কন্টেইনার জটে নাকাল চট্টগ্রাম বন্দর

স্টাফ করেসপনন্ডেন্ট, চট্টগ্রাম
১১ জুলাই ২০১৯, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: ০৩:১৯ আপডেট: ০৩:৩৯

কন্টেইনার জটে নাকাল চট্টগ্রাম বন্দর

চট্টগ্রামে গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণের ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার কারণে কন্টেইনার জটে নাকাল চট্টগ্রাম বন্দর। বুধবার (১১ জুলাই) সকাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার ছিল ৪৪ হাজার ২৬১টি । এর মধ্যে রয়েছে আমদানি, রফতানি, নিলামযোগ্য পণ্যভর্তি ও খালি কনটেইনার। বন্দরের কন্টেইনার ধারণ-ক্ষমতা রয়েছে ৪৯ হাজার ১৮টি।

বাজেটোত্তর শুল্কহার বৃদ্ধির ফলে আমদানিকারকদের কিছু পণ্য খালাসে ধীরগতি, জলাবদ্ধতার কারণে তীব্র যানজট, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সফটওয়্যারের আপগ্রেডেশন, হ্যান্ডলিং ইক্যুইপমেন্ট নষ্ট থাকায় কনটেইনার ডেলিভারি কমে যাওয়ার ফলে বেড়েছে কন্টেইনার জট।

বন্দরের পরিবহন বিভাগ সূত্র জানায়, বুধবার সকাল আটটা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় বন্দরে হ্যান্ডলিং হয়েছে ৭ হাজার ৩৯ কনটেইনার। এর মধ্যে আমদানি পণ্যবাহী কনটেইনার জাহাজ থেকে নামানো হয়েছে ৪ হাজার ৩৮২টি। বাকি ২ হাজার ৬৫৭টি কনটেইনার জাহাজে তোলা হয়েছে। এ সময় ডেলিভারি হয়েছে ৪ হাজার ১১৯টি। আগের দিন মঙ্গলবার (৯ জুলাই) ডেলিভারি হয় ৩ হাজার ৭৩৪টি। বর্তমানে জেটিতে ১০টি কনটেইনার জাহাজে হ্যান্ডলিং কাজ চলছে। বহির্নোঙরে অপেক্ষমাণ রয়েছে ১২টি কনটেইনার জাহাজ।

বৈরী আবহাওয়াতে বন্দরের বহির্নোঙরে (বঙ্গোপসাগরে) বড় জাহাজের পাশে বেঁধে ছোট জাহাজে খোলা পণ্য খালাস (লাইটারিং) বন্ধ থাকলেও জেটি বা বার্থে কনটেইনার হ্যান্ডলিং স্বাভাবিক ছিল। 
বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশনের (বিকডা) মহাসচিব রুহুল আমিন সিকদার বলেন, ‘‘বুধবার বন্দর সূত্রে জানতে পেরেছি অফডকমুখী সাড়ে ৪ হাজার টিইইউ’স কনটেইনার বন্দরে জমে আছে। বন্দরের ২৫ কিলোমিটারের মধ্যে ১৯টি অফডকে ৩৭ আইটেমের আমদানি পণ্যভর্তি কনটেইনারগুলো নিয়ে যেতে হবে। পাশাপাশি তৈরি পোশাকসহ রফতানি পণ্যভর্তি কনটেইনার বন্দরে শিপমেন্টের জন্য পৌঁছাতে হবে। কিন্তু জলাবদ্ধতা, তীব্র যানজট আর অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড আপগ্রেডেশনের কারণে কিছুটা হিমশিম খেতে হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘পোর্ট কানেকটিং রোডে একপাশে যান চলাচল বন্ধ রাখায় যেমন সমস্যা হচ্ছে তেমনি ফৌজদারহাট থেকে বন্দর পর্যন্ত টোল রোড দুই লেনের হওয়াতে সমস্যা হচ্ছে।’

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল জুলফিকার আজিজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘বন্দরে কনটেইনার জট হওয়ার শঙ্কা নেই। নতুন ইয়ার্ড সম্প্রসারণ করায় প্রকৃতপক্ষে আমাদের কনটেইনার ধারণক্ষমতা ৫৫ হাজার টিইইউসের বেশি। নতুন চারটি কিগ্যান্ট্রি ক্রেন চীন থেকে শিপমেন্ট হয়ে গেছে। আশাকরি চলতি মাসে বন্দরে পৌঁছাবে। বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টির কারণে এলসিএল কনটেইনার ইয়ার্ডে খুলে ট্রাকে ডেলিভারিতে কিছুটা সমস্যা ছিল। নিলামযোগ্য কনটেইনার দ্রুত খালি করার জন্য তাগাদা দিয়েছি। আমাদের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) অপারেশনে গেলে, নতুন গ্যান্ট্রি ক্রেন চারটি যুক্ত হলে বন্দরের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সক্ষম হবো।’

ব্রেকিংনিউজ/জেএম/জেআই