ভালো ফল করার চেয়ে জরুরি ‘ভালো মানুষ’ হওয়া: রাজউক অধ্যক্ষ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৭ জুলাই ২০১৯, বুধবার
প্রকাশিত: ০৬:২০

ভালো ফল করার চেয়ে জরুরি ‘ভালো মানুষ’ হওয়া: রাজউক অধ্যক্ষ

রাজধানীর রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী শওকত আলম বলেছেন, ‘বিগত চার বছরের তুলনায় এবার রাজউক কলেজের ফলাফল সর্বোচ্চ। হয়তো ঢাকার সব কলেজগুলোর মধ্যে আমরা সেরা।’

বুধবার (১৭ জুলাই) দুপুরে ফলাফল ঘোষণার কিছু সময় পরে মাঠে নেমে আসেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী শওকত।

তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল এটি। তবে ভালো ফল করার চেয়ে জরুরি ভালো মানুষ হওয়া। আশা করছি, ভালো করা শিক্ষার্থীরা সুন্দর মানুষ হয়ে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করবে।’

রাজউক কলেজে পড়ালেখার পাশাপাশি নেতৃত্ব দেয়া, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় নিজেকে প্রমাণ করার অনুপ্রেরণাও দেয়া হয় বলে বক্তৃতায় উল্লেখ করেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী শওকত আলম।

তিনি আরও বলেন, ‘এ ফলাফল মূলত তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্যই। প্রতিটি শিক্ষার্থী পড়াশোনায় অনন্য। ভালো ফলাফল করার চেয়ে জরুরি ভালো মানুষ হওয়া। আশা করছি, ভালো করা শিক্ষার্থীরা সুন্দর মানুষ হয়ে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করবে। ছাত্রছাত্রীদের মেধার মান সব বছর সমান হবে না। কমবেশি হতে পারে।’



রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে শতভাগ পাস করেছে। শুধু তাই নয়, ১ হাজার ১২২ জন শিক্ষার্থী এ প্লাস পেয়েছেন এই প্রতিষ্ঠান থেকে। যা গত চার বছরের তুলনায় সবচেয়ে বেশি।

এমন ফলাফলে কলেজ ক্যাম্পাসে বইছে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস। আনন্দ ভাগাভাগি করতে শিক্ষার্থীরা ছুটে এসেছেন কলেজ প্রাঙ্গণে। পাস করা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে রাজউকের বর্তমান শিক্ষার্থীরাও।

প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, ২০১৯ সালে রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ থেকে ১ হাজার ৫৮৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সবাই উত্তীর্ণ হয়েছেন। পাসের হার শতভাগ। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ১২২ জন শিক্ষার্থী। জিপিএ-৫ বেড়েছে ৩৬৭টি।

এ সময় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের কলেজ প্রাঙ্গণে ব্যাপক আনন্দ উল্লাসে মেতে থাকতে দেখা যায়। অনেকেই ঢাকঢোল পিটিয়ে আনন্দে মেতে উঠেছেন। নেচে গেয়ে ফল উদযাপন করছেন। 

এ প্লাস পাওয়া এক শিক্ষার্থী উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে ব্রেকিংনিউজকে বলেন, শুধু ইংরেজির জন্য গোল্ডেন পেতে পারিনি। তবে তাও ভালো লাগছে। সবাই মিলে আনন্দ করছি।

একই ফলাফল করা আরেক শিক্ষার্থী নাবিলা মাহমুদা খানম ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘আমি অনেক খুশি। আমার মা-বাবার দোয়ায় আমার ইচ্ছা পূরণ হয়েছে। আমি উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে দেশের জন্য কাজ করতে চাই।’

নওশীন তারান্নুম স্বপ্নিল নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমি গোল্ডেন এ প্লাস পেয়েছি। আমি ডাক্তার হতে চাই।’

ব্রেকিংনিউজ/ টিটি/ এসএ