কৃত্রিম সংকটে কয়েকগুণ বেড়েছে পেঁয়াজের দাম, জনগণের নাভিঃশ্বাস

নিউজ ডেস্ক
১ অক্টোবর ২০১৯, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: ১০:৩৯ আপডেট: ০২:৩৫

কৃত্রিম সংকটে কয়েকগুণ বেড়েছে পেঁয়াজের দাম, জনগণের নাভিঃশ্বাস

সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকেই দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম নিয়ে অস্থিরতা শুরু হয়। দেখতে দেখতে সেই পেয়াজের দাম দুই সপ্তাহের ব্যবধানে এখন দ্বিগুণ তিনগুণ। ক’দিন আগেও যে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৪০-৪৫ টাকা কেজি দরে সেই পেঁয়াজের দাম কয়েক গুণ বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ১২০-১২৫ টাকা টাকা কেজি দরে। কেউ কেউ সুযোগ বুঝে ১৩০ টাকা কেজি দরেও বিক্রি করছেন পেঁয়াজ। বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও ব্যবসায়িরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দাম হাঁকাচ্ছেন। আর তাতে নাভিঃশ্বাস উঠেছে সীমিত আয়ের মানুষদের, খেটে খাওয়া নিম্নবিত্তদের। 

সম্প্রতি ভারতের মুম্বাইয়ে প্রচুর পরিমাণ পেঁয়াজ নষ্ট হওয়ায় দেশটি বাংলাদেশে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ করে দেয়। এ খবরে বাংলাদেশের বাজারে রাতারাতি বাড়তে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যের দাম। তবে বাজার স্থিতিশীল রাখতে এরইমধ্যে অন্যান্য দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে। গতকাল সোমবারও মিশর ও চীন থেকে আমদানিকৃত ৩ লাখ ৬৪ হাজার কেজি পেঁয়াজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে। কনটেইনারে করে আমদানি করা এসব পেঁয়াজ ইতোমধ্যে খালাসের প্রক্রিয়া চলছে। 

জেনি এন্টারপ্রাইজ, এন এস ইন্টারন্যাশনাল, হাফিজ করপোরেশন- এই তিন আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এসব পেঁয়াজ আমদানি করেছেন। প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, দেশের বাজার স্থিতিশীল রাখতে আরও কনটেইনারবাহী পেঁয়াজ বন্দরের পথে রয়েছে। 

এদিকে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, চীন পেঁয়াজ আমদানির প্রক্রিয়া শুরুর প্রায় ২৫ থেকে ৩০ দিন পর সেগুলো দেশে পৌঁছে। পেঁয়াজে বাজার স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে বিকল্প উৎস হিসেবে এখন চীন ও মিশর থেকে পেঁয়াজ আমদানি করছেন তারা। 

গতকাল সোমবার রাজধানী ঢাকার প্রায় প্রতিটি বাজারেই পেঁয়াজের কেজি ছিল ১২০-১৩০ টাকা। যার প্রয়োজন দুই কেজি পেঁয়াজ তিনি বাজারে এসে কিনছেন আধা কেজি। 

খুচরা বিক্রেতারা জানান, ১৫ দিন আগেও তারা ৪৫ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি করেছেন। সেই পেঁয়াজের দাম বেড়ে হয়েছে ৭০ টাকা। হঠাৎ আড়তদারেরা ‘ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ’ বলে পেঁয়াজের দাম রাখছেন ১১০ টাকা কেজি। তাই খুচরা বাজারে তারা বিক্রি করছেন ১২০ টাকা কেজিতে। 

ভারত পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ করলেও সরেজমিনে দেখা যায়, গত সপ্তাহেও হিলি স্থল বন্দর দিয়ে ৩ হাজার টন ভারতীয় পেঁয়াজ বাংলাদেশে ঢুকেছে। ফলে পেঁয়াজের মজুদ যে একেবারেই নেই তা কারও পক্ষেই মেনে নেয়া সম্ভব নয়। 

এদিকে মজুদ থাকা সত্ত্বেও যারা দ্বিগুণ-তিনগুণ দামে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন তাদের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার থেকে অভিযান শুরু হচ্ছে। বাড়তি দাম হাঁকানোয় গতকালও দেশের কোথাও কোথাও আরতদারদের জরিমানা করা হয়েছে। 

গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন পাইকারি বাজারে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজিতে। ভারত ও মিয়ানমার থেকে আসা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে। দেশি কিংবা আমদানিকৃত- সব পেঁয়াজই এখন কেজিপ্রতি ১০০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজার, শান্তিনগর, ফকিরাপুল, হাতিরপুল, মগবাজারসহ প্রায় প্রতিটি বাজারেই এখন এক অবস্থা। পেঁয়াজ মানেই ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি। 

কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়িরা বলছেন, গত রবিবার বিকেল পর্যন্ত তারা ৭২ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি করেছেন। সন্ধ্যায় দাম বেড়ে হয়েছে ৮০ টাকা। কিন্তু বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে বলে সোমবার থেকে তারা পেঁয়াজ বিক্রি করছেন ১০৫-১১০ টাকা কেজি দরে।

এদিকে গত রবিবার ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় রফতানি নীতি সংশোধন করে পেঁয়াজকে রফতানি নিষিদ্ধ পণ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। দেশটির ওই সিদ্ধান্ত ওইদিনই কার্যকর হয়। তার মানে ভারত সরকার পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত দেশটি কোনও দেশেই পেঁয়াজ রফতানি করতে পারবে না। 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, প্রবল বন্যা ও ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে ভারতে এবার পেঁয়াজের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এছাড়া উৎপাদিত অনেক পেঁয়াজও সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়েছে। যার কারণে দেশটি নিজেদের চাহিদা না মিটিয়ে বাইরের দেশে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করেছে। 

তবে বাংলাদেশের এক শ্রেণির ব্যবসায়িরা মনে করেন, অসাধু আরতদাররা যদি মজুদ থাকা সত্ত্বেও পেঁয়াজের কৃত্রিম সংকট তৈরি না করেন তবে পেঁয়াজের দাম বাড়লেও এতটা বাড়ার কথা নয়। সাধারণ মানুষ সীমিত আয়ের মানুষেরাও চায়, এ ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের আন্তরিক ও দ্রুত হস্তক্ষেপ। 

ব্রেকিংনিউজ/এমআর