মিষ্টির দোকানে পহেলা বৈশাখের দিনের জন্য অর্ডার দিচ্ছেন। হালখাতা যেনো সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে পারেন, সেদিকেই ব্যবসায়ীদের সবচেয়ে বড় নজর। তবে দোকানগুলোতে ক্রেতাদের তেমন ভিড় নেই। পহেলা বৈশাখ আসা পর্যন্ত তেমন একটা কেনাবেচা না হলেও মঙ্গলঘট, সোলার ফুল, মালা, নতুন শীতলপাটি, কারপেট বিক্রি বেড়ে গেছে কয়েক গুণ।


শাঁখারীবাজারের গিয়ে দেখা গেছে, স্তূপ করে রাখা সাদা রঙের সোলা। শুভ হালখাতাসহ বিভিন্ন শব্দ দিয়ে তৈরি করা বোর্ড এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। বৈশাখ উপলক্ষে প্রায় মাসব্যাপী তাদের ব্যস্ত থাকতে হয় বোর্ডে শুভ হালখাতাসহ নানা ধরনের লেখালেখিতে। শুধু পুরান ঢাকা নয়, রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা থেকেও এমন কারুকাজ কিনতে আসেন ব্যবসায়ীরা।

শাঁখারীবাজারের স্বর্ণ ব্যবসায়ী নিতাই কুমার ব্রেকিংনিউজকে জানান, এ মাসটির জন্য তারা আগ্রহ ভরে অপেক্ষা করেন। কাস্টমার হচ্ছে তাদের লক্ষ্মী। সারাবছর যারা বাকি স্বর্ণালঙ্কার কেনেন, তারা পহেলা বৈশাখে প্রায় সব টাকা পরিশোধ করেন।

তিনি বলেন, আমরা হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী বর্ষবরণ উৎসব করে থাকি। তাই আমাদের পহেলা বৈশাখ একদিন পরে হয়। আমরা এই দিনে শিব ও চড়কপূজা করি। 

তাঁতিবাজারের স্বর্ণ ব্যবসায়ী শ্রী অখিল দে ব্রেকিংনিউজকে জানান, বিদায়ী বছরের হিসাব-নিকাশ চলছে। বছর শেষে লাভ-লোকসানের হিসাব করে পহেলা বৈশাখের দিনে নতুন খাতা খোলার মধ্য দিয়েই হালখাতা করা হয়। তবে আধুনিকতার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসায়ীরা তাদের হিসাব-নিকাশ কম্পিউটারে রাখছেন। যদিও টালিতে সব হিসাবই লেখা হয়। টালি থেকে পরে কম্পিউটারে পোস্টিং হয়। অনেক ক্রেতা না আসতে পারলেও মোবাইলের মাধ্যমে বিকাশেও টাকা পাঠিয়ে দিচ্ছেন হালখাতার।

শ্যামবাজারে গিয়ে কথা হয় হৃদয় টেডার্সের স্বত্বাধিকারী সিরাজুল ইসলাম খানের সঙ্গে। তিনি জানান, শ্যামবাজারের বৈশাখ আর পুরান ঢাকার মধ্যে কিছুটা আলাদা আমেজ থাকে। দুই সপ্তাহ আগে থেকেই এ বাজারে হালখাতা শুরু হয়ে যায়। তবে পহেলা বৈশাখের দিন বড়সর করেই অনুষ্ঠান হয়। ক্রেতাদের সুবিধার্থে প্রায় ১৫ দিনব্যাপী তারা অনুষ্ঠান করেন।

চার দশক আগের হালখাতার স্মৃতি মনে করে আপ্লুত কণ্ঠে পুরান ঢাকার আজিজ ব্যাপারি ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ছোটবেলায় বাবার সাথে হালখাতা খেতে যেতাম। দোকানের সাজগোজ আর বাহারি মিষ্টির লোভ সামলাতে পারতাম না। তবে ডিজিটাল যুগে হালখাতার সেই অনুভূতিটা এখন আর ফুটে উঠে না। 

বকশিবাজারের ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিলার উজ জানান মিলার ব্রেকিংনিউজকে বলেন, নতুন বছরটা ভালোভাবে যাবে এমন আশা নিয়ে ব্যবসায়ীরা হালখাতা খোলেন। তবে একসময় বৈশাখের প্রথম দিনটি বকশিবাজারে উৎসবের সঙ্গে পালন করতেন ব্যবসায়ীরা। তবে একের পর এক চেক প্রতারণা, বিশ্বাস ভঙ্গ ও অর্থনৈতিক মন্দাভাবের কারণে এখন আর হালখাতা সেভাবে উদযাপন করা হয় না।

অন্যদিকে প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এখন ব্যবসায়িক কাজের বেশির ভাগই সম্পন্ন হচ্ছে কম্পিউটারের মাধ্যমে। টাকা-পয়সার লেনদেনও হচ্ছে ব্যাংকিং চ্যানেলে। এছাড়া দেনা-পাওনার হিসাবও হচ্ছে নির্দিষ্ট সময়ে। দেশে অর্থবছরের হিসাবের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ব্যবসায়ীরাও এখন হিসাব বর্ষ শেষ করেন জুন অথবা ডিসেম্বর। তবে খাতুনগঞ্জের কিছু ব্যবসায়ীরা এখনো বংশপরমপরায় চেষ্টা করছেন হালখাতা উৎসব ধরে রাখতে।

তবে অনলাইন কেনাকাটায়, অনলাইন ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, ক্রেডিট কার্ড বা ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় কমে গেছে বাকি লেনদেন। আবার চাকরিজীবী থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী প্রায় সবাই ইংরেজি মাসের ওপর ভিত্তি করে আয়-ব্যয় করেন। ফলে পয়লা বৈশাখে বেশির ভাগ ক্রেতা বকেয়া পরিশোধ করেন না। এসব কারণে ঐতিহ্যবাহী হালখাতার কৌলিন্য হারাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসুর নব নির্বাচিত সাংস্কৃতিক সম্পাদক আসিফ তালুকদার ব্রেকিংনিউজকে বলেন, পহেলা বৈশাখ যেমন বাঙালির জীবনে ওতপ্রোতভাবে জড়িত হালখাতা তেমনি বাঙালি জীবনে একইভাবে জড়িত। কিন্তু বিজ্ঞানের এই যুগে বিজ্ঞান যেমন কেড়ে নিচ্ছে আমাদের আবেগ দিচ্ছে বেগ। যে কারণে গ্রামীণ অনেক ঐতিহ্য যেমন- সাপ খেলা, লুডু খেলা, লাঠি খেলা, হাড়ি ভাঙা, বানর নাচ, নাগরদোলা এবং হালখাতার মত ঐতিহ্য আমাদের মাঝ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে।

এক্ষেত্রে কাউকে দোষারোপ করা যাবে না বা কারো হাতেও নেই। বিজ্ঞানের যে পরিবর্তন সেটার কারণে আজকে হালখাতার হারিয়ে যাচ্ছে কিন্তু এগুলো বাঙালি জীবনে চিরাচরিত ধারক ও বাহক হিসেবে মনের মনি কোঠায় থাকবে তবে এসকল সংস্কৃতিকে ধরে রাখার জন্য বা আগলে রাখার জন্য কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা খুবই জরুরি। 

আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম জানবে না হালখাতা কাটাও একটি উৎসব নববর্ষের দিন ছিল। হালখাতা থেকে শুরু করে বাঙালি যেসব ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি রয়েছে সেগুলোকে দিবস এর মধ্যে ধরে না রেখে আমার মনে হয় সরকারিভাবে এগুলোকে সংরক্ষণ করা উচিত।

এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর ব্রেকিংনিউজকে বলেন, নববর্ষের একটি পুরনো ঐতিহ্য হালখাতা। হাল এবং খাতা অর্থাৎ একেবারে চলতি হিসাব নিকাশ। অর্থাৎ পুরনো যে হিসেব-নিকেশ ছিল সেগুলো বন্ধ করে দিয়ে অথবা মিটিয়ে ফেলে নতুন করে খাতায় তোলা হতো। যারা মেটাতে আসতেন তাদেরকে মিষ্টিমুখ করানো হতো আর এই মিষ্টিমুখ করানোর পাশাপাশি খানিকটা ধর্মীয় বিষয়াদি ও সংযুক্ত করতেন। হিন্দুদের মধ্যে দেখা যেত পূজা করতে অন্যদিকে মুসলিমদের দেখা যেত একটা মিলাদ দিয়ে দিতেন। এক্ষেত্রে দিনব্যাপী দেখা যায় একটা উৎসব-উৎসব ভাব চারিদিকে। 

তিনি বলেন, যখন ছোট ছিলাম তখন মনে পড়ে আমরা সন্ধ্যার দিকে বাবা অথবা চাচাদের সাথে যেয়ে তিন চারটি দোকানে হালখাতা করি। তখন সে দোকানগুলো আমাদেরকে মিষ্টি দিত, আমরা মিষ্টিগুলো কিছু খেয়েছি আর কিছু না খেতে পেরে বাসায় নিয়ে এসে বাসায় সবাই মিলে মিষ্টি মুখ করতাম। এর বড় কারণ হলো পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে অথবা এটাকে হাতে রেখে নতুন বছর শুরু করার ব্যাপারটা তখন সবারই মাথায় ছিল কিন্তু যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে আমাদের ফসলের বিজ পাল্টে যায়। 

আগে দেখা যেত সব জমিই এক ফসলি, দুই ফসলি কিন্তু এখন সেসব জায়গায় কৃত্রিম সার ও সেচ দিয়ে যন্ত্রের মাধ্যমে চাষ করে সেখানে তিনটা ফসল ফলানো হয়। দেখা যায় আমাদের জনসংখ্যা যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে তেমন ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বহুমুখী ফসল বেড়েছে। সারাবছর ফসল উৎপাদনের ফলে কৃষকের হাতে সব সময় টাকা থাকতে দেখা যায় আর এখন টাকা থাকার কারণে কেউ আর এভাবে বাকি নিলেও সেটা কিছুদিন পরপর পরিশোধ করে দিচ্ছে। এই কারণটাই হালখাতার হারিয়ে যাওয়ার একটা মূল ব্যাপার বলা যায়।

প্রযুক্তি কি হালখাতার চাহিদা কমিয়ে দিয়েছে? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, না, কম্পিউটার আসার আগে থেকেই হালখাতা হারিয়ে যাচ্ছে। গ্রামে তো কম্পিউটার নেই গ্রামেও কিন্তু এখন হালকা পার্টি নেই বললেই চলে।

ব্রেকিংনিউজ/টিটি/এমজি