হু হু করে বাড়ছে পেঁয়াজের দাম, সচিব বললেন, ‘আতঙ্কের কিছু নেই’

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার
প্রকাশিত: ০৯:০৬

হু হু করে বাড়ছে পেঁয়াজের দাম, সচিব বললেন, ‘আতঙ্কের কিছু নেই’

চলতি মাসের শুরু থেকে বাজারে ব্যাপক হারে বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। ৪০-৫০ টাকার থেকে হঠাৎ করে ৮০-৯০ টাকায় পৌঁছায় পেঁয়াজের কেজি প্রতি দাম। মাসের শেষের দিকে দাম কিছুটা কমতে শুরু করলেও ভারতের পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ ঘোষণার পরপরই হু হু করে বাড়ছে পেঁয়াজের দাম।

রবিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক বাণিজ্য শাখা বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ ঘোষণা করে। সঙ্গে সঙ্গে হিলি বন্দরের ব্যবসায়ীরাও তাদের কাছে থাকা পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি করে দেয়।

এর পরের দিন সকালেই রাজধানী ঢাকায় এর প্রভাব পড়ে। সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল পর্যন্ত রাজধানীর কিছু এলাকায় ৭০/৮০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ পাওয়া গেলেও সন্ধ্যা হতে হতে পেঁয়াজের মুল্য ১০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। যেসব দোকানে পেঁয়াজ মিলছে তারা কেউ ১০০ টাকা আবার কেউ ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন। 

বিকেলের দিকে রাজধানীর বিভিন্ন পাইকারি বাজারে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজিতে। ভারত ও মিয়ানমার থেকে আসা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে। তবে খুচরা বাজারে দেশি আর ভারতীয় পেঁয়াজের দামের কোনো ভেদাভেদ নেই। সব পেঁয়াজই এখন কেজিপ্রতি ১০০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে বাণিজ্য সচিব মো. জাফর উদ্দীন বলেছেন, ‘বাংলাদেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ পেঁয়াজ মজুদ আছে। তাই ভারতের পেঁয়াজ রফতানি বন্ধে দেশের বাজারে নেতিবাচক কোনো প্রভাব পরবে না। সুতরাং দাম নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই।’

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘দেশি পেঁয়াজ এখন আর কাউকে মজুত করতে দেওয়া হবে না। পেঁয়াজ পচনশীল, সে কারণে যার কাছে যে পরিমাণ পেঁয়াজ আছে তা বাজারে ছাড়ুন।’

বাণিজ্য সচিব বলেন, ‘পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পেঁয়াজ উৎপাদনশীল এলাকা বিশেষ করে পাবনা, ফরিদপুর এবং উত্তরবঙ্গে ১০ জন যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে ১০টি টিম ইতোমধ্যে রওনা হয়ে গেছে। তারা এইসব এলাকায় কেউ যেন অসৎ উদ্দেশ্যে পেঁয়াজের সঙ্কট সৃষ্টির জন্য মজুত করতে না পারে সেটি তদারকি করবে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলার ডিসিদের এই টিমের সঙ্গে যুক্ত থেকে সার্বিক উদ্যোগ গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে।’

ড. মো. জাফর উদ্দিন বলেন, ‘ইতোমধ্যে মিশর থেকে দুটি পেঁয়াজবাহী জাহাজ বন্দরে এসে পৌঁছেছে এবং সেটি খালাস হয়েছে। তুরস্ক থেকেও আমদানি করা পেঁয়াজ আসছে। এছাড়া মিয়ানমার থেকে বর্ডার ট্রেডের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত পেঁয়াজ আসছে। এলসির মাধ্যমেও মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আসছে।’

প্রসঙ্গত, মোট চাহিদার প্রায় ৬০-৭০% পেঁয়াজ প্রতি বছর উৎপাদন হয় বাংলাদেশে। বাকিটা আমদানি করতে হয়। যা পুরোপুরি ভারতের ওপরই নির্ভরশীল। যদিও সম্প্রতি মিশর, তুরস্ক ও মিয়ানমার থেকেও স্বল্প পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানি শুরু করেছে সরকার। ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে বিদেশ থেকে প্রায় ১০ লাখ ৯২ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি করেছে বাংলাদেশ।

ব্রেকিংনিউজ/ এসএ