ডেপুটেশনে এসে বছরের পর বছর তারা রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৮ মে ২০১৯, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: ১১:২৫ আপডেট: ০৩:৩৬

ডেপুটেশনে এসে বছরের পর বছর তারা রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ পেশায় একজন সরকারি কলেজের শিক্ষক। মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক তিনি। এ পেশা থেকে তাকে সরিয়ে ২০১৪ সালের ১০ জুলাই রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সচিব পদে পদায়ন করা হয় (ডেপুটেশনে)। একই পদে আড়াই বছর দায়িত্ব পালন করার পরে তাকে এই শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে পদন্নোতি দেওয়া হয়। এর পরেও কেটে গেছে তিন বছরেরও অধিক সময়। কিন্তু এখনো তাকে আর ফিরিয়ে নেওয়া হয়নি শিক্ষকতা পেশায়। শুধু তিনিই নন, তার মতো এই শিক্ষা বোর্ডে আরও দুজন কর্মকর্তা বছরের পর বছর ধরে শিক্ষকতা পেশা ছেড়ে এসে প্রশাসনিক কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। তারা হলেন, ভারপ্রাপ্ত সচিব ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আনোয়ারুল আলম প্রামাণিক এবং বিদ্যালয় পরিদর্শক দেবাশিষ রঞ্জন রায়।

এদের মধ্যে আনোয়ারুল আলম প্রামাণিক প্রায় ৯ বছর ধরে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে রয়েছেন শিক্ষকতা পেশা ছেড়ে এসে। তিনি ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক হলেও শিক্ষা বোর্ডে প্রথমে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, পরে সচিব এবং পরবর্তিতে আবারো পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক করা হয়। সম্প্রতি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের পাশাপাশি তিনি সচিবের শূন্য পদে ভারপ্রাপ্ত সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মউশি) নিয়মানুযায়ী একজন শিক্ষা ক্যাডারের একজন শিক্ষক ডেপুটেশনে তিন বছরের বেশি কোথাও চাকরি করতে পারবেন না। কিন্তু এই নিয়ম লঙ্ঘন করে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের এই তিন কর্মকর্তা বছরের পর বছর ধরে একই স্থানে চাকরি করে যাচ্ছেন। কখনো পদন্নোতি হয়ে আবার কখনো পদানবিত হয়ে তারা একই স্থানে রয়েছেন। ফলে তারা মূল পেশায় না থাকায় ওই বিভাগের শিক্ষার্থীরা যেমন তাদের নিকট থেকে জ্ঞান আহরণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তেমনি প্রশাসনিক শৃঙ্খলাও বিঘ্ন ঘটছে।

এদিকে এরই মধ্যে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির ব্যাপক অভিযোগ ওঠে সম্প্রতি। এ নিয়ে দুদকও তদন্ত নামে। আবার একই বোর্ডের অপর একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সম্প্রতি চেক জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে। ওই কর্মকর্তাও শিক্ষা ক্যাডার থেকে ডেপুটেশনে এসে দায়িত্ব পালন করেন রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে।

বোর্ডের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, ডেপুটেশনে আসা শিক্ষকরা বছরের পর বছর শিক্ষা বোর্ডে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নানা অনিয়মের আশ্রয় নিচ্ছেন। এ নিয়ে প্রতিবাদ করতে গেলেও বোর্ডের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়। ফলে প্রকাশে কেউ প্রতিবাদ করতেও সাহস পান না। আবার বছর দুয়েক আগে বর্তমান বোর্ড চেয়ারম্যানের সঙ্গে কর্মচারীদের হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে এসব নিয়ে। এ নিয়ে থানায় মামলা-মোকাদ্দমাও হয়।

শিক্ষা বোর্ডের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সচিব প্রায় ৯ বছর ধরে আছেন এখানে। এরই মধ্যে একবার তাকে পদানবতি করা হয়। কিন্তু তার পরেও তিনি এখানেই থেকে গেছেন। তারও নানা কাণ্ডে শিক্ষা বোর্ডের কর্মকতা-কর্মচারীরা ব্যাপক ক্ষুব্ধ।

তবে আনোয়ারুল আলম প্রামাণিক বলেন, ‘সকল নিয়ম-নীতি মেনেই তিনি শিক্ষা বোর্ডে দায়িত্ব পালন করছেন। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সিদ্ধান্তেই তিনি শিক্ষা বোর্ডের দায়িত্ব পালন করছেন।’

শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, তিনি কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নন। এটি একটি মহল প্রচার করছে। শিক্ষা বোর্ডের উন্নয়নে তিনি বরং ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন। সবকিছু নিয়মমতোই চলছেই।

ব্রেকিংনিউজ/এমজি