bnbd-ads
bnbd-ads

আলোকিত মানুষ হওয়ার স্বপ্ন দেখে ওরা

সোহেল রশিদ, রংপুর
১৮ মে ২০১৯, শনিবার
প্রকাশিত: ০৪:৩৭

আলোকিত মানুষ হওয়ার স্বপ্ন দেখে ওরা

অভাব ও দারিদ্রতা আর নানা প্রতিকূলতার সাথে লড়াই করে জীবনযুদ্ধে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার ৬ অদম্য মেধাবীদের চোখে মুখে। এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় ভালো ফল করেও উচ্চ শিক্ষা কিভাবে গ্রহণ করবে, অর্থের যোগান হবে কীভাবে সে চিন্তায় ওদের তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। কারণ, তাদের স্বপ্ন পূরণে এখন বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দারিদ্রতা। সমাজের বিত্তবানদের একটু সহানুভুতিই পারে এই ৬ অদম্য মেধাবীদের আলোকিত মানুষ হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে।

আ. জব্বার: পেটে ভাত জোটে না, পরনে চাহিদা মতো কাপড় থাকেনা। দারিদ্রতা আর নানা প্রতিকূলতার সাথে যুদ্ধ করে কাউনিয়ার হারাগাছ দরদী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে আ. জব্বার। জেএসসি পরীক্ষাতেও গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছিল সে। উপজেলার সারাই জাগরণ পাড়া গ্রামের বিড়ি শ্রমিক সাদেকুর রহমান ও গৃহিণী মোছা. নাদিরা বেগমের পুত্র সে। তারা ২ ভাই ২ বোন। ৫ শতক বাড়ি ভিটা ছাড়া আর কোনো সম্পত্তি নাই বলে জানা গেছে। 

মোনায়েম হোসেন: কাউনিয়া উপজেলার খানসামা ইমামগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে অংশ নিয়ে জিপি এ-৫ পেয়েছে মোনায়েম হোসেন। উপজেলার নাজিরদহ গ্রামের গুড়া-ভূষির দোকানী আ. মতিন ও গৃহিণী মমতাজ বেগম এর পুত্র সে। চরম অর্থ সংকটের মাঝেও এবার এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে সে। পিইসি ও জেএসসিতে সে জিপিএ-৫ পেয়েছিল। দারিদ্রতার সাথে লড়াই করে এসএসসি পাস করলেও উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ নিয়ে এখন দুঃচিন্তায় পড়েছে মোনায়েম হোসেন। তার এক বোন ও ভাই পড়ালেখা করে। বড় বোন ইন্টারে পড়ে । তাদের শিক্ষার খরচ জুটবে কিভাবে এচিন্তায় বিভোর তার বাবা-মা। সে এতো দিন পড়াশুনার খরচ চালিয়েছে বিভিন্ন বাড়িতে প্রাইভেট পড়িয়ে। জমি জিরাত যা ছিল তা সব রাক্ষুসী তিস্তা নদী গিলে খেয়েছে। তাদের বাড়ি-ভিটা ছাড়া এখন আর কিছু নেই। 

খাদিজাতুল কোবরা: শারিরীক প্রতিবদ্ধী শ্রমিক মো. খলিলুর রহমানের কন্যা খাদিজাতুল কোবরা পিইসি ও জেএসসির পরীক্ষার ন্যায় চলতি বছর কাউনিয়া মোফাজ্জল হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষার অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে। ভিটেমাটি ছাড়া কোন জমিজমা নেই তাদের। অন্যের সামান্য জমি বর্গা নিয়ে চাষ করে তার পিতা। ৪ বোন, পিতা ও সৎ মাতাকে নিয়ে তাদের সংসার। ৪ বোনই বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করে। ৪ বোনের মধ্যে সে মেঝ। সে অভাবের কারণে টুপি সেলাইয়ের কাজ করে বই খাতা কলম কিনে চালাত তার লেখাপড়া। 

জেমি আক্তার: দারিদ্রতা ও অর্থ সংকট দমিয়ে রাখতে পারেনি কাউনিয়া উপজেলার হরিশ্বর গ্রামের জেমি আক্তারকে। চরম অর্থ সংকটেও জেমি এবার এসএসসি পরীক্ষায় কাউনিয়া মোফাজ্জল হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে অংশ দিয়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে। দারিদ্রতার সাথে লড়াই করে এসএসসি পাস করলেও উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ নিয়ে এখন দুঃচিন্তায় পড়েছে জেমি। বাড়ি-ভিটা ছাড়া কোনও জমি-জিরাত নেই তাদের। ওরা ৩ বোন, সবাই পড়ালেখা করে। 

আসিব হাসান: দরিদ্র শ্রমিক পিতার সন্তান প্রমাণ করেছে ইচ্ছা থাকলে সফলতা অর্জন করা সম্ভব। কাউনিয়ার টেপামধুপুর ইউনিয়নের বাজেমসকুর গ্রাম থেকে ৮ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে প্রতিদিন সাইকেলে করে পীরগাছা উপজেলার রংনাথ দাখিল মাদ্রাসায় যেত আসিব। ওই মাদ্রাসা থেকে থেকে মানবিক বিভাগ থেকে দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে আসিব। বাজেমসকুর গ্রামের চা দোকানি আনোয়ার হোসেনও মাতা আয়েশা বেগমের পুত্র সে। ৭ শতাংশ জমিতে নিজস্ব বসতভিটা ছাড়া আর কিছু নেই তাদের। 

জাহাঙ্গীর আলম: পেটে ভাত জোটে না, পরনে চাহিদা মতো কাপড় থাকেনা। দারিদ্রতা আর নানা প্রতিকূলতার সাথে যুদ্ধ করে পীরগাছা উপজেলার রংনাথ দাখিল মাদরাসা থেকে দাখির পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে জাহাঙ্গীর আলম। সে কাউনিয়া উপজেলার বাজেমসকুর গ্রামের দিনমজুর নজরুল ইসলাম ও গৃহিনী মোছা. খাদিজা বেগমের পুত্র। জাহাঙ্গীরের আরেকটি ভাই রয়েছে। ৫শতক  ভিটা ছাড়া তাদের আর কিছু নেই। বাবার দিনমজুরির আয়ে চলে সংসার, আর ২ ভাইয়ের পড়া লেখা। বিভিন্ন বাড়িতে প্রাইভেট পড়িয়ে এতোদিন তার পড়ার খরচ জুগিয়েছে সে।

ব্রেকিংনিউজ/এসআর/জেআই