bnbd-ads
bnbd-ads

চাল আমদানি কমাতে হঠাৎ শুল্ক বাড়লো দ্বিগুণ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২২ মে ২০১৯, বুধবার
প্রকাশিত: ০৪:৩২ আপডেট: ০৮:৩০

চাল আমদানি কমাতে হঠাৎ শুল্ক বাড়লো দ্বিগুণ

কৃষকদের ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে চাল আমদানিতে আমদানিকারকদের নিরুৎসাহিত করতে ২৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে পরিপত্র জারি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

গত রবিবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, দেশের কৃষকদের ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে চাল আমদানিতে কঠোর হবে সরকার এবং আমদানি নিরুৎসাহিত করতে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হবে। পাশাপাশি দেশের বাড়তি চাল রফতানির উদ্যোগ হিসেবে ভর্তুকি দেয়া হবে।

অর্থমন্ত্রীর এমন ইঙ্গিতের দুদিন পরই বুধবার (২২ মে) চাল আমদানি কমাতে ও ভর্তুকি দিয়ে হলেও রফতানি বাড়াতে সেইসঙ্গে কৃষককে ধানের ন্যায্যমূল্য দিতে এমন পরিপত্র জারি করলো এনবিআর। 

দুদিন আগে একই বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘কৃষক ধানের ন্যায্য দাম পাচ্ছে না। কোথাও কোথাও নিজেই ধান ক্ষেতে আগুন দিচ্ছে। দেশের কৃষকদের বাঁচাতে চাল রফতানি করা হবে, এজন্য প্রয়োজনে ভর্তুকি দেয়া হবে। তবে চাল আমদানি একেবারেই বন্ধ করা হয়তো যাবে না। কিন্তু নিয়ন্ত্রণ করা হবে।’

তিনি আরও বলেছিলেন, ‘আমাদের কৃষককে বাঁচাতে হবে। আমরা সরকার থেকে যেটা করতে পারি, সেটা হলো আমদানি নিয়ন্ত্রণ করা। আর আমরা সে কাজটিই করব। কিন্তু আমরা আমদানি ব্যান্ড (বন্ধ) করে দিতে পারব না। এক্ষেত্রে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে যা যা করা দরকার, তা করা হবে। শিগগিরই এর প্রতিফলন দেখা যাবে।’

ক’দিন আগেই প্রয়োজনে ভর্তুকি দিয়ে হলেও বেশি দামে ধান কিনে কৃষককে ধানের ন্যায্যমূল্য দিতে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম।  

নাসিম বলেছিলেন, ‘সরকার ভর্তুকি দিয়ে সার ও বীজ কম মূল্যে কৃষকদের মাঝে সরবরাহ করছে। কিন্তু এখন ধান উৎপাদনে কৃষকের মজুরি খরচ অনেক বেশি। তাছাড়া মধ্যসত্ত্বভোগীরা ধানের মূল্যের সুবিধা বেশি ভোগ করছে। তাই কৃষকরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেজন্য অর্থমন্ত্রীকে বলবো, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরামর্শে কৃষিমন্ত্রী ও খাদ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে প্রয়োজনে ভর্তুকি দিয়ে হলেও কৃষককে ধানের ন্যায্যমূল্য দেয়ার ব্যবস্থা করুন।’ 

অপর এক বক্তব্যে কৃষকদের ধানের ন্যায্যমূল্য দিতে কৃষিমন্ত্রী ও খাদ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে নাসিম বলেন, ‘বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। কৃষকদের কোনভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত করা যাবে না। প্রয়োজনে কৃষকের কাছ থেকে বেশি দামে বেশি করে ধান ক্রয় করুন।’ 

তবে গত শনিবার রাজধানীর আইডিইবি মিলনায়তনে দেয়া এক বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘এ মুহূর্তে ভর্তুকি দিয়ে ধান কিনে দাম ধানের বাড়ানোর সুযোগ সরকারের হাতে নেই। তবে ধানের ন্যায্যমূল্য দেয়া হবে কৃষককে। কৃষকদের ধানের দাম নিয়ে যে সমস্যা তার তাৎক্ষণিক সমাধান হচ্ছে, ধানের রফতানি বাড়ানো। আমরা সে চেষ্টা করছি। আশা করি দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করতে পারবো।’ 

এদিকে চলতি ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে ১০ মাসে প্রায় ৩ লাখ ৩ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানির তথ্য জানিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘এতে দেশীয় কৃষকগণ উৎপাদন খরচের চেয়ে কম মূল্যে চাল বিক্রয় করতে বাধ্য হচ্ছে। যার ফলে প্রান্তিক কৃষকগণ আর্থিকভাবে বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। কৃষকগণকে আর্থিক ক্ষতি হতে রক্ষাকল্পে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদয় অনুশাসন অনুযায়ী আমরা আমদানি পর্যায়ে চালের উপর আমদানি শুল্ক-কর বৃদ্ধি করেছি।’

ব্রেকিংনিউজ/এমআর

bnbd-ads
MA-in-English
bnbd-ads