আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাটে উপচে পড়া ভিড়

শাহজাহান বিশ্বাস, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
৯ আগস্ট ২০১৯, শুক্রবার
প্রকাশিত: ০৬:০৯ আপডেট: ০৯:৪৪

আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাটে উপচে পড়া ভিড়

পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র তিন দিন বাবি। শুক্রবার (৯ আগস্ট) ও শনিবার (১০ আগস্ট) সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় অনেক যাত্রীরা নাড়ির টানে বাড়ি যেতে শুরু করেছে। ফলে মানিকগঞ্জের আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাটে দুপুরের পর থেকে  যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। বিশেষ করে লঞ্চ ও স্পিডবোট ঘাট এলাকায় যাত্রীদের ভিড় বেশি দেখা গেছে। 

দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলের শিশু, নারী, পুরুষসহ হাজার হাজার মানুষ পার হচ্ছে এ দু’টি ঘাট দিয়ে। এসব যাত্রীদের নিরাপদে পারের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক লঞ্চ, ফেরি, স্পিডবোটসহ  সকল ধরনের নৌযান প্রস্তুুতি রয়েছে বলে জানা গেছে।  

বিআইডব্লিউটিএ’র আরিচা অফিস সূত্রে জানা গেছে, যাত্রীদের চাপ সামলাতে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া, আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে ৩২টি লঞ্চ, স্পিডবোট প্রায় ১শ ও ২০টি ফেরি এবং শতাধিক ট্রলার  রয়েছে। তবে ফেরি ও লঞ্চ ছাড়া ট্রলারসহ অন্যান্য নৌযান চলাচলের কোনও বৈধতা নেই। 

এদিকে বর্ষা মৌসুমে পদ্মা উত্তাল রয়েছে। জানমালের নিরাপত্তার লক্ষ্যে লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্তেও লঞ্চগুলো ওভার লোড করে চলাচল করছে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। 

শুক্রবার দুপুরে আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাটে গিয়ে দেখা গেছে লঞ্চ, স্পিডবোট ও স্যালো নৌকাগুলো ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় নদী পাড়ি দিচ্ছে। 

কিছু যাত্রীরা অভিযোগ করে বলেন, ‘এখন থেকেই গাড়িগুলো বাড়তি ভাড়া আদায় করতে শুরু করেছে।’ তবে এ অভিযোগ গাড়ির চালকরা অস্বীকার করেছে।

প্রতিবছরের ন্যায় এবারও ঈদের সময় দূরপাল্লার বাস, মাইক্রোবাসগুলো দ্বিগুণেরও বেশি ভাড়া আদায় করছে। এ ব্যাপারে কতৃপক্ষ তেমন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এবারও বাড়তি ভাড়া আদায় করছেন এসব গাড়ির চালকরা, এমন অভিযোগ অনেক যাত্রীদের।

এদিকে যাত্রীদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও ভোগান্তি দূর করতে ঘাট এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহীনির তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। রয়েছে র‌্যাব ও গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক দল। এছাড়া যে কোনো ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধ করতে রয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। মহাসড়কে যানজট নিরসনে রয়েছে হাইওয়ে পুলিশের টহল।এছাড়া রাস্তার মোড়ে মোড়ে রয়েছে পুলিশের একাধিক টিম।

এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক এসএম ফেরদৌস বলেন, ‘যাত্রীরা নির্বিঘ্নে এ রুট দিয়ে বাড়ি যেতে পারবেন এ প্রত্যাশা আমাদের সকলের।  যাত্রীদের ভোগান্তি যাতে না হয় সে জন্য আমরা সজাগ দৃষ্টি রাখছি। যাত্রীদের নিরাপত্তা দিতে ঘাট এলাকায় প্রশাসনের লোকজন সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট, চিকিৎসকের সমন্বয়ে মেডিক্যাল টিম সার্বক্ষণিক দায়ীত্ব পালন করছে। যে কোনো ধরনের নৈরাজ্য অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।’

ব্রেকিংনিউজ/জেআই

bnbd-ads