নয়ন জুড়ানো ২০১ গম্বুজ মসজিদে একদিন

মাইদুল ইসলাম
২৭ জুলাই ২০১৯, শনিবার
প্রকাশিত: ০৯:২৮ আপডেট: ০৯:২৯

নয়ন জুড়ানো ২০১ গম্বুজ মসজিদে একদিন

ঘুমটা ভেঙে গেল রুমমেট জাহিদ, মোরসালিন, আর রজতের চেঁচামেচিতে। আগের দিনের পরিকল্পনা অনুযায়ী সকালেই টাঙ্গাইলের উদ্দেশে যাত্রা শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু সকালে রিমঝিম বৃষ্টিতে ঘুম কিছুতেই ভাঙছিল না। কিন্তু নাছড়বান্দা রুমমেটদের তাড়ায় আর বেডে শুয়ে থাকা হলো না। দ্রুতই রেডি হয়ে সকালের নাস্তা সেরে রুম থেকে বের হওয়ার পথই আরো অন্য সহকর্মীরা সঙ্গে জুটে গেলো। 

শুক্রবার (২৬ জুলাই) বিএডিসি ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের আবাসিক হল থেকে ২৫ জন সহকর্মীসহ যাত্রা শুরু টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার গোপালপুরের উদ্দেশে। চারটি ব্যাটারি চালিত অটোরিকশায় সহকর্মীরা চেপে বসলাম সবাই। সহকর্মীদের কণ্ঠে গানের তালে তালে এগিয়ে চললো গাড়ি। 

মিলিয়ে পিচ ঢালা পথের উপরে ছুটছে অটোরিকশা। পথে অটোরিকশায় মোরসালিনের স্বরচিত কবিতা, বিপুলের কৌতুক, মুস্তাফিজ, প্রান্তষ, কামরুজ্জামান, সুমন, মতিয়ার, হাকিমসহ অন্য সহকর্মীদের কণ্ঠে গান শুনতে শুনতে সময় পার হচ্ছিল। সকাল সাড়ে এগারোটা নাগাদ আমরা পৌঁছে গেলাম গোপালপুরে নির্মাণাধীন ২০১ গম্বুজ মসজিদ প্রাঙ্গণে। এখানে এসে সহকর্মীরা মসজিদটির প্রথম দর্শনেই অভিভূত, অবাক ও মুগ্ধ। তারা কেউই আর এক মুহূর্ত অপেক্ষা করতে চাইল না। সবাই এই মনোমুগ্ধকর এ মসজিদের কারুকার্য দেখার জন্য মসজিদের ভিতরে এবং ছাদের উপরে প্রবেশ করলো। আমিও ছুটে চললাম তাদের পিছু পিছু।

নির্মাণাধীন সিঁড়ি বেয়ে মসজিদের ছাদে উঠলাম। ছাদে উঠে গম্বুজগুলোর দিকে তাকাতেই চোখ জুড়িয়ে যায়। সোনালী রঙ্গের গম্বুজগুলো রোদের চিকমিক করে চলছিল। মসজিদটির ছাদের মাঝখানে তৈরি করা হচ্ছে ৮১ ফুট উচ্চতার একটি বড় গম্বুজ। চারদিকে আছে ১৭ ফুট উচ্চতার ২০০টি গম্বুজ, যেগুলো এরই মধ্যে বিভিন্ন দামি পাথরে অলংকৃত করা হয়েছে। মূল মসজিদের চার কোণায় আছে ১০১ ফুট উচ্চতার চারটি মিনার। পাশাপাশি ৮১ ফুট উচ্চতার আরও চারটি মিনার তৈরি করা হয়েছে। মসজিদের দেয়ালের টাইলসে অঙ্কিত করা হচ্ছে পূর্ণ কোরআন এবং আল্লাহর ৯৯টি নাম, যা অনেকখানি সম্পন্ন হয়ে গেছে। যে কেউ বসে বা দাঁড়িয়ে মসজিদের দেয়ালে অঙ্কিত কোরআন পড়তে পারবেন।

মসজিদের ছাদে উঠে গম্বুজগুলোর দিকে তাকাতেই চোখ জুড়িয়ে যায়। ছাদে উঠে সহকর্মীরা বিভিন্ন জন বিভিন্ন দিকে ছুটছেন আর এর কারুকার্য দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন। সবাই উৎসাহিত এবং ফটোসেশনে ব্যস্ত সময় পার করতে লাগলো। আমিও সঙ্গী হলাম এতে। আনিছুরের পাকা হাতে অামরা সকলে ফ্রেমবন্দী হলাম।

মসজিদের কাজের সাথে জড়িত কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ১৫ বিঘা জমির উপর নির্মাণাধীন এই মসজিদের প্রধান দরজা নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে ৫০ মণ পিতল, আজান দেয়ার জন্য মসজিদের সবচেয়ে উঁচু মিনারে রয়েছে আলাদা রুম। নির্মাতাদের দাবি, এটিই বিশ্বের সবচেয়ে বেশি গম্বুজবিশিষ্ট এবং দ্বিতীয় উচ্চতম মিনারের মসজিদ হতে যাচ্ছে। 

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মসজিদটির নির্মাণ পর্যায়েই এটি সাধারণের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। স্থাপনাটি দেখতে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভিড় করছেন দর্শনার্থীর। এর মধ্যেই মসজিদটির নির্মাণ কাজ ৮০ ভাগ শেষ হয়েছে। 

মসজিদটিকে ঘিরে গড়ে উঠেছে একটি বাজার, যা এটি তৈরির আগে ছিল না। মসজিদটি দর্শনের মাঝে এই বাজারে আবদুল্লাহর চায়ের দোকানে সহকর্মী রাজু, বিপুল, হালিম, রাজ্জাকসহ অন্যদের নিয়ে চা, সিঙ্গারা, সামুচা খাচ্ছিলাম। চা খেতে খেতে কথা হয় আব্দুল্লাহর সঙ্গে। তিনি জানালেন, মসজিদটি নির্মাণের আগে এখানে কোনো বাজার ছিলোনা, কোনো দোকানপাট ছিলোনা। আস্তে আস্তে বাজারে পরিসর আরো বাড়ছে। বাজারকে ঘিরে অনেকেরই আয়-রোজগার হচ্ছে।

মসজিদটি ঘুরে দেখতে দেখতেই জুম্মার নামাজের সময় ঘনিয়ে এলো। জুমার নামাজ শেষে নাস্তা সেরে ধনবাড়ির নওয়াব হাসান আলী জমিদার বাড়ি দেখার উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। জমিদার বাড়ি দর্শন শেষে বিকেল নাগাদ সহকর্মীদের নিয়ে মধুপুরে বিএডিসি ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে ফিরে আসি। এমন একটি আনন্দমুখর স্মরণীয় দিন স্মৃতির মানসপটে রবে চিরকাল।

ব্রেকিংনিউজ/জেআই