ভারতরত্ন প্রত্যাখ্যান ভূপেন হাজারিকার পরিবার

বিনোদন ডেস্ক
১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: ০২:৪১

ভারত সরকারের দেওয়া ভারতের রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মান ভারতরত্ন প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রয়াত সঙ্গীতশিল্পী ভূপেন হাজারিকার ছেলে তেজ হাজারিকা। বিতর্কিত নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিল ২০১৬-র প্রতিবাদে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে ভারতীয় গণমাধ্যমকে জানান তিনি। 

গেল ২৬ জানুয়ারি ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে এই সম্মান প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে গতকাল সোমবার ভূপেন হাজারিকার একমাত্র ছেলে তেজ ভূপেন হাজারিকা ভারতের গণমাধ্যমকে জানান, ‘আমি আসামের বর্তমান পরিস্থিতি জানি। ভূপেন হাজারিকা সব সময় আসামের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আসামের হয়ে লড়াই ও আন্দোলন করেছেন। তাই আমরা এই সম্মান গ্রহণ করতে অস্বীকার করছি। ছেলে হিসেবে আমি জানাচ্ছি, ভারত সরকার বাবাকে যে মরণোত্তর সম্মান প্রদর্শন করছে, তা আমরা গ্রহণ করছি না।’

আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের ছয় সংখ্যালঘু গোষ্ঠীকে নাগরিকত্ব প্রদানের লক্ষ্যে নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিল ২০১৬, ভারতের রাজ্যসভার বর্তমান অধিবেশনে আজ উপস্থাপিত হতে পারে। ভারতে ছয় বছরের অধিক সময় ধরে বসবাস করছেন এমন অভিবাসীদের দেশের নাগরিকত্ব প্রদানের ব্যবস্থা নিয়েছে ভারত সরকার।  মূলত এরই প্রতিবাদ করছেন হাজারিকার ছেলে।

ভূপেন হাজারিকার জন্ম আসামে ১৯২৬ সালে। ৮৫ বছর বয়সে ২০১১ সালে তিনি মারা যান। জীবনের বিভিন্ন সময়ে অসমিয়া, বাংলা, হিন্দিসহ বিভিন্ন ভাষায় গান গেয়েছেন। 

বাংলাদেশ, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গে ভূপেন হাজারিকার জনপ্রিয়তা ছিল ব্যাপক। অসমীয়া ভাষা ছাড়াও বাংলা ও হিন্দি ভাষাতেও তিনি সমান পারদর্শী ছিলেন এবং অনেক গান গেয়েছেন। অবশ্য এসব গানের অনেকগুলোই মূল অসমীয়া থেকে বাংলায় অনূদিত। তার গানে মানবপ্রেম, প্রকৃতি, ভারতীয় সমাজবাদের, জীবন-ধর্মীয় বক্তব্য বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়। এছাড়াও, শোষণ, নিপীড়ন, নির্যাতনের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ প্রতিবাদী সুরও উচ্চারিত হয়েছে বহুবার।

সঙ্গীতে অসামান্য অবদানের জন্য অনেক পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। তার উল্লেখযোগ্য পুরুস্কারগুলো হচ্ছে- ১৯৭৯ সালে অল ইন্ডিয়া ক্রিটিক অ্যাসোসিয়েশন পুরস্কার, ১৯৮৭ সালে অসম সরকারের শঙ্করদেব পুরস্কার, ১৯৯২ সালে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার, ১৯৯৩ সালে পদ্মভূষণ, ২০০১ সালে অসম রত্ন এবং ২০০৯ সালে সঙ্গীত নাটক একাডেমি পুরস্কার। প্রথম ভারতীয় হিসেবে জাপানে এশিয়া প্যাসিফিক আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুদালী ছবির শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালকের পুরস্কার অর্জন করেন তিনিই।।

ব্রেকিংনিউজ/অমৃ

bnbd-ads